ভেনেজুয়েলা সংকটকে কেন্দ্র করে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা ছড়িয়েছে। উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে, নয়তো এই “নিপীড়ন” তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে নিয়ে যাবে। কিম মাদুরোকে নিজের “বন্ধু” বলে সম্বোধন করে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-র মাধ্যমে এই হুমকি দিয়েছেন।
এই বক্তব্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে এবং ভেনেজুয়েলা সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। কিম জং উনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমার বন্ধু নিকোলাস মাদুরোকে গ্রেফতার করে আমেরিকা সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এই অত্যাচার অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং মাদুরোকে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় এই নিপীড়ন পুরো বিশ্বকে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে।” তিনি আরও যোগ করেন, উত্তর কোরিয়া তার মিত্রদের পাশে দাঁড়াবে এবং যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দেবে। এই হুমকির পর পিয়ংইয়ংয়ে সামরিক কুচকাওয়াজের খবর ছড়িয়েছে, যা উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভেনেজুয়েলা সংকটের সূত্রপাত গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন সামরিক অভিযান থেকে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঘোষণা করেন, বড় ধরনের হামলা চালিয়ে মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
এরপর থেকে কারাকাসে অশান্তি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়েছে। আমেরিকা মাদুরোকে নার্কো-টেররিস্ট আখ্যা দিয়ে এই অভিযানকে ন্যায্য বলে দাবি করছে। কিন্তু রাশিয়া, চীন, ইরান এবং এখন উত্তর কোরিয়া এটাকে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে নিন্দা করেছে। কিম জং উনের এই হুমকি বিশ্বকে চিন্তায় ফেলেছে। উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রাগার এবং আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রের কথা মনে করে বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি কেবল মৌখিক হুমকি নয়, বরং গুরুতর সংকেত।
