স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা জামায়াতকে সমর্থন করতে পারি না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মহাসচিব জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার ৫ ফেব্রুয়ারি বিকেলে নিজের সংসদীয় আসন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের বড়গাঁও আলিম মাদ্রাসা এলাকায় নির্বাচনী সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে আমরা কি জামায়াতে ইসলামীকে সমর্থন করতে পারি? আমি আপনাদের কাছে পরিষ্কার জানতে চাই- পারি? পারি না ভাই। এটা হচ্ছে নৈতিকতার প্রশ্ন, আমার দেশ বাংলাদেশ, আমি স্বাধীন দেশে বিশ্বাস করি। তিনি বলেন, এই দেশকে যে বিশ্বাস করে না সে আমার দেশের উন্নতি করবে কেমন করে? তারা তো এই দেশটাকেই বিশ্বাস করে না। আমরা সেজন্য পরিষ্কার করে বলতে চাই- আমরা জামায়াতে ইসলামীকে এ জন্যে ভোট দেব না। জামায়াতে ইসলাম বিশ্বাসযোগ্য নয় কারণ তারা আমাদের স্বাধীনতা- সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে রক্ষা করতে পারবে কি পারবে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, জামায়াতকে আগে দেখছেন আপনারা? আমরা দেখছি। আমরা স্বাধীনতার আগেও জামায়াতকে দেখছি, তার আগে আমাদের বাবা-চাচারা দেখছে। আমার আব্বা মির্জা রুহুল আমিন চোখা মিয়া প্রায় সময় বলতেন— জামায়াত থেকে সাবধানে থাইকো। আমি বলতাম কেন- তিনি বলতেন, জামায়াত একটা মুনাফেক দল। কথা বলে এক রকম, কাজ করে আরেক রকম।
তিনি বলেন, জামায়াত পাকিস্তান আন্দোলনে সমর্থন করে নাই। এটা সত্য কথা, ইতিহাসের কথা। আবার ১৯৭১ সালে আমরা যখন স্বাধীনতার যুদ্ধ শুরু করলাম তখন তারা বিরোধীতা করল, আমার স্বাধীনতার বিরোধীতা করল। বলল- পাকিস্তান ভাঙার কোনো দরকার নাই। পাকিস্তান কি আমরা ভাঙছি স্বাদে? পাকিস্তানিরা যখন আমাদের ওপর অত্যাচার শুরু করছে, আমাদের গুলি করে মারতে শুরু করছে- তখনি না আমরা যুদ্ধ করে পাকিস্তান ভাঙছি। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী আমার দেশের লোককে গুলি করে হত্যা করছে, ৩০ লাখ মানুষকে হত্যা করছে। ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রম নষ্ট করছে। সেসময় জামায়াত পাকিস্তান বাহিনীকে সমর্থন করেছে।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটটা আমার দেশের স্বাধীনতাকে, গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য একটা বড় সুযোগ এসেছে। সেই সুযোগটাকে আমরা কাজে লাগাতে চাই। বক্তৃতা শেষে জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত সকলের কাছে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চান। নির্বাচিত হলে সারের সংকট দূর করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দেন।
