অবশেষে বহুল আলোচিত মধ্যপ্রাচ্যের লেবানন ফ্রন্টে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্যের দেখা পেয়েছে মার্কিন প্রশাসন। লেবাননে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার পর অবশেষে বিবদমান দুই পক্ষ ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা) থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে বলে বিবিসির কাছে নিশ্চিত করেছেন একজন উচ্চপদস্থ মার্কিন কর্মকর্তা।
এদিকে আজকের এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে লেবাননে ব্যাপক বিমান হামলা ও রকেট হামলা চালায় ইসরায়েল। এসব হামলায় ১৮ জন নিহত হন এবং হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের হাতে ৪ ইসরায়েলি সেনা প্রাণ হারান যার মধ্যে একজন উচ্চপদস্থ ইসরায়েলি সেনাকর্মকর্তা রয়েছেন বলে জানা যায়।
মার্কিন ওই কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিবিসিকে জানান, আজ দিনের শুরুতে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি ও হামলার পর, ইসরায়েল এবং হিজবুল্লাহ এখন যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এবং কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা ইরানের সরাসরি সহায়তায় চুক্তিটি সম্পন্ন করতে পেরেছেন।
প্রকৃতপক্ষে, লেবানন ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ হওয়া ছিল বৃহত্তর মার্কিন-ইরান শান্তি চুক্তির অন্যতম প্রধান পূর্বশর্ত। হিজবুল্লাহর একজন সিনিয়র আইনপ্রণেতা জানিয়েছেন, তেহরানের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, লেবাননে একটি সামগ্রিক ও কার্যকর যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের শান্তি আলোচনা কোনোভাবেই এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিকে একটি স্থায়ী মধ্যপ্রাচ্য শান্তি চুক্তিতে রূপ দেওয়ার জন্য আজ শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে মার্কিন-ইরান শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে তীব্র লড়াই শুরু হয়ে যায়, যা বৈশ্বিক নৌ-বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আলোচনাকে অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে। পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় শেষ মুহূর্তে শুক্রবারের ওই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি বাতিল করতে বাধ্য হয় দুই পক্ষ।
তবে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্ত হলেও স্থগিত হয়ে যাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যেকার বৈঠক কবে শুরু হতে পারে সেই বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
তথ্য সূত্র – বিবিসি
