বৃহস্পতিবার রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া খেলার মাঠে (উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম) নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ভোটারদের উদ্দেশে বলেছেন, যাঁর যাঁর এলাকার ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। কারণ, অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে এই ভোট নিয়ে। আগে যে তথাকথিত ভোট হয়েছিল, নিশিরাতে নির্বাচন হয়েছিল, এবারও কিন্তু ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তিনি রাত ১০টার দিকে জনসভাস্থলে পৌঁছান। এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়টি সংসদীয় আসনের দল মনোনীত প্রার্থীরা বক্তব্য দেন। বিকেল চারটায় কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে জনসভার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
জনসভায় তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখে যে নির্বাচন, সে নির্বাচনে আমরা সকলে সেই অধিকারটি প্রয়োগ করব। আপনারা আপনাদের রাজনৈতিক ভোটের অধিকার প্রয়োগ করবেন। কী সেই রাজনৈতিক অধিকার? সেই রাজনৈতিক অধিকার হচ্ছে, আপনারা আপনাদের ভোটের অধিকার প্রয়োগ করবেন। যেই অধিকারটি গত ১৫ বছর আপনাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। শুধু ভোটের অধিকারই কেড়ে নেওয়া হয় নাই, একই সঙ্গে মানুষের কথা বলার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।’

জনাব তারেক রহমান বলেন ‘গত ১৫ বছর এমন কোনো নির্বাচনী জনসভা দেখেছেন? গত ১৫ বছরে কেউ ভোট দিতে পেরেছেন? কি পেরেছেন? পারেননি। কিন্তু এই আজকে যে ভোট হতে যাচ্ছে, আগামী কয়েক দিন পরে ১২ তারিখে যে ভোট হবে আমাদের বাংলাদেশের মানুষের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে, বহু মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছে। এই ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অন্তত ১৫ জন মানুষ শহীদ হয়েছে। আরও শত শত মানুষ বিভিন্ন রকমভাবে আহত হয়েছেন।
উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘কখন যাবেন ভোট দিতে? সকালে গেলে হবে না। সব ভোটকেন্দ্রে, যাঁর যাঁর এলাকার ভোটকেন্দ্রের সামনে ফজরের নামাজ আদায় করবেন। তাহাজ্জুতের সময় উঠতে হবে এবার। পারবেন? কারণ, অনেক ষড়যন্ত্র হচ্ছে এই ভোট নিয়ে। আগে যে নির্বাচন তথাকথিত ভোট হয়েছিল, আবু-ডাবু নির্বাচন হয়েছিল, নিশিরাতে নির্বাচন হয়েছিল, এবারও কিন্তু ভোট নিয়ে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। পত্রিকার পাতায় খবর এসেছে, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়াতে খবর এসেছে, দেখেছেন না বিদেশে যে আমাদের ভাইয়েরা আছেন, যাঁরা প্রবাসীরা আছেন, তাঁদের জন্য ব্যালট পেপার পাঠানো হয়েছে। কীভাবে একটা দল সেই ব্যালট পেপারকে দখল করেছে, দেখেছেন। তাদের এই ষড়যন্ত্র দেশের ভেতরেও চলছে। এই জন্যই বলছি, তাহাজ্জুতের নামাজ পড়তে হবে। ভোররাতে উঠে তাহাজ্জুতের নামাজ পড়ে তারপর ঘর থেকে বের হবেন। যাঁর যাঁর ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ওইখানে দাঁড়িয়ে ফজরের নামাজ আদায় করতে হবে। এত মানুষ পারবেন, তাহলে বিজয় সুনিশ্চিত।’
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর-বিজয়নগর) আসনের বিএনপির প্রার্থী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল। সঞ্চালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিএনপি ও বিএনপি সমর্থিত জোটের প্রার্থীবৃন্দ।
