শুক্রবার, মার্চ ২০, ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উদারপন্থী বনাম উগ্রপন্থীদের লড়াই : বিএনপির মহাসচিব

বর্তমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিবের এই মন্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কঠিন পরীক্ষা মনে করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব ও সিনিয়র নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁর ভাষ্য, দেশ উদার না উগ্রপন্থিদের হাতে যাবে– তা নির্ধারিত হবে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে এক আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব ফখরুলের এ মন্তব্য আসে। তিনি বলেন, নির্বাচন আসছে। দেখা যাক কে কতটা ভোট পায়। সেজন্য আমরা ভোটের জন্য উন্মুখ হয়ে আছি। আমরা নির্বাচন চাই। আমরা জনগণের কাছে যাব। জনগণ যদি আমাদেরকে গ্রহণ করে আমরা আছি। আর যদি বাদ দেয় আমরা বিরোধী দলে থাকব, তাই না? আগে থেকে এত গলাবাজি কেন ভাই?

ফখরুল বলেন, আজকে আমাদের এই পরীক্ষাটা খুব কঠিন পরীক্ষা। এই নির্বাচনে নির্ধারিত হবে যে, এই দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেটদের হাতে থাকবে? নাকি আপনার সমস্ত উগ্রপন্থি রাষ্ট্রবিরোধী লোকজনের মধ্যে থাকবে? আমাদেরকে অবশ্যই সেই উদারপন্থি রাস্তা বেছে নিতে হবে, গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে, মানুষের কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে হবে। বিএনপির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে মহাসচিব বলেন, সে কারণেই আমাদের ৩১ দফা, আমাদের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সাহেব যে আট দফা দিয়েছেন আবার নতুন করে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মারস কার্ড– এই বিষয়গুলো জনগণের মধ্যে ছড়িয়ে দিয়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমাদেরকে নির্বাচনে ধানের শীষকে জয়যুক্ত করতে হবে। ধানের শীষকে যদি আমরা জয়যুক্ত করি তাহলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানানো হবে, আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানানো হবে। জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতি করছেন, রাজনীতি করেন, সিধা রাস্তায় করেন। ধর্মকে ব্যবহার করে, মানুষকে বিভ্রান্ত করে, ভুল বুঝিয়ে নয়। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যেতে পারবে! চিন্তা করেন। তাহলে আর নামাজ পড়া, আল্লাহর কাছে কমপ্লিট সারেন্ডার করা, ঈমান আনা– এগুলো দরকার নাই, নাকি? আমাদের এখানে অনেক উলামা আছেন, তারা বলতে পারবেন।

সাতচল্লিশ ও একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এরা মুনাফিকি করে মানুষকে ভুল বোঝায়, তারা এই সমস্ত করে, বরাবর। আজকে না, পাকিস্তান যখন হয় ভারতবর্ষে, যখন স্বাধীন হচ্ছে, যখন যে যার লড়াই করছেন– মুসলমানদের আবাসস্থল পাকিস্তানের জন্য তখন তাদের নেতা মাওলানা মওদুদী আন্দোলন করেননি, বিরোধিতা করেছেন। আজকে বলতে বাধ্য হচ্ছি এসব কথা, কারণ তারা এই কথাগুলো আজকে বিভিন্নভাবে মিথ্যা প্রচার করেন। বিএনপি সবসময়ই দেশের পক্ষে কাজ করেছে দাবি করে মির্জা ফখরুল জামায়াতকে ইংগিত করে বলেন, দেখা যাবে ওরা নির্বাচনে কতটা ভোট পায়। যারা নির্বাচন নিয়ে হুমকি–ধামকি দিয়েছে, তাদের প্রতি ইংগিত করে তিনি বলেন, নির্বাচন হবে কিনা, নির্বাচন করতে দেব না– কত কী বলেছিল। ভেতরে ভেতরে খবর নিয়ে দেখেন তাদের তিনটা ভোট নাই। তারা বড় গলায় বলে নির্বাচন হতে দেবে না। নির্বাচন হোক, দেখা যাবে কে কতটা ভোট পায়।

প্রয়াত জিয়াউর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবনের কথা স্মরণ করে জনাব মির্জা ফখরুল বলেন, একজন অনন্য নেতা ছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বে আলাদা একটা ভূখণ্ড তৈরি হয়েছে এবং স্বাধীন একটা ভূখণ্ড তিনি এই জাতিকে উপহার দিয়েছেন। গত কয়েকদিন আগে আমাদের আরেকজন নেত্রী তার সমস্ত জীবন দিয়ে আমাদের জন্য কাজ করে গেছেন, আমাদের গণতন্ত্রকে মুক্ত করেছেন, আমাদের পথ দেখিয়েছেন, সেই নেত্রীকে আমরা হারিয়েছি। এই দেশের কোটি মানুষ সেদিন সমবেত হয়েছিল ওই পার্লামেন্ট চত্বরে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা যখন আন্দোলন করছিলাম, তখনই আমরা এই রাষ্ট্রীয় সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিলাম। প্রথমে ম্যাডাম দিয়েছিলেন ২০১৬ সালে ভিশন–২০৩০, এরপরে আমাদের নেতা অন্যান্য দল বসে আলাপ করে ৩১ দফা দিয়েছেন। ৩১ দফায় কী ছিল, কি আছে? আজকে যে সংস্কারের কথা বারবার বলা হচ্ছে, সব পত্রিকা–রেডিও–টেলিভিশনে খুব প্রচার হচ্ছে। প্রধান উপদেষ্টা থেকে সমস্ত উপদেষ্টা নেমে গেছেন প্রচারে… ভালো কথা। কিন্তু আমরা ২০২২ সালেই সংস্কারের কথা বলেছি। আমরা যা যা বলেছি সবগুলো আজকে এখানে আছে। অনেকে আমাদেরকে প্রশ্ন করে, আপনারা সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে। এটা (সংস্কার) তো আমারই সন্তান। আমি তো তার জন্য প্রাণ দিতে পারি। এই যে জিনিসগুলো (প্রশ্ন তোলা) সবসময় বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমাকে কেউ যখন জিজ্ঞেস করে, আমি সোজাসোজি বলি যে এটা আমাদের ব্রেইন চাইল্ড। সংস্কার যেটুকু হয়েছে, সেখানে একমত হয়েছে সব রাজনৈতিক দল। অবশ্যই ‘হ্যাঁ’তে আছি। যেগুলোতে আমরা একমত হই নাই, সেগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছে (জুলাই সনদে), তারপরেও আমরা কিন্তু মেনে নিয়েছি। ঠিক আছে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে, জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে আমাদের কাছে যেটা গ্রহণযোগ্য নয় সেটাও আমরা মেনে নিয়েছি।

সম্পর্কিত খবর

চলতি বছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও বিএনপির সম্মেলন : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

চলতি বছরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা...

রাশিয়ার তেল বিক্রির উপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সাময়িক স্থগিত

৩০ দিনের জন্য রাশিয়ার তেল বিক্রির ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা সাময়িক স্থগিত করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের ‘অফিস অব ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল’...

আগামী ৫ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী

আগামী ৫ বছরে দেশের ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হবে বলে জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘উজান থেকে যখন পানি...

১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ করা হবে : মাননীয় সড়ক ও রেল মন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, আগামী ১৫ মার্চ থেকে গণপরিবহনের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।...

চলতি বছরেই রুপপুরের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীডে যুক্ত হতে যাচ্ছে

অবশেষে চলতি বছরের শেষ নাগাদ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে যাচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার ১২...

রক স্টার ফিল ক্যাম্পবেল আর নেই

বিশ্বখ্যাত হেভি মেটাল ব্যান্ড ‘মোটরহেড’-এর গিটারিস্ট ফিল ক্যাম্পবেল আর নেই। দীর্ঘ তিন দশক ধরে ব্যান্ডটির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে থাকা এই গুণী শিল্পী ৬৪ বছর...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত