রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

আপনাদের ভালোবাসা ও সংহতিই আমাদের শক্তি : জনাব তারেক রহমান

বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে বাংলাদেশ সরকার ঘোষিত রাষ্ট্র্রীয় শোক সমাপ্ত হওয়ার পর জনাব তারেক রহমান সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে দেওয়া ফেইসবুক পোষ্টে এই কথাটি বলেছেন।

সম্পাদকের ডেস্ক

ফাইল ফটো – জনাব তারেক রহমান

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন এবং বাংলার জনগণের আপসহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষ হওয়ার প্রাক্কালে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক  শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরী জনাব তারেক রহমান পুরো দেশ ও জাতির উদ্দেশ্যে একটি অত্যন্ত আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন। আজ শনিবার ৩ জানুয়ারি নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে একটি পোষ্ট দিয়ে জনাব তারেক রহমান জাতির উদ্দেশ্যে বার্তাটি দেন। তিনি বলেছেন, তাঁর মরহুমা মায়ের সমগ্র দেশে দল মত নির্বিশেষে যে একটি বহুমাত্রিক অবস্থান রয়েছে সেটা তিনি তাঁর (বেগম খালেদা জিয়া) ইন্তেকালের পর যথাযথভাবে হৃদয়ঙ্গম করতে পেরেছেন। তিনি তাঁর মায়ের ঐতিহাসিক জানাজা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদিত হওয়ার জন্য মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এই কঠিনতম সময়ে তাঁর পরিবারের পাশে থাকার জন্য দলীয় নেতাকর্মী সহ দেশের আপামর জনসাধারণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, আপনাদের ভালোবাসা ও সংহতি আমাদের সান্ত্বনা ও শক্তি জুগিয়েছে, আর আমরা তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আগামীর বাংলাদেশে বয়ে নিয়ে চলব, ইনশাআল্লাহ।

নিচে তাঁর ফেইসবুক পোষ্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো –

“মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক সমাপ্ত হয়েছে। এই সময় দেশজুড়ে এবং বিদেশে অবস্থানরত শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভালোবাসা, সমবেদনা ও দোয়া আমাদের পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। এই তিন দিনে আমরা আরও উপলব্ধি করেছি, আমার মা ভিন্ন-ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন-ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন; অনেক ক্ষেত্রে তা ছিল এতটাই অর্থবহ, যা হয়তো আমরা নিজেরাও পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারিনি।

অনেকের কাছে তিনি ছিলেন আপোষহীনতার প্রতীক; নিজের বিশ্বাসের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়ানোর অটল প্রেরণা। রাজনীতির গণ্ডি ছাড়িয়ে এই প্রেরণা বহু দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে; পরিচয়, আদর্শ ও অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে অগণিত মানুষকে স্পর্শ করেছে।

আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। তাঁদের নেতৃত্ব ও দ্রুত সমন্বয়ের কারণেই স্বল্প সময়ের মধ্যে এই বিরল ও সম্মানজনক অন্তিম আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও আমাদের প্রতিবেশী ও বন্ধু রাষ্ট্রসমূহ, দেশ-বিদেশের নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিকবৃন্দ এবং বিশ্বের নানা প্রান্তের অংশীদারদের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। বিভিন্ন দেশের সরকারপ্রধানদের সহমর্মিতা ও সংহতি আমাদের হৃদয়কে গভীরভাবে আলোড়িত করেছে। জানাজায় বিভিন্ন দেশের সম্মানিত ব্যক্তিদের উপস্থিতি, সমবেদনার চিঠি ও বার্তা, শোক বইয়ে লেখা কথা, সামাজিক মাধ্যমে অগণিত অনুভূতির প্রকাশ, বাংলাদেশে অবস্থিত মিশন ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি — এই প্রতিটি সম্মাননাই ছিল অভূতপূর্ব।

আমি আবারও কৃতজ্ঞতা জানাই সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং প্রশাসন ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি সদস্যকে। মায়ের শেষ বিদায়ে আপনাদের দায়িত্ববোধ ও শ্রদ্ধাঞ্জলি জিয়া পরিবারকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে।

এই শোকের দিনগুলো যেন মর্যাদা ও সম্মানের সঙ্গে সম্পন্ন হয়, সে জন্য যাঁরা ভূমিকা রেখেছেন, তাঁদের সবার প্রতিই আমরা কৃতজ্ঞ। বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে। তাঁদের সম্মানসূচক গার্ড অব অনার ও শেষ সালাম আমার মায়ের জীবন ও অবদানের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে। তাঁকে সমাধিতে পৌঁছে দিয়ে তাঁরা জাতির শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন এবং অন্তিম যাত্রাকে প্রাপ্য সম্মানে আলোকিত করেছেন।

এ কথাও স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, আরও অনেক মানুষ, যাঁদের নাম বা ভূমিকা হয়তো আলাদাভাবে উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি, তাঁরা নীরবে ও নির্মোহভাবে এই পুরো প্রক্রিয়াকে সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করেছেন। পর্দার আড়ালে বা জনসম্মুখের বাইরে থেকে দায়িত্ব পালনকারী সকলের প্রতি রইল আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আলহামদুলিল্লাহ, আপনাদের প্রচেষ্টাতেই আমাদের পরিবার ও জাতি মর্যাদার সঙ্গে মায়ের স্মৃতিকে ধারণ করতে পেরেছে।

সবশেষে, বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমার গভীর অভিবাদন। দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে এত মানুষের সমবেত হয়ে দেশনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দৃশ্য আমাদের পরিবার কখনোই ভুলবে না। এই শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ উপস্থিতি গণমানুষের সহমর্মিতা ও মানবিক আবেগেরই প্রতিফলন।

আমাদের পরিবার এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির পক্ষ থেকে, শোক ও স্মরণের এই সময়ে যাঁরা আমাদের পাশে ছিলেন, তাঁদের সবাইকে আবারও আন্তরিক ধন্যবাদ। আপনাদের ভালোবাসা ও সংহতি আমাদের সান্ত্বনা ও শক্তি জুগিয়েছে, আর আমরা তা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে আগামীর বাংলাদেশে বয়ে নিয়ে চলব, ইনশাআল্লাহ।”

সম্পর্কিত খবর

মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক রইসুল হক বাহারের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল

মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক রইসুল হক বাহারের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। একাত্তরের এই গেরিলা যোদ্ধা ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। কৈবল্যধাম...

দুই-তিন দিন ধরে জ্বর থাকলে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করানো উচিত : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম : ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, শুধু মশক নিধন কার্যক্রম...

ঢাবিতে সাধারণ ছাত্রদের প্রতিবাদ : জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি পদদলিত

ছবি : সংগৃহীত   ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের...

মাদার তেরেসা অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত চট্টগ্রাম জেলা নাজির আরিফ হোসেন

চট্টগ্রাম : মাদার তেরেসা পিস অ্যাওয়ার্ড-২০২৬ পদকে ভূষিত হয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপসহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা (জেলা নাজির) আরিফ হোসেন। মাদার তেরেসার ১১৬তম জন্মবার্ষিকী...

স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ পাঠ্য পুস্তকে

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে তার তৎকালীন ঐতিহাসিক একটি ডায়েরির ছবিও বইয়ে যুক্ত...

সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ সময় : চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর ডেঙ্গুর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ সময় হওয়ায় এসময়ে মশক নিধন ও জনসচেতনতা...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত