বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদীকে কে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। তবে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মোদী ওইদিন মুম্বইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্র এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে ব্যস্ত থাকবেন বলে ঢাকা সফরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে ভারত সরকারের তরফে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা আসছেন ঢাকা সফরে।
তবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ঢাকায় আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার এই অনুষ্ঠানে ভারত, পাকিস্তান, চীন, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান-সহ মোট ১৩টি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ের পর বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান জানিয়েছিলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে। তিনি বলেন, ঢাকা আঞ্চলিক শক্তিগুলির সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় এবং কোনো দেশকেই ‘মাস্টার’ হিসেবে দেখে না। উল্লেখ্য ইতিপূর্বে বিএনপি একাধিকবার জানিয়েছে, পারস্পরিক সম্মান ও সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলতে তারা আগ্রহী।
সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান শুধু বাংলাদেশের রাজনৈতিক পালাবদলের প্রতীক নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণেও নতুন বার্তা বহন করতে পারে। ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে ওম বিড়লার উপস্থিতি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর এবং একাধিক দেশ কে আমন্ত্রণ সব মিলিয়ে ঢাকার এই অনুষ্ঠান এখন আঞ্চলিক রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।
