শনিবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাটল ট্রেনে বাড়ছে গাদাগাদি, আসন সংকট ও শিডিউল বিপর্যয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সঙ্গে শাটল ট্রেনের সম্পর্ক কেবল যাতায়াতের নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয়টির দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, শিক্ষার্থীদের স্মৃতি ও ক্যাম্পাসজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আশির দশক থেকে হাজারো শিক্ষার্থীর হাসি-কান্না, বন্ধুত্ব, প্রেম-বিরহ আর সংগ্রামের সাক্ষী এই ট্রেন। প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর যাতায়াতের প্রধান অবলম্বন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের(চবি) শাটল ট্রেন। অথচ বিপুল এই শিক্ষার্থীসংখ্যার বিপরীতে ট্রেন মাত্র এক জোড়া। ফলে প্রতিদিনের যাত্রায় বাড়ছে গাদাগাদি, আসন সংকট ও শিডিউল বিপর্যয়। এর সঙ্গে নিরাপত্তাহীনতা ও নানান অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় ঐতিহ্যের এই বাহনটি ক্রমেই হারাচ্ছে তার স্বকীয়তা।

অথচ সময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও বাড়েনি শাটলের সক্ষমতা। ফলে যে শাটল একসময় ছিল শিক্ষার্থীদের প্রাণের স্পন্দন, সেটিই এখন অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে নিত্যদিনের ভোগান্তির আরেক নাম।

শিক্ষার্থী বাড়ছে, বাড়ছে না ট্রেনের সক্ষমতা
বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরের পর বছর নতুন বিভাগ ও শিক্ষার্থী সংখ্যা বাড়লেও সে তুলনায় বাড়েনি শাটল ট্রেনের বগি ও আসনসংখ্যা। বর্তমানে চবির দুটি শাটল ট্রেনের প্রতিটিতে ১০টি করে বগি রয়েছে। প্রতিটি বগিতে ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ জন হলেও ব্যস্ত সময়ে এর কয়েক গুণ শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে যাতায়াত করতে হয়। ২০২১ সালের নভেম্বরে অনিবার্য কারণ দেখিয়ে চবির ডেমু ট্রেনটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর শাটল দুটির ওপর চাপ আরও বেড়ে যায়। বাড়তি যাত্রী সামলাতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে ঝুঁকি নিয়ে দরজার কাছে, সিঁড়িতে কিংবা বগির সংযোগস্থলে অবস্থান করতে দেখা যায়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

শাটলে আসন সংকটের অন্যতম কারণ হিসেবে শিক্ষার্থীরা বলছেন বহিরাগতদের নিয়মিত যাতায়াতের কথা। তাদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত তদারকি না থাকায় শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত পরিবহন ব্যবস্থায় বহিরাগতদের উপস্থিতি আরও চাপ তৈরি করছে। পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী মোস্তফা আহমেদ বলেন, ‘বহিরাগতদের নিয়ে নানান সমস্যা। তারা আসার পরে আমাদের বসার জায়গা হয় না। প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অভাবেই মূলত এটা হচ্ছে। নিয়মিত তদারকি করলে আশা করি এই সমস্যা কিছুটা কমে আসবে। শুধু ভিড় নয়, শাটলের শিডিউল নিয়েও রয়েছে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। নির্ধারিত সময়ে স্টেশনে এসে অপেক্ষা করেও অনেক সময় ট্রেন না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা। ফলে ক্লাস, পরীক্ষা কিংবা জরুরি কাজে সময়মতো ক্যাম্পাসে পৌঁছানো নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সীমা আক্তার বলেন, ‘প্রতিনিয়ত শিডিউলের সমস্যা। আমরা স্টেশনে এসে দাঁড়িয়ে থাকি অনেক সময়। তারপরও দেখা যায় শাটল আসে না। ক্যান্টনমেন্টের ওখানে গেলে ইট ছুঁড়ে মারা হয়। কখন কে আহত হয় তার ঠিক নেই। এখন আমরা দেখছি বগি কমিয়ে ফেলা হয়েছে। আমরা শাটলে জায়গা পাই না, যেতে পারি না’।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, পাথর নিক্ষেপ, চুরি-ছিনতাই ও নারী শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির মতো ঘটনাগুলো শাটলযাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। ফলে ঐতিহ্যের এই বাহনে যাতায়াতের আনন্দের পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে আতঙ্কও। শাটলের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। বগির ফ্যান ও বাতিগুলো নিয়মিত কাজ না করার কারণে বিশেষ করে গরমের সময় অতিরিক্ত ভোগান্তিতে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী মো. আশিক বলেন, ‘বগিতে যেসব ফ্যান ও লাইট আছে, সেগুলো মাঝে মাঝে চলে, মাঝে মাঝে চলেই না।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-ফোরকান বলেন, ‘শাটল ট্রেনের চলমান সমস্যার সমাধানে আগামী মাসের মধ্যেই কিছু পদক্ষেপ দৃশ্যমান হবে। খুব শিগগিরই পুরো একটা কোচ আমরা পাব। আগামী তিন মাসের মধ্যে কমপক্ষে তিনটি স্টেশন সিসিটিভির আওতায় আসবে। দুই পার্শ্ববর্তী যে বস্তি এবং যেসব অবৈধ স্থাপনা আছে, সেগুলো পরিষ্কার করা হবে’। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শাটল ট্রেন শুধু একটি পরিবহন নয়; প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এটি হয়ে উঠেছে চবির পরিচয়ের অংশ। এই ট্রেনেই গড়ে উঠেছে বন্ধুত্ব, তৈরি হয়েছে অসংখ্য স্মৃতি, লেখা হয়েছে ক্যাম্পাসজীবনের নানা গল্প। কিন্তু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে পরিবহন সক্ষমতা না বাড়া, আসন সংকট, অনিয়মিত শিডিউল, নিরাপত্তাহীনতা ও অব্যবস্থাপনা সেই ঐতিহ্যকে ম্লান করে দিচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা শাটলকে শুধু ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে নয়, নিরাপদ, নিয়মিত ও সক্ষম গণপরিবহন হিসেবে গড়ে তোলা হোক। প্রশাসনের প্রতিশ্রুত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে হয়তো আবারও শাটলের জানালায় ফিরবে স্বস্তির বাতাস, বগিতে ফিরবে যাত্রার আনন্দ। আর চবির হাজারো শিক্ষার্থীর কাছে তাদের প্রাণের শাটল ফিরে পাবে তার হারানো জৌলুস।

সম্পর্কিত খবর

থাই প্রধানমন্ত্রীর সাথে জনাব তারেক রহমানের সাইডলাইন বৈঠক

ছবি : প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কতৃক প্রেরিত   নিউইয়র্কে চলমান জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইডলাইনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান ও থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুল। স্থানীয়...

১ দিনেই হামে ১১ জনের মৃত্যু

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হাম উপসর্গে ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে আক্রান্ত আরো ১ হাজার ২৭০ জন। মঙ্গলবার ২২ সেপ্টেম্বর বিকেলে...

অপ্রতিম হত্যার বিচার রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো দ্রুততম সময়ে শেষ করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি :- সংগৃহীত   কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের বিচার রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতো দ্রুততম সময়ে শেষ করার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাহউদ্দিন...

প্রযুক্তি ও শিল্প খাতে ভারতীয় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর

ছবি : সংগৃহীত   বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নে ভারতকে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি পরিমাণে পণ্য আমদানির আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। একই...

ডেঙ্গু প্রতিরোধে দরকার জনসচেতনতা: সাঈদ আল নোমান এমপি

ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশক নিধন কার্যক্রম নয়, জনসচেতনতা ও নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম ১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল...

চট্টগ্রামে আনন্দী সঙ্গীত একাডেমি দুদিন ব্যাপী পণ্ডিত বিজন চৌধুরী উচ্চাঙ্গসংগীত সম্মেলন সম্পূর্ণ

চট্টগ্রাম : শ্রদ্ধা তাবৎ মানুষের অন্তর্নিহিত ফ্যাকাটি।তাঁর সুষ্ঠু প্রকাশ যেভাবে ঘটুক না কেনো এর প্রতিভাত হয়।এটিসৌন্দর্যতত্ত্বের এটিসৌন্দর্য সত্যানু পরীক্ষিত সত্য অনুসন্ধান শুদ্ধ আনন্দী সঙ্গীত...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত