বৃহস্পতিবার, জুলাই ১৬, ২০২৬

জুলাই জাতীয় সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান জুলাই আন্দোলনে সংগঠিত সকল অপরাধের বিচার করার নিশ্চয়তা দিয়েছেন।

বিচারের নামে কারো প্রতি যেন অবিচার না হয় : জুলাই সম্মেলনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান

একটু দেরিতে হলেও বিচার হবে কিন্তু কারো প্রতি যেনো অবিচার না হয় সেটাও নিশ্চিত করা হবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক

গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান বলেছেন, জুলাইয়ে হতহতদের ন্যায়বিচার এদেশের মাটিতেই হবে তবে খেয়াল রাখতে হবে বিচারের নামে কারো প্রতি যেন অবিচার না হয়। তিনি বলেন, একটু বিলম্ব হলেও অন্যায়কারীর যেন সঠিক বিচার হয় সেই চেষ্টাই করবো। আজ শনিবার ৪ জুলাই রাজধানী ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে জুলাই জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহতদের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন ও পুনর্বাসন করা সরকারের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, ‘শহীদদের সর্বোচ্চ সম্মান ও স্বীকৃতি, আহতদের জীবনমান নিশ্চিত করতে এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন ও সহায়তা প্রদানে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’

এ সময় মা প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া ও ভাই আরাফাত রহমান কোকোর ওপর হওয়া নির্যাতনের প্রসঙ্গে জনাব তারেক রহমান বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান চলাকালে আমি বারবার ভাবছিলাম এই মূহুর্তে যদি আমি আমার মা’কে জিজ্ঞেস করতে পারতাম, আপনার ওপর যে অবিচার ও অন্যায় হয়েছে, আপনি কি চান আমি এসবের প্রতিশোধ নেই? আমার বিশ্বাস মা বলতেন, এই মূহূর্তে তোমার কাজ সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমি জানি আমার ভাইকে জিজ্ঞেস করলে– তিনিও আমাকে একই উত্তর দিতেন।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, শহীদ হয়েছেন, তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিলো দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়ন। তাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৫ আগস্ট যে অর্জন আমরা করেছি, তা একক কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়। দেশের প্রতিটি গণতন্ত্রকামী মানুষের অর্জন। জনতার সম্মিলিত ত্যাগের ফসল।’

জাতিকে বিভক্ত করে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া যায় না উল্লেখ করে উপস্থিত জুলাই পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সেই মানুষই ত্যাগ করতে পারে, যার সাহস আছে। আপনারা আপনজনকে হারিয়েছেন, কেউ কেউ অঙ্গ হারিয়েছেন। যে অঙ্গ হারিয়েছেন, তা ঠিক হয়ে যাবে? না, ঠিক হয়ে যাবে না। তবে সবাই মিলে আমরা যদি দেশকে এগিয়ে নিতে পারি, তবে একদিন গর্ব করে বলতে পারবেন– আপনার আপন জনের ত্যাগের বিনিময়ে দেশের ভাগ্যের উন্নয়ন হয়েছে। তাই আসুন দেশ, মাটি এবং মানুষের কল্যাণে সবাই ঐক্যবদ্ধ হই।’

জুলাই-২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটি ও আমরা জুলাই যোদ্ধা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ জাতীয় সম্মেলনে যোগ দেওয়া শত জুলাই যোদ্ধা পরিবারের সদস্য প্রধানমন্ত্রীর সামনে নিজেদের দুঃখ বেদনার কথা তুলে ধরেন। এ সময় তাদের দুঃখ বেদনার কথা শুনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অশ্রুসজল চোখ বারবার মুছতে থাকেন।

সকাল সোয়া ১০টায় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে শহীদদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত এবং জাতীয় সংগীতের পর জুলাই আন্দোলনের ওপর প্রামান্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। জাতীয় এই সম্মেলনের মূলমন্ত্র ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানের শুরুতে শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অনুষ্ঠানে শহীদ মিরাজের বাবা রব মিয়া, শহীদ সেলিমের ভাই উজ্জ্বল হোসেন, জুলাই আহত আল মিরাজ, জুলাই যোদ্ধা আমিনুল ইসলাম ঈমন প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে স্মরক গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত সবার জন্য রাখা স্মৃতি স্মারক তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেয়া হয়।পরে শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতেও স্মৃতি স্মারক তুলে দেওয়া হয়।

জাতীয় সংসদের প্রধান হুইপ নুরুল ইসলাম মনির সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের সভাপতি আবু হুরায়রা, কওমী ছাত্র ফোরামের সভাপতি মাওলানা জামিল সিদ্দিকী, আয়োজক সংগঠন ‘আমরা জুলাই যোদ্ধা’র সভাপতি আমিনুল ইসলাম ইমন, সাধারণ সম্পাদক আল মিরাজ, শহীদ ২৪ শহীদ পরিবার সোসাইটির সভাপতি গোলাম রহমান ও সাধারণ সম্পাদক রবিউল আওয়াল বক্তব্য রাখেন।

জুলাই বিপ্লবে শহীদ সন্তানদের নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন– শহীদ আবু সাইয়িদের ভাই আবু হোসেইন, শহীদ শাহরিয়ার হোসেন আলভীর বাবা আবুল হোসেন, শহীদ আবদুল্লাহ বিন জাহিদের মা ফাতেমাতুজ্জোহরা, শহীদ ওয়াসিম আকরামের বাবার শফিউল আলম এবং যাত্রাবাড়ীতে শহীদ মিরাজ হোসেনের বাবা আবদুর রব মিয়া। জুলাই বিপ্লবে আহত শাহিন মালু, সুজন মোল্লা, মিল্লাত হোসেন, আল-আমীন, মেহেদি হাসান মিরাজ, তার আর্তির কথা তুলে ধরেন।

জুলাই জাতীয় সম্মেলনে রাজনীতিবিদ, সংসদ সদস্য, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাই কমিশনার, সামরিক ও বেসামরিক ঊধর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত খবর

আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে : ১০ জন নিয়েও লড়াকু সুইজারল্যান্ড

সুইজারল্যান্ড ১ : ৩ আর্জেন্টিনা  ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর শেষ কোয়ার্টার-ফাইনালে ক্যানসাস সিটিতে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে আর্জেন্টিনা সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের প্রতিপক্ষ হিসেবে নিজেদের নাম...

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সমঝোতা কেন বারবার ভেঙে পড়ছে? আবারো যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দুই দেশ—উত্তরণের পথ কোথায়?

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে অবিশ্বাস, নিষেধাজ্ঞা, প্রক্সি সংঘাত এবং পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে টানাপোড়েনের প্রতীক। বিভিন্ন সময়ে...

চট্টগ্রাম কক্সবাজার রুটে পাঁচদিন পর ট্রেনের যাত্রা শুরু

টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে পাঁচদিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার পর পুনরায় ট্রেন যাত্রা শুরু হয়েছে। রোববার ( ১২ জুলাই ) ভোর...

প্রতিটি নিরন্ন মানুষের কাছে ইনশাআল্লাহ খাবার পৌঁছে দেবে তারেক রহমান : প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য

চট্টগ্রাম : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এর সরকার চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে আছে, থাকবে। দুর্গত মানুষের যেকোন প্রয়োজনে সরকার...

ক্যান্সার বিস্তার রোধে বাংলাদেশি গবেষক ড. হেমায়েত উল্লাহ’র গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার

ক্যান্সারের বিস্তারের কারণে ৯০ শতাংশেরও বেশি রোগীর মৃত্যু হয়, তবে উদ্ভিদ বিজ্ঞানের একটি অভাবনীয় আবিষ্কার এখন এই মরণঘাতী মেটাস্ট্যাসিস বা ক্যান্সারের ছড়িয়ে পড়া রোধ...

চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির মোকাবিলায় সেনাবাহিনী নিয়োগ

চট্টগ্রাম জেলায় ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার জন্য 'ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার'-এর আওতায় বাংলাদেশ...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত