ব্রাজিল ৩ : ০ স্কটল্যান্ড
শেষ পর্যন্ত সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই নক আউট পর্বে পা রাখলো ব্রাজিল। ফ্লোরিডার ম্যাচটি ৩-০ গোলে জিতেছে কার্লো আনচেলত্তির দল।
তিন ম্যাচে দুই জয় ও এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষে আছে ব্রাজিল। একই সময়ে গ্রুপের আরেক ম্যাচে হাইতিকে ৪-২ গোলে হারানো মরক্কোরও ৭ পয়েন্ট, গোল পার্থক্যে দুই নম্বরে থেকে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দলটি। ৩ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে স্কটল্যান্ড। তিন ম্যাচেই হেরে বিদায় নিল হাইতি। তবে সেরা তৃতীয় দলের একটি হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে স্কটল্যান্ডের।
এই ম্যাচে ব্রাজিল ৫৪ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২১টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখতে পারে এবং স্কটল্যান্ডের ১৪ শটের পাঁচটি লক্ষ্যে ছিল।
প্রতিপক্ষের মারাত্মক ভুলের সুযোগে সপ্তম মিনিটে ব্রাজিলকে এগিয়ে নেন ভিনিসিউস। গোলরক্ষকের থেকে পাস বক্সে পেয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন স্কটল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্কট ম্যাকেনা। তার শটে বল ব্রাজিলের হায়ানের পায়ে লেগে বক্সেই ফাঁকায় পান ভিনিসিউস। এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে কাটিয়ে ফাঁকা জালে পাঠান রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড। ব্রাজিলের পঞ্চম খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচেই গোল করার কীর্তি গড়লেন ভিনিসিউস। আগের চার জনের ক্ষেত্রেই শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল – ১৯৭০ সালে জাইরজিনিয়ো, ১৯৯৪ সালে রোমারিও এবং ২০০২ সালে রোনালদো ও রিভালদো।
২২তম মিনিটে স্কটল্যান্ডের আরেকটি ভুলে আবার বল জালে পাঠিয়ে উদযাপনে মাতেন ভিনিসিউস। তবে ভিএআরে মনিটরে দেখে গোল দেননি রেফারি। স্কটল্যান্ডের জ্যাক হেনড্রির থেকে বল কেড়ে নেওয়ার সময় তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়েছিলেন ভিনিসিউস এবং ফাউল দেন রেফারি।
প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ের শেষ মিনিটে আরেকটি সুযোগ পায় ব্রাজিল। ডান দিকের বাইলাইনের কাছ থেকে ভিনিসিউসের কাট-ব্যাকে কুইয়ার প্রচেষ্টা গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করেন স্কটিশ ডিফেন্ডার হেনড্রি। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ভিনিসিউস। ব্রুনো গিমারেসের ক্রস এগিয়ে গিয়ে লাফিয়ে ক্লিয়ারের চেষ্টায় বলের নাগাল পাননি স্কটিশ গোলরক্ষক। দূরের পোস্টে হেডে ফাঁকা জালে বল পাঠান ভিনিসিউস। এবারের বিশ্বকাপে তার গোল হলো চারটি। একটু পর আবার গোল পেতে পারত ব্রাজিল। এবার বক্সের ভেতর থেকে হায়ানের শট এগিয়ে এসে দারুণ দক্ষতায় ব্যর্থ করে দেন স্কটল্যান্ড গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধে আর মাঠে নামেননি স্কটল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসন। তার জায়গায় নামেন কিয়েরান টিয়ারনি। ৪৯তম মিনিটে প্রথম কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ্যে রাখতে পারে স্কটল্যান্ড। তবে স্কট ম্যাকটমিনের হেডে বল যায় সরাসরি গোলরক্ষক আলিসনের গ্লাভসে। দুই মিনিট পর হ্যাটট্রিকের সুযোগ পান ভিনিসিউস। দ্রুতগতিতে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি, কিন্তু ঠিকমতো শট নিতে পারেননি, তার আগেই ছুটে এসে বল ধরে ফেলেন গোলরক্ষক।
স্কটল্যান্ডের দুটি পেনাল্টির আবেদন রেফারি নাকচ করে দেওয়ার পর, ৬০তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করে ফেলে ব্রাজিল। পাশে থাকা স্কটল্যান্ডের এক খেলোয়াড়কে ছিটকে ফেলে, আরেকজনকে কাটিয়ে গিমারেস বক্সে খুঁজে নেন কুইয়াকে। এগিয়ে আসা গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠান ২৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। ৬৫তম মিনিটে প্রথমবার ব্রাজিলের গোলকিপার আলিসনের কঠিন পরীক্ষা নিতে পারে স্কটল্যান্ড। ম্যাকটমিনের আরেকটি হেড ফিরিয়ে দেন লিভারপুল গোলরক্ষক।
৭৬তম মিনিটে দর্শকদের তুমুল করতালির মধ্য কুইয়ার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। ৯৮১ দিন পর ব্রাজিলের হয়ে খেলতে নামলেন দলটির রেকর্ড গোলস্কোরার। চার মিনিট পর আরেকবার হ্যাটট্রিকের সুযোগ আসে ভিনিসিউসের সামনে। এবারও তার শট ফিরিয়ে তাকে হতাশ করেন স্কটিশ গোলরক্ষক। শেষ দিকে ব্যবধান কমানোর আরেকটি সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড। দারুণ সেভে ম্যাকটমিনের আরেকটি প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দেন আলিসন।
