বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উদারপন্থী বনাম উগ্রপন্থীদের লড়াই : বিএনপির মহাসচিব

বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিবের এই মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কঠিন পরীক্ষা মনে করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব ও সিনিয়র নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর ভাষ্য, দেশ উদার না উগ্রপন্থিদের হাতে যাবে– তা নির্ধারিত হবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব ফখরুলের এ মন্তব্য আসে। তিনি বলেন, নির্বাচন আসছে। দেখা যাক কে কতটা ভোট পায়। সেজন্য আমরা ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। আমরা নির্বাচন চাই। আমরা জনগণের কাছে যাব। জনগণ যদি আমাদেরকে গ্রহণ করে আমরা আছি। আর যদি বাদ দেয় আমরা বিরোধী দলে থাকব, তাই না? আগে থেকে এত গলাবাজি কেন ভাই?

ফখরুল বলেন, আজকে আমাদের এই পরীক্ষাটা খুব কঠিন পরীক্ষা। এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে যে, এই দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেটদের হাতে থাকবে? নাকি আপনার সমস্ত উগ্রপন্থি রাষ্ট্রবিরোধী লোকজনের মধ্যে থাকবে? আমাদেরকে অবশ্যই সেই উদারপন্থি রাস্তা বেছে নিতে হবে, গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে, মানুষের কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে হবে। বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মহাসচিব বলেন, সে কারণেই আমাদের ৩১ দফা, আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব যে আট দফা দিয়েছেন আবার নতুন করে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মারস কার্ড– এই বিষয়গুলো জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরকে নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে। ধানের শীষকে যদি আমরা জয়যুক্ত করি তাহলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানানো হবে, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানানো হবে। জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতি করছেন, রাজনীতি করেন, সিধা রাস্তায় করেন। ধর্মকে ব্যবহার করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে, ভুল বুঝিয়ে নয়। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যেতে পারবে! চিন্তা করেন। তাহলে আর নামাজ পড়া, আল্লাহর কাছে কমপ্লিট সারেন্ডার করা, ঈমান আনা– এগুলো দরকার নাই, নাকি? আমাদের এখানে অনেক উলামা আছেন, তারা বলতে পারবেন।

সাতচল্লিশ ও একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এরা মুনাফিকি করে মানুষকে ভুল বোঝায়, তারা এই সমস্ত করে, বরাবর। আজকে না, পাকিস্তান যখন হয় ভারতবর্ষে, যখন স্বাধীন হচ্ছে, যখন যে যার লড়াই করছেন– মুসলমানদের আবাসস্থল পাকিস্তানের জন্য তখন তাদের নেতা মাওলানা মওদুদী আন্দোলন করেননি, বিরোধিতা করেছেন। আজকে বলতে বাধ্য হচ্ছি এসব কথা, কারণ তারা এই কথাগুলো আজকে বিভিন্নভাবে মিথ্যা প্রচার করেন। বিএনপি সবসময়ই দেশের পক্ষে কাজ করেছে দাবি করে মির্জা ফখরুল জামায়াতকে ইংগিত করে বলেন, দেখা যাবে ওরা নির্বাচনে কতটা ভোট পায়। যারা নির্বাচন নিয়ে হুমকি–ধামকি দিয়েছে, তাদের প্রতি ইংগিত করে তিনি বলেন, নির্বাচন হবে কিনা, নির্বাচন করতে দেব না– কত কী বলেছিল। ভেতরে ভেতরে খবর নিয়ে দেখেন তাদের তিনটা ভোট নাই। তারা বড় গলায় বলে নির্বাচন হতে দেবে না। নির্বাচন হোক, দেখা যাবে কে কতটা ভোট পায়।

প্রয়াত জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবনের কথা স্মরণ করে জনাব মির্জা ফখরুল বলেন, একজন অনন্য নেতা ছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বে আলাদা একটা ভূখণ্ড তৈরি হয়েছে এবং স্বাধীন একটা ভূখণ্ড তিনি এই জাতিকে উপহার দিয়েছেন। গত কয়েকদিন আগে আমাদের আরেকজন নেত্রী তার সমস্ত জীবন দিয়ে আমাদের জন্য কাজ করে গেছেন, আমাদের গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছেন, আমাদের পথ দেখিয়েছেন, সেই নেত্রীকে আমরা হারিয়েছি। এই দেশের কোটি মানুষ সেদিন সমবেত হয়েছিল ওই পার্লামেন্ট চত্বরে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা যখন আন্দোলন করছিলাম, তখনই আমরা এই রাষ্ট্রীয় সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিলাম। প্রথমে ম্যাডাম দিয়েছিলেন ২০১৬ সালে ভিশন–২০৩০, এরপরে আমাদের নেতা অন্যান্য দল বসে আলাপ করে ৩১ দফা দিয়েছেন। ৩১ দফায় কী ছিল, কি আছে? আজকে যে সংস্কারের কথা বারবার বলা হচ্ছে, সব পত্রিকা–রেডিও–টেলিভিশনে খুব প্রচার হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা থেকে সমস্ত উপদেষ্টা নেমে গেছেন প্রচারে… ভালো কথা। কিন্তু আমরা ২০২২ সালেই সংস্কারের কথা বলেছি। আমরা যা যা বলেছি সবগুলো আজকে এখানে আছে। অনেকে আমাদেরকে প্রশ্ন করে, আপনারা সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে। এটা (সংস্কার) তো আমারই সন্তান। আমি তো তার জন্য প্রাণ দিতে পারি। এই যে জিনিসগুলো (প্রশ্ন তোলা) সবসময় বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাকে কেউ যখন জিজ্ঞেস করে, আমি সোজাসোজি বলি যে এটা আমাদের ব্রেইন চাইল্ড। সংস্কার যেটুকু হয়েছে, সেখানে একমত হয়েছে সব রাজনৈতিক দল। অবশ্যই ‘হ্যাঁ’তে আছি। যেগুলোতে আমরা একমত হই নাই, সেগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছে (জুলাই সনদে), তারপরেও আমরা কিন্তু মেনে নিয়েছি। ঠিক আছে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে, জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের কাছে যেটা গ্রহণযোগ্য নয় সেটাও আমরা মেনে নিয়েছি।

সম্পর্কিত খবর

আগামী মাসে সরকারের ‘প্রবাসী কার্ড’ কর্মসূচির পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে

ছবি : সংগৃহীত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগ-সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, আগামী মাসে...

নগরবাসীর দুর্ভোগ কমাতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না : ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে অনুমোদিত নকশা ও ইমারত নির্মাণ বিধিমালা পর্যালোচনা করে নগরীর যানজট নিরসনে বেসরকারি হাসপাতাল গুলোর পার্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করণে মাঠে নেমেছে চট্টগ্রাম...

চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে দাবি নিয়ে স্মারকলিপি দিয়েছে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে পরীক্ষা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শুরু এবং যৌক্তিক বিরতি দিয়ে পরীক্ষার রুটিন তৈরি করার জন্য স্মারকলিপি দিয়েছেন বন্যা পরিস্থিতিতে...

প্রতি বছর ১ নভেম্বর জাতীয় যুব দিবস উদযাপন করা হবে : মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে সিদ্ধান্ত

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের ১৩তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে...

শাপলা কান্ডে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম : ছবি সংগৃহীত    ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় তদন্তে ৬১ জনের মৃত্যুর...

সরকারের লক্ষ্য ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা : অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী

চট্টগ্রাম : যে কোনো দুর্যোগের কঠিন সময়ে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাত এবং দেশের ব্যবসায়ী সমাজের ভূমিকা প্রশংসনীয়। তামাকুমন্ডি লেইন বণিক সমিতি যেভাবে দুর্গত মানুষের...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত