“তারেক বসন্ত” – বাংলাদেশ নতুন গণতন্ত্রে উত্তরণের পথে
আর কয়েকদিন পরেই জানুয়ারি মাস শেষ হয়ে ফেব্রুয়ারি মাস শুরু হবে। খৃষ্টীয় ২০২৬ ইংরেজি সালের বাংলাদেশের ইতিহাসে বিশাল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে। কারণ দীর্ঘ ১৮ বছর পর এই ২০২৬ সালেই বাংলাদেশে আবার জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, বাংলাদেশ আবার তথাকথিত উন্নয়নের গণতন্ত্রের মোড়কে মোড়ানো স্বৈরতন্ত্র হতে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরতে চলেছে। আর এই ২০২৬ সাল বাংলাদেশকে উপহার দিতে চলেছে বাংলার ইতিহাসের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ফেব্রুয়ারি মাস। প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ফেব্রুয়ারি মাসটি এসেছিলো ৭৪ বছর পূর্বে ১৯৫২ সালে অত্যন্ত শোকাবহ হয়ে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বাংলার তরুণ – তরুণীরা বুকের তাজা রক্ত রাজপথে ঢেলে দিয়েছিলো মাতৃভাষার সম্মান রক্ষায়। তবে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসটি হবে আনন্দের। কারণ ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহুল আকাঙ্খিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, যার মাধ্যমে বাংলাদেশ আবার গণতন্ত্রের অক্ষে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। আবার এই ফেব্রুয়ারি মাসেই আগমন ঘটতে যাচ্ছে ঋতুরাজ বসন্তের। তবে এবারের বসন্ত কোনো সাধারণ বসন্ত হয়ে আসছেনা। এবারের বসন্ত ইতিহাসে লিখিত হয়ে থাকবে “তারেক বসন্ত” নামে।
পাঠক প্রশ্ন করতেই পারেন, কেনো এই নামকরণ? বাংলার ছয় ঋতুর মধ্যে সবচাইতে সুন্দরতম ঋতু হচ্ছে বসন্ত। আর তাই যখন কারো জীবনে ভালো বা সুন্দর কিছু ঘটে বা ঘটতে যায় তখন আমরা বলি “জীবনে বসন্ত এসেছে”। আর এই বসন্তেই বাংলাদেশে দায়িত্ব নিতে চলেছে একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার। এবং অধিকাংশ বিশ্লেষকদের মতেই দেশের শাসন পদ্ধতিকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রুপান্তরের কঠিনতম কাজটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের হাত ধরেই সংগঠিত হবে। প্রশ্ন উঠতেই পারে, কিভাবে?
জনাব তারেক রহমান বাংলাদেশে ফিরে আসার দিন থেকেই তাঁর পক্ষে বিপুল জনসমর্থন সৃষ্টি হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। সেটা তাঁর ফিরে আাসার দিনে হওয়া জনসংযোগ সভা হতে এখনো পর্যন্ত তিনি যেকয়টি নির্বাচনী জনসভায় অংশগ্রহণ করেছেন সেগুলোতে ব্যাপক থেকে ব্যাপকতম জনসমাগম হতেই ধারণা করা যায়। এছাড়াও তিনি তরুণদের সাথে যেকয়টি বৈঠক করেছেন সেগুলোতে তরুণদের অংশগ্রহণ এবং প্রশ্নের ধরণ থেকেই তাঁর জনপ্রিয়তা সম্বন্ধে বুঝতে পারা যায়। এমনকি জনাব তারেক রহমান দেশে ফেরার পর দল হিসেবে বিএনপির ভাবমূর্তি বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে বা উন্নত হয়েছে। যেটা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং প্রচলিত গণমাধ্যম সমূহে প্রকাশিত নির্বাচন বিষয়ক প্রতিবেদন হতে বুঝতে পারা যায়। যারা এতোদিন বিএনপির অকারণ বদনাম করছিলো তাদের সকলের গলার স্বর এখন নিম্নগামী। প্রশ্ন উঠতে পারে দীর্ঘ ১৭ বছর পর একজন মানুষ দেশে ফিরে এসে এই অল্প কয়েকদিনেই এটা কিভাবে সম্ভব করলেন? তাঁর হাতে কি জাদুর কাঠি আছে? আসুন এবার এই বিষয়েই আলোকপাত করা যাক।
না, জনাব তারেক রহমানের হাতে জাদুর কাঠি নেই। তবে উনার শরীরে আছে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ও বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের জন্য পুরো বিশ্বের অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব আমাদের আপসহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রক্ত। এই রক্তের টানেই তিনি উন্নত বিশ্বের আরামদায়ক নিরাপদ জীবন ছেড়ে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন দেশ মাতৃকার সেবা করতে। উনার শরীরে প্রবাহিত রক্তের কারণেই তিনি বাংলাদেশের জনগণের কাছে দায়বদ্ধ দেশকে আবার সঠিক রাস্তায় ফিরিয়ে আনার জন্য। এবং তিনি যে তা করতে শত শতাংশ সক্ষম সেটা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়ে গেছে। প্রশ্ন উঠতে পারে কিভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আমাদেরকে তিনি দেশে ফিরে আসার পর যেকয়টি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন বা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন সেগুলোর উপর আলোকপাত করতে হবে। চলুন এবার সেটাই করা যাক।
১. জনাব তারেক রহমান দেশে ফিরেই বলেছেন, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’। তাঁর এই আত্নবিশ্বাসী উচ্চারণই তাঁকে নির্বাচনী মাঠে এক ধাক্কায় অনেকদূর এগিয়ে দিয়েছে।
২. তিনি তরুণদের সাথে বিভিন্ন বৈঠকে মিলিত হচ্ছেন এবং তরুণদের কথা মন দিয়ে শুনছেন এবং তাদের প্রশ্নের উত্তরও দিচ্ছেন। তিনি তরুণদের বলেছেন, ‘আপনারা বলবেন, আমরা বাস্তবায়ন করবো’। তিনি বলেছেন সকল নিয়োগ হবে মেধার মাপকাঠিতে। তরুণদের উদ্দেশ্যে এমন স্পষ্ট বার্তা এখনো পর্যন্ত অন্য কেউ দিতে পারেনি। নিঃসন্দেহে এই মূহুর্তে জনাব তারেক রহমানই বাংলার তরুণ সমাজের “আইকন”।
৩. তিনি কাউকে জান্নাতের টিকিটের নিশ্চয়তা দেননি, কিন্তু ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
৪. তিনি ধর্মের দোহাই দিয়ে বা ঈমান নষ্ট হওয়ার ভয় দেখিয়ে কারো কাছে ভোট চাননি। তিনি বলেছেন উন্নয়ন ও গণতন্ত্র চাইলে আমাদের নির্বাচন করুন।
৫. তাঁর উদ্ভাবিত স্লোগান ‘দিল্লি নয়, পিন্ডি নয়, নয় অন্য দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ ‘ নিঃসন্দেহে বহুধা রাজনৈতিক মতবাদে বিভক্ত এই দেশে দেশপ্রেমিক জাতীয়তাবাদী শক্তির মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করেছে।
৬. সিলেটে প্রথম নির্বাচনী জনসভায় তিনি দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সামাজিক, অর্থনৈতিক, আইনশৃঙ্খলা, কর্মসংস্থান, বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, বৈদেশিক বিনিয়োগ, মানব সম্পদ রপ্তানি সহ দেশের প্রত্যেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত সমন্ধে নিজের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন। এইরকম সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবারের নির্বাচনী প্রচারণায় এখনো কেউ উপস্থাপন করতে পারেনি।
৭. চট্টগ্রামের জনসভায় তিনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং দূর্ণীতিকে সমূলে উৎপাটন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি তরুণদের কর্মসংস্থানের জন্য আরো ইপিজেড করার মাধ্যমে চট্টগ্রামকে প্রকৃত বাণিজ্যিক রাজধানী করার ঘোষণা দিয়েছেন। ময়মনসিংহের জনসভায় তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ সমূহের মোক্ষম জবাব দিয়েছেন এবং দেশে বেকারত্বের সমস্যার সমাধানের ঘোষণা দিয়েছেন।
৮. তিনি ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার মতো কোনো বায়বীয় ঘোষণা দেননি, তিনি তাঁর পরিকল্পনা সম্বন্ধে সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন।
৯. বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গণভোটের বিষয়সমূহ তিনি অনেক আগেই তাঁর বিখ্যাত ৩১ দফায় ঘোষণা করেছেন।
১০. তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন ১৯৭১ এর তাৎপর্য সম্পূর্ণভাবে আলাদা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সমকক্ষ অন্য কিছুই নেই। তিনি দেশে ফেরার পর মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অশ্রদ্ধা বা অসম্মান করা বন্ধ হয়ে গেছে। জনাব তারেক রহমান দেশে আসার পর নারীকে অসম্মান ও অশ্রদ্ধা, বাঙালি সংস্কৃতির উপর আক্রমণ এবং মব কালচার বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছে। আশা করা যায় তাঁর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হলে এগুলো সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।
নিঃসন্দেহে উপরের বিষয়গুলো জনাব তারেক রহমানকে বাংলাদেশের অন্যান রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চাইতে সুস্পষ্টভাবে আলাদা করেছে এবং সামনের দিনগুলোতে উনার জনসমর্থন আরো বাড়তে থাকবে। এখন আমাদের সবার উচিত উগ্রবাদী ও ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতিকে প্রত্যাখান করে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ এবং আবহমান বাঙালি সংস্কৃতি রক্ষা করার জন্য আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট কেন্দ্রে লাইন ধরে নিজের মহামূল্যবান ভোটাধিকার বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী শক্তির পক্ষে প্রদান করে আসন্ন “তারেক বসন্ত” এর সুফল উপভোগ করার জন্য নিজেদের প্রস্তুত করা।
শিশির পারিয়াল
প্রকাশক ও ব্যবস্থাপনা সম্পাদক
চট্টগ্রাম মেইল
