চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ( চসিক) এর মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, গত চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে যারা ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণ করেছে, তাদের পুনরায় ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে না। নিয়মিত কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ টিমের মাধ্যমে পথশিশুদেরও ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে, যাতে কোনো শিশুই এই কর্মসূচির বাইরে না থাকে। অভিভাবকদের নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে শিশুদের ক্যাম্পেইনে নিয়ে আসার আহ্বান জানান। রোববার ( ২৮ জুন) চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নগরীতে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহবান জানান।
মেয়র বলেন, শিশুদের অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিশু যেন এই কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়ে, সে লক্ষ্যেই চসিক সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এসময় তিনি জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের লক্ষ্য, গুরুত্ব এবং চসিকের সার্বিক প্রস্তুতি তুলে ধরেন। মেয়র জানান, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের সাতটি ইপিআই জোনের আওতায় ১ হাজার ৩২১টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রায় ৫ লাখ ৬৪ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
এর মধ্যে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রায় ৯২ হাজার শিশুকে নীল রঙের (১ লাখ আইইউ) এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৪ লাখ ৭২ হাজার শিশুকে লাল রঙের (২ লাখ আইইউ) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জন্মের প্রথম ছয় মাস শিশু মায়ের দুধ থেকেই প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘এ’ পেয়ে থাকে।
অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন মেয়র। তিনি জানান, চলতি বছরে চট্টগ্রাম নগরীতে এখন পর্যন্ত ১৭২ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হলেও কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। বর্ষা মৌসুমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নগরবাসীকে বাসাবাড়ি, ছাদ, টব, এসির ট্রে, নির্মাণাধীন ভবন, টায়ার ও অন্যান্য স্থানে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। নগরীর ২, ৩, ১০, ১৭, ১৯, ৩৪, ৩৯ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ডকে ডেঙ্গুর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। আধুনিক বিটিআই প্রযুক্তি ও কার্যকর লার্ভানাশক ব্যবহারের মাধ্যমে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চসিকের অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে। মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রোগীদের হয়রানি বন্ধ, হাসপাতাল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত এবং মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, চসিকের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. ইমাম হোসেন রানা। এতে আরও বক্তব্য রাখেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. সেখ ফজলে রাব্বি, চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম, ইউনিসেফ চট্টগ্রাম বিভাগের চিফ ফিল্ড অফিসার মিসেস মাধুরী ব্যানার্জী, চসিকের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. হোসনে আরা বেগম ও ডা. তপন কুমার চক্রবর্তী, ইউনিসেফ চট্টগ্রাম বিভাগের নিউট্রিশন অফিসার ডা. উবা সুই চৌধুরী, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. দেলোয়ার হোসেনসহ স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও জনপ্রতিনিধিরা।
