চটগ্রাম : “ধর্ষণ ও শিশু নির্যাতনের বিরূদ্ধে রুখে দাঁড়াও বাংলাদেশ” এই আহ্বানে গতকাল রবিবার (২৪ মে) বিকেলে নগরীর লালখান বাজার মোড় এলাকায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে প্রজনন স্বাস্থ্য সচেতনতা বিষয়ক অনলাইন পেইজ ‘সুরক্ষা’, পেইজ এডমিন খোকন মিয়ার সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য রাখেন উন্নয়ন কর্মী রুশমী চৌধুরী , সাংষ্কৃতিক কর্মী শংকর বড়ুয়া , স্বাস্থ্য কর্মী জয়া ঘোষ, বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার , লেখক ও গবেষক , হাটহাজারি আলিপুর মাদ্রাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস ও মুফতি হাফেজ মাওলানা মুফতি জামিল মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ২০২৬ সালের প্রথম চারমাসে ১১৮ জন কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে । এর মধ্যে ১৭ জন হত্যার শিকার । চলতি মাসে ঢাকার পল্লবীতে ৮ বছরের রামিসা , ১৯ তারিখ ভাষানটেকে ৮ বছর বয়সী শিশু , ২২ মে কলাবাগানে অপর এক শিশু সহ চট্টগ্রামে একই দিনে হ্যাট্রিক শিশু ধর্ষনের ঘটনা সংঘঠিত হয়েছে ।
সারাদেশেই সিরিজ নারী শিশু নিপীরণ ও ধর্ষণ সংঘঠিত হচ্ছে । বাংলাদেশ পুলিশের ডাটা সেন্টার এর তথ্য অনুযায়ী এপ্রিল মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা হয়েছে ২০১১ টি । বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্রাকের রেফারেন্স দিয়ে বক্তারা বলেন, শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ৭০% অপরাধী খালাস পেয়ে যায় ।
বক্তারা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতার উপর জোড় দেন , একই সাথে অনলাইন মাধ্যম থেকে নারী বিদ্বেষী বক্তব্য প্রত্যাহার ও বিদ্বেষ প্রচারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আহ্বান জানান । আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে অপরাধীকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেয়ার আহ্বানও জানান । বক্তারা প্রত্যাশা করেন ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিচার দ্রুত সময়ের মধ্যে সম্পাদন হবে ।
হাফেজ মাওলানা মুফতি জামিল মাহমুদ চৌধুরী বলেন , ইসলামে নারীর মর্যাদা ও অধিকার অত্যন্ত সুদৃঢ় এবং সম্মানজনক। ইসলাম নারীদের মা, স্ত্রী, কন্যা ও বোন হিসেবে সর্বোচ্চ সামাজিক, অর্থনৈতিক ও আধ্যাত্মিক অধিকার প্রদান করে মর্যাদার সুউচ্চ আসনে অধিষ্ঠিত করেছে । মায়ের মর্যাদাকে ইসলামে সবচেয়ে উচ্চে স্থান দেওয়া হয়েছে । কন্যা সন্তানকে যারা বোঝা মনে করে তাদের প্রতি লানত করা হয়েছে । কারণ কণ্যা সন্তান আল্লাহর রহমত স্বরূপ । সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জান্নাতুল আরফা , লিসা আক্তার , রাজু দাশ প্রমুখ ।
