দীর্ঘ প্রতিক্ষায় ১৩ বছর পর অনুষ্ঠিত হচ্ছে চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির দ্বিবার্ষিক নির্বাচন। তিন দফা স্থগিতাদেশ, দীর্ঘ আইনি জটিলতা ও ব্যবসায়ী নেতাদের পাল্টাপাল্টি রিটের পর অবশেষে ভোটের মাঠে গেলেন ব্যবসায়ীরা। শনিবার (২৩ মে) নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এ দৃশ্য দেখা যায়, চেম্বারের ভোটে অংশ নিতে ব্যবসায়ীদের পদচারণায় মুখরিত ভোটকেন্দ্রের চারপাশ। দীর্ঘদিন ভোট দিতে না পারার আক্ষেপ মুছে ভোট দিতে জড়ো হয়েছেন হাজার খানেক ব্যবসায়ী। এসময় ব্যবসায়ীরা একে অপরের সঙ্গে কথোপকথনে ব্যস্ত। ভোট চলাকালীন নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানা যায়, সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ভোট পড়েছে আট শতাধিক। এরমধ্যে ভোট দিয়েছেন ছয় শতাধিক সাধারণ সদস্য এবং দুই শতাধিক সহযোগী সদস্য।
জানা যায়, ২০১৩ সালের পর এবারই প্রথম চট্টগ্রাম চেম্বারে ভোট হচ্ছে। এর মধ্যবর্তী সময়ে সব কমিটি গঠিত হয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। এবার নির্বাচনে মুখোমুখি হয়েছিল দুটি প্যানেল। একটি এস এম নুরুল হকের নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ, অন্যটি আমিরুল হকের নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড বিজনেস ফোরাম। তবে ভোটের মাত্র একদিন আগে শুক্রবার সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান ও বর্জনের ঘোষণা দেয় সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদ। দলনেতা এস এম নুরুল হকের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনা ও বাণিজ্য সংগঠন বিধিমালা অনুসরণ না করে তড়িঘড়ি নির্বাচন আয়োজন করা হচ্ছে। তাই তাঁরা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। যদিও নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় ব্যালটে সম্মিলিত ব্যবসায়ী পরিষদের প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক থাকছে।
চেম্বার সূত্রে জানা যায় , সাধারণ শ্রেণিতে ১২, সহযোগী শ্রেণিতে ৬ এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ থেকে ৩ জন করে মোট ২৪ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। তাঁদের মধ্য থেকে পরে সভাপতি ও দুই সহসভাপতি নির্বাচিত করা হবে। চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী সাধারণ শ্রেণিতে ৩৭ জন এবং সহযোগী শ্রেণিতে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এছাড়া টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণিতে ছয়জন প্রার্থী কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হওয়ার পথে রয়েছেন। নির্বাচনকে ঘিরে গত নয় মাস ধরে আদালত, এফবিসিসিআই-এর সালিসি ট্রাইব্যুনাল এবং বিভিন্ন পক্ষের আইনি লড়াইয়ে বারবার স্থগিত হয়েছে ভোটগ্রহণ। এর ফলে প্রায় ২০ মাস ধরে নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ এই ব্যবসায়ী সংগঠন।
সাধারণ ব্যবসায়ীদের অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন পর ভোটের সুযোগ তৈরি হলেও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও আইনি টানাপোড়েনে নির্বাচনের পরিবেশ বারবার প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তাঁদের মতে, চেম্বার ও ব্যবসায়ী সমাজের বৃহত্তর স্বার্থে প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতা হওয়া প্রয়োজন ছিল। অন্যদিকে ইউনাইটেড বিজনেস ফোরামের দলনেতা আমিরুল হক বলেন, ‘আদালতের সব সিদ্ধান্ত মেনে ভোটারদের অংশগ্রহণের মাধ্যমেই চেম্বারের নেতৃত্ব নির্বাচিত হওয়া উচিত। সেটাই হচ্ছে। ভোটারদের উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখেই তা-ই স্পষ্ট হয়েছে।’
