শামা ওবায়েদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যেহেতু অর্থনৈতিক কূটনীতিতে অত্যন্ত জোর দিচ্ছে, সেই ধারাবাহিকতাতেই আজকের এই রুদ্ধদ্বার সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিরা বিভিন্ন সমস্যা এবং পরামর্শ তুলে ধরেছেন, যা নিয়ে ভবিষ্যতে আমরা অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সাথে কথা বলে সমাধানের দিকে এগিয়ে যাব। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ বিষয়ক উপদেষ্টা বিভিন্ন পলিসি নিয়ে কাজ করছেন। পুঁজিবাজার, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ, কৃষকদের কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড-এসব কিছু নিয়েই তিনি কাজ করছেন। তাই যারা আজকে এসেছিলেন, তাদের এসব বিষয়ে উপদেষ্টার কাছে অনেক প্রশ্ন ছিল এবং তিনি সেগুলোর উত্তর দিয়েছেন।বিনিয়োগ নিয়ে সমস্যাগুলো কী কী জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমস্যা তো বিভিন্ন ধরনের আছেই। বিনিয়োগকারীদের সমস্যা আছে, আবার ধরুন যেসব বাংলাদেশি বিদেশে থাকেন এবং দেশে বিনিয়োগ করতে চান, তাদেরও এক ধরনের সমস্যা আছে। আপনাদের বুঝতে হবে যে, বিএনপি উত্তরাধিকার সূত্রে একটি পঙ্গু অর্থনীতি পেয়েছে। গত ১৭ বছরে যেভাবে ব্যাংকিং খাত ধ্বংস হয়েছে, পুঁজিবাজার ধ্বংস করা হয়েছে। পুরো সিস্টেমকে ধ্বংস করা হয়েছে, সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থা থেকে অর্থনীতিকে আবার তুলে এনে একটি গতিশীল অর্থনীতিতে রূপান্তর করার জন্য যেসব নীতি বা পদক্ষেপ নেওয়া দরকার, সরকার এখন সেগুলোই নিচ্ছে। তিনি আরো বলেন, আমাদের যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, তা এই উদ্যোগের প্রথম ধাপগুলোর একটি। আমাদের সৃজনশীল অর্থনীতি, সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চল, তৈরি করা হয়েছে। বিদেশিরা সেখানে সহজে বিনিয়োগ করার জন্য কী কী ধরনের সুবিধা, প্রয়োজন এবং আমাদের প্রক্রিয়ায় কী কী পরিবর্তন আনতে হবে—মূলত এসব ব্যাপার নিয়েই আলোচনা হয়েছে।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট এখানে মূল বিষয় নয়, কারণ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি এই কাজটি করবে না। এটি মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কাজ। যখন আপনি শিক্ষা সংস্কারের কথা বলবেন, তখন শিক্ষা মন্ত্রণালয় আসবে; তেমনি অর্থ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়— এগুলো তখন গুরুত্ব পাবে। সেই অনুযায়ী বরাদ্দ রেখেই বাজেটটি দেওয়া হয়েছে।