চট্টগ্রাম : কোনো অবস্থাতেই নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণ করা যাবে না। আমি নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানাই, কষ্টার্জিত অর্থ ব্যয় করে নিয়মবহির্ভূতভাবে কোনো স্থাপনা নির্মাণ করবেন না। অন্যথায় আইন অনুযায়ী সেই স্থাপনা ভেঙে ফেলতে সিডিএ বাধ্য হবে। পরিকল্পিত, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মঙ্গলবার নগরীর বাকলিয়ার কল্পলোক আবাসিক এলাকায় সিডিএ’র অভিযান পরিচালনার পর বক্তব্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে সিডিএ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক ও জোরদারভাবে পরিচালিত হবে।
জানা যায়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই নগরীতে নকশাবহির্ভূত ভবন নির্মাণের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন। ওই ঘোষণার ধারাবাহিকতায় গতকাল অবৈধ ও নকশাবহির্ভূত স্থাপনার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে সিডিএ।
গতকাল নগরীর বাকলিয়ার কল্পলোক আবাসিক এলাকায় সিডিএর স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হামীমুন তানজীনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। অভিযানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন। অভিযান চলাকালে কল্পলোক আবাসিক এলাকার নির্মাণাধীন ভবনগুলো পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে ভবন নির্মাণে বাধ্যতামূলক সেটব্যাক (প্লটের সীমানা থেকে নির্ধারিত খালি স্থান) সংরক্ষণ না করা, অনুমোদিত নকশা থেকে বিচ্যুতি (ডেভিয়েশন) এবং অন্যান্য অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় মোট ১১টি স্থাপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২–এর ধারা ১২(১) অনুযায়ী নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মিত ৭টি বহুতল ভবন এবং একটি অনুমোদনহীন গুদাম সীলগালা করা হয়। একই সঙ্গে সীলগালা করা স্থাপনাগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এছাড়া তিনজন ভবন মালিককে মোট ১৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে এক বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন চউকের অথরাইজড অফিসার–২ কাজী কাদের নেওয়াজ, সহকারী অথরাইজড অফিসার আসাদ বিন আনোয়ার, সহকারী অথরাইজড অফিসার ফারুক আহাম্মদ এবং সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শকবৃন্দ।
