সোমবার, জুন ১, ২০২৬

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক না গড়লে বন্ধুত্ব নয় : পাকিস্তানকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানকে সরাসরি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি পাকিস্তান সরকারকে বলেছেন, “আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে ইসরায়েলের সঙ্গে সই না করলে আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্বের দাবি করতে পারবে না।” ট্রাম্প পাকিস্তানি নেতাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই চুক্তিতে সই না করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সুবিধা ও সাহায্য সীমিত করে দিতে বাধ্য হবে এবং দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে মূল্যায়ন করবে।

সূত্র অনুসারে, সাম্প্রতিক এক বৈঠকে ট্রাম্প পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বকে এই কঠিন বার্তা দেন। আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো সেই ঐতিহাসিক চুক্তি, যার মাধ্যমে আরব দেশগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। এখন তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে পাকিস্তানকেও এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। পাকিস্তান ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং ফিলিস্তিনের প্রতি তার অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়।দেশটির জনমত ও ধর্মীয় রাজনীতির কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা তাদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি তাই পাকিস্তানের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “পাকিস্তান যদি আমাদের মিত্র হতে চায়, তাহলে তাদেরও আমাদের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে।” ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, আমেরিকা পাকিস্তানকে দেওয়া সামরিক সাহায্য, অর্থনৈতিক সহায়তা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সমর্থন পর্যালোচনা করবে।

বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ দমন, আফগানিস্তান ইস্যু এবং চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতার প্রেক্ষিতে এই চাপ আরও তাৎপর্যপূর্ণ। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, ইসলামাবাদ এই দাবিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে জরুরি বৈঠক চলছে।

পাকিস্তানের অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্পের এই অবস্থান দেশটির জন্য ‘কঠিন দ্বিধা’ তৈরি করেছে। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চাপ সামলানো। আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে সই করা দেশগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান, মরক্কো অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধা পেয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, পাকিস্তানও এই পথে এলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং চিনের প্রভাব কমবে। কিন্তু পাকিস্তানের জন্য ফিলিস্তিন ইস্যু অত্যন্ত আবেগের বিষয়। অনেক রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় নেতা এ ধরনের চুক্তির বিরোধিতা করবেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র – কলকাতা নিউজ২৪.কম

সম্পর্কিত খবর

সন্ত্রাস, মাদক ব্যবসা ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স : মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য যেখানেই থাকুক না কেন, তা নির্মূল করা হবে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি...

চট্টগ্রাম বন্দরে ভোজ্য তেলবাহী জাহাজে অগ্নিকাণ্ড : ২২ জন ক্রুকে নিরাপদে উদ্ধার

বঙ্গোপসাগরের বহির্নোঙ্গরে ভোজ্য তেলবাহী একটি জাহাজে আগুন লেগেছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে 'এমটি মেঘনা ট্রেডার্স' নামে জাহাজটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে চট্টগ্রাম...

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী আজ

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, সাবেক রাষ্ট্রপতি, স্বাধীনতার ঘোষক, মহান মুক্তিযুদ্ধের ১নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহিদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের...

চট্টগ্রামে আবাসিক হোটেল থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীর ফয়’স লেক চিড়িয়াখানার প্রবেশমুখে অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেল থেকে মো. রিপন (৪৭) ও সোনিয়া (৩০) নামে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে...

দেশবাসীকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের মুসলমানদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন জনাব তারেক রহমান। মঙ্গলবার ২৬ মে...

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান : বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ স্থপতি

বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসে যেসব রাষ্ট্রনায়ক দেশের পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। একজন...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত