চট্টগ্রামে দীর্ঘবছর আত্নগোপনে থাকার পর যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মো. জাফর সাদেক (৫০) নামের এক আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার ও মাদক মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত মূলে মো. দেলোয়ার (৪০) ও রাজা মিয়া (৪০) নামের দুই আসামি কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে নগরীর কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে মো.জাফর সাদেক নামের যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত এ আসামিকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। আসামি মো.জাফর সাদেক নগরের কোতোয়ালী থানাধীন ফিরিঙ্গী বাজার ২ নম্বর চুরিয়ালটুলি লেইনের মো.আব্দুর শুক্কুরের ছেলে।
গ্রেফতারের বিষয়ে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আফতাব উদ্দিন জানান, ফেনী মডেল থানার ২০১৩ সালের একটি মাদক মামলায় মো.জাফর সাদেককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছিল আদালত। সাজা পরোয়ানা মূলে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। তাকে গ্রেফতারে আমাদের অভিযান অব্যহত ছিলো। গতকাল বিশেষ অভিযানে তাকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। গ্রেফতারের পর আসামিকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
অন্যদিকে নগরীর হালিশহর থানা এলাকা থেকে ফেন্সিডিল উদ্ধারের মামলায় দুই মাদক কারবারিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গতকাল চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আফরোজা জেসমিন কলির আদালত এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মো. দেলোয়ার (৪০) ও রাজা মিয়া (৪০)। রায়ের বিষয়ে আদালতের বেঞ্চ সহকারী নাঈম হোসেন নিশ্চিত করে বলেন, পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে ফেন্সিডিল উদ্ধারের মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মো. দেলোয়ার ও রাজা মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানামূলে আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান নাঈম হোসেন।
জানা যায়, ২০১৬ সালের ১৮ এপ্রিল হালিশহর থানা পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় চট্টগ্রাম-ড-০৫-০০২৪ নম্বরের একটি খোলা ট্রাক দ্রুতগতিতে বন্দরের দিকে যাওয়ার সময় থামানোর সংকেত দেওয়া হলেও চালক পালানোর চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ ও স্থানীয় সাক্ষীদের সহায়তায় ট্রাকটি আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে ট্রাকের ভেতর থেকে ১১০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া প্রতিটি বোতলে ভারতীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের লেবেল লাগানো ছিল। এ ঘটনায় হালিশহর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) জমির উদ্দীন বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিলে চার্জ গঠনের মাধ্যমে বিচারকাজ শুরু হয়।
