সেই পরিচিত দৃশ্যপট। আর্জেন্টিনা পিছিয়ে এবং নিশ্চিত হারের মুখে। কিন্তু খেলার শেষ ভাগে অন্তিম সময়ের নিকটে মেসি বাহিনী প্রবল শক্তিশালী ঝড়ের রুপে আছড়ে পড়লো ইংরেজ বাহিনীর উপর। ফল যা হওয়ার তাই হলো। ইউরোপীয় পরাশক্তি ইংল্যান্ড ভেসে গেলো খড়কুটোর মতো। খেলার ৮৬ মিনিট পর্যন্ত ফাইনালের খুব কাছাকাছি ছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু মাঠে যখন লিওনেল মেসি, তখন শেষ বাঁশি বাজার আগে গল্প শেষ হয় না। আর তাই হলো, অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দুটি গোলেই অসামান্য অবদান রয়েছে জাদুকর মেসির।
২৮তম মিনিটে জর্ডান পিকফোর্ডের ভুল ক্লিয়ারেন্স থেকে সুযোগ তৈরি হলেও বল নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেননি মেসি। এরপর ৩৩তম মিনিটে ডেকলান রাইসের ফ্রি-কিক থেকে জন স্টোনসের হেড অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। ৩৭তম মিনিটে মেসিকে থামাতে গিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন অ্যান্ডারসন। পাঁচ মিনিট পর দ্রুতগতির কাউন্টার থামাতে রজার্সকে ফাউল করে বুকিং পান লিসান্দ্রো মার্তিনেস। প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনার সেরা সুযোগ আসে ৩৮তম মিনিটে, যখন এনজো ফার্নান্দেজের ২৫ গজ দূরের শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। গোলশূন্য অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের গতি বেড়ে যায়। ৪৮তম মিনিটে হুলিয়ান আলভারেসের শট দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন পিকফোর্ড। ৫৫তম মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোল পায় ইংল্যান্ড। মাঝমাঠে বল কেড়ে নিয়ে মর্গান রজার্স বাঁ দিক থেকে নিখুঁত ক্রস বাড়ান, আর সেখানে দারুণ দৌড়ে এসে কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন।
গোল হজমের পরপরই সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৫৭তম মিনিটে জুলিয়ানো সিমেওনের নিশ্চিত গোল অবিশ্বাস্য স্লাইডিং ট্যাকলে রুখে দেন জেড স্পেন্স। এরপর পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। ৬৯তম মিনিটে মেসির দারুণ ক্রস থেকে নিকো গনসালেসের হেড অসাধারণ সেভে ফিরিয়ে দেন পিকফোর্ড। ৭৭তম মিনিটে আবারও সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে আর্জেন্টিনা। রদ্রিগো দে পলের ক্রসে আলেক্সিস মাক আলিস্তারের ফাঁকা হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ইংল্যান্ডের সমর্থকেরা তখনও ফাইনালের স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু শেষ দশ মিনিটে ম্যাচের রূপ পাল্টে যায়।
৮৫তম মিনিটে এনসো ফার্নান্দেসের জোরালো দূরপাল্লার শট কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন পিকফোর্ড। এক মিনিট পরই আসে সমতার গোল। মেসি মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংল্যান্ড খেলোয়াড়কে কাটিয়ে বক্সের বাইরে এনসোর কাছে বল বাড়ান। চেলসি মিডফিল্ডার এবার কোনো ভুল করেননি; বাঁকানো শটে পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে স্কোরলাইন ১-১ করেন তিনি।
ইংল্যান্ড তখনও অতিরিক্ত সময়ের আশায় ছিল। কিন্তু যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আর্জেন্টিনা শেষ আঘাত হানে। মাক আলিস্তারের শট পোস্টে লেগে ফিরে এলে বল ধরে ডান প্রান্তে চলে যান মেসি। সেখান থেকে নিখুঁত ক্রসে বদলি নেমে আসা লাউতারো মার্তিনেস হেডে বল জালে জড়িয়ে দেন। মুহূর্তেই উল্লাসে ফেটে পড়ে আর্জেন্টিনা শিবির।শেষ সময়ে ইভান টনি ও মার্কাস রাশফোর্ডকে নামিয়ে মরিয়া চেষ্টা চালায় ইংল্যান্ড। কিন্তু আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ রক্ষণ আর এমিলিয়ানো মার্তিনেসের দৃঢ়তায় আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি ইংরেজরা আর আর্জেন্টিনা আদায় করে নেয় ২-১ গোলের নাটকীয় জয়। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও মেসির নেতৃত্বে ঘুরে দাঁড়িয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।
