চট্টগ্রামে শহীদজায়া প্রয়াত বেগম মুশতারী শফীকে ৮৯ তম জন্মদিনে গান, কবিতা ও কথামালার মধ্য দিয়ে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সংগঠকরা। এতে বিশিষ্টজনের বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালি সংস্কৃতিবিরোধী উগ্রবাদী অপশক্তিকে মোকাবেলা করে মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে এবং এজন্য মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল প্রগতিশীল সংগঠনকে একমঞ্চে এসে লড়াই শুরু করতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউটের হলরুমে শহীদজায়ার সুহৃদ-স্বজনদের উদ্যোগে এ স্মরণ অনুষ্ঠান হয়েছে।
উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের শিল্পীদের গানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। সিপিবি, উদীচী, খেলাঘর, তারুণ্যের উচ্ছ্বাস, বোধন, স্বপ্নযাত্রী, মহিলা পরিষদ, ফেইম, প্রজন্ম একাত্তর, চট্টগ্রাম নজরুল সঙ্গীত শিল্পীসংস্থা, অদিতি সঙ্গীত নিকেতন এবং প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদজায়ার প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।
বোধন আবৃত্তি পরিষদের সহ-সভাপতি প্রণব চৌধুরী ও তারুণ্যের উচ্ছ্বাসের সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় উদীচী চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক শীলা দাশগুপ্ত শহীদজায়ার জীবনী পাঠ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদজায়ার সন্তান মেহরাজ তাহসান শফী বক্তব্য রাখেন।

কথামালায় অংশ নেন, সিপিবির সাবেক সভাপতি গেরিলাযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহআলম, শ্রমিকনেতা তপন দত্ত, মুক্তিযোদ্ধা বালাগাত উল্লাহ, সাংবাদিক সুভাষ দে, প্রাবন্ধিক আলম খোরশেদ, শিশু সাহিত্যিক আ ফ ম মোদাচ্ছের আলী, জেলা সিপিবির সভাপতি অধ্যাপক অশোক সাহা, কবি কামরুল হাসান বাদল, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আয়ূব খান, জেলা মহিলা পরিষদ ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সিতারা শামীম, নারীনেত্রী রেখা চৌধুরী এবং অধ্যাপক সবুজ কান্তি দে।
আবৃত্তিশিল্পী অঞ্চল চৌধুরী, রাশেদ হাসান ও প্রণব চৌধুরী একক আবৃত্তি এবং শিল্পী মৃণালিনী চৌধুরী, দীপেন চৌধুরী ও রূপম কান্তি নাথ একক গান পরিবেশন করেন।
কথামালায় বিশিষ্টজনেরা বলেন, ‘সত্তরের দশকে মুক্তিসংগ্রাম থেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বেগম মুশতারী শফী ও তাঁর স্বামী ডা.শফীসহ পুরো পরিবারের অসামান্য অবদান আছে। মুক্তিযুদ্ধে স্বামী-ভাই হারানো মুশতারী শফী স্বাধীন দেশে আমৃত্যু যুদ্ধাপরাধী ঘাতক-দালালদের বিচারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন। সেই যুদ্ধাপরাধীদের দল ও তাদের উত্তরসূরীরা আজ আবারও বিষধর সাপের মতো ফণা তুলেছে। স্বাধীন বাংলাদেশকে তারা আবার পাকিস্তান বানাতে চায়। বাঙালি সংস্কৃতির চেতনা মুছে দিয়ে দেশকে উগ্রবাদী ধারায় নিয়ে যেতে চায়। এদের মোকাবেলা করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সকল রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনকে আবার এক হয়ে, এক মঞ্চে এসে রাজপথে নামতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হবে।’

