বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কক্সবাজার–১ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, শেখ হাসিনা এখন তার নিজস্ব স্থান দিল্লীতে আশ্রয় লাভ করেছে। আওয়ামী লীগ হচ্ছে ভারতীয় দল, এরা ভারতীয় সেবাদাস সরকার ছিল। এরা কখনো বাংলাদেশকে স্বাধীন সত্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তারা প্রকৃতপক্ষে এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছে। এরা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে আঘাত দিয়েছে, আলেম সমাজের ওপর নির্যাতন করেছে এবং আলেমদের হত্যা করেছে। এরা মূলত ইসলামবিদ্বেষী সরকার ছিল। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার পিতা উভয়ই বাংলাদেশের গণতন্ত্র হত্যাকারী। তারা দুজনেই একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ও এক ব্যক্তির স্বৈরতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
গতকাল মঙ্গলবার সকালে কক্সবাজারের চকরিয়ার পঁহরচাদা কমিউনিটি সেন্টারে বিএনপি আয়োজিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনা সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করে দীর্ঘ পনের/ষোল বছর এদেশে একনায়কতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। ফলাফল ছাত্র–জনতার গণ–অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পতন। সালাহউদ্দিন আরো বলেন, আওয়ামী লীগ রাতের অন্ধকারে শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালিয়েছিল এবং নিরীহ মাদ্রাসা ছাত্রদের হত্যা করেছিল। এভাবেই আওয়ামী লীগ এদেশের গণমানুষের বিপক্ষে দাঁড়িয়েছিল। ফলস্বরূপ আওয়ামী লীগ এদেশ থেকে চিরতরে উৎখাত হয়েছে। সুতরাং আগামীতে কি রকম বাংলাদেশ হবে, জনগণ সেটা ইতিমধ্যেই বলে দিয়েছে। পঁহরচাদা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম মাওলানা ফরিদ আহমদ আজিজির সভাপতিত্বে এতে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক, সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলী, পঁহরচাদা সাংগঠনিক ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নাছির উদ্দিন হায়দার, উপদেষ্টা জালাল আহমদ সিকদারসহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
জনাব সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়া আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তিনি এই দেশের মানুষের অন্তরে রয়ে গিয়েছেন। যে জাতি তার অবদান রাখা মানুষদের স্মরণ করে, সম্মান করে কাজ করে তারা কখনো দুর্বল হয় না। এদেশের নারী সমাজের শিক্ষা বিস্তারে তিনি অবদান রেখে গিয়েছেন। তিনিই ছাত্রীদের উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছেন। এই দেশের গণতন্ত্র বিকশিত এবং সুদৃঢ় হয়েছে তাঁর হাত ধরেই।
