শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

সেমি ফাইনালে ফ্রান্স হয়ে গেলো শক্তিহীন : অনায়াস জয়ে ফাইনালে স্পেন

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্পেন ২ : ০ ফ্রান্স 

টুর্নামেন্টে সেরা আক্রমণভাগ ছিল ফ্রান্সের। সেরা রক্ষণ স্পেনের। ডালাসে গতকাল রাতের উভয়ের লড়াইয়ে বিজয়ী হলো স্পেনের রক্ষণভাগ। হঠাৎই বিবর্ণ হয়ে পড়লেন কিলিয়ান এমবাপ্পেরা। এই বিশ্বকাপে নিজেদের সেরা ফুটবল খেলে দুই অর্ধে দুই গোল দিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে গেল স্পেন।

প্রথমার্ধে ২২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে মিকেল ওইয়ারসাবালের গোলের পর ৫৮ মিনিটে পেদ্রো পোরোর গোলে স্পেনের জয়ের ব্যবধান ২–০। অফসাইডের কারণে ৬৪ মিনিটে লামিনে ইয়ামালের গোল বাতিলও হয়েছে। এই নিয়ে টানা তিন সেমি-ফাইনালে ফ্রান্সকে হারাল স্পেন। আগের দুইবার- ২০২৪ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে ও ২০২৫ সালের উয়েফা নেশন্স লিগে। ২০১০ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা দ্বিতীয়বারের মতো উঠল বিশ্বকাপের ফাইনালে। আগামী রোববার নিউ জার্সির ফাইনালে তারা লড়বে ইংল্যান্ড অথবা আর্জেন্টিনার বিপক্ষে।

ষোড়শ মিনিটে প্রতিপক্ষের একটি আক্রমণ রুখে, দ্রুততায় বল সামনে বাড়ান দেম্বেলে আর বল ধরে ক্ষিপ্রতায় দৌড় দেন এমবাপে। তার ও গোলরক্ষকের মাঝে একমাত্র বাধা তখন পররো, পেছন থেকে পাউ কুবার্সি ও এমরিক লাপোখ্ত‌ ছুটে গিয়ে তিন জন মিলে দলকে বিপদমুক্ত করেন।ওই একটি মুহূর্তে ফ্রান্সের ভয়ানক গতির আভাস মিলল ঠিকই; কিন্তু বাকি সময়ে সেটা কখনোই পূর্ণতা পেল না।

তারকাসমৃদ্ধ দল, ব্যক্তিগত নৈপুণ্যনির্ভর পারফরম্যান্স, এসবের পাশেও আরেকটি দিক ছিল, যেটা প্রথম ছয় ম্যাচে ফ্রান্সকে করে তুলেছিল অজেয়, আর সেটা হলো দলগত পারফরম্যান্স। এদিন এর কোনোটাই দৃশ্যমান হয়নি। বরং সময়ের সঙ্গে তাদের বিবর্ণতাই আরও বেশি করে ফুটে উঠেছে। বরং শেষের কয়েক মিনিটের আগ পর্যন্ত তো ফরাসিদের কোনো প্রচেষ্টা লক্ষ্যেই ছিল না! শেষ কয়েক মিনিটে তাদের কয়েকটি শট ঠিকঠাক লক্ষ্যে থাকলেও, তা কাজেই আসেনি।

এমবাপের ওই শুরুর ব্যর্থ প্রতি-আক্রমণের চার মিনিট পরই ডি-বক্সে অদ্ভূত এক ফাউল করে পেনাল্টি হজম করেন লুকা দিনিয়ে। ডি-বক্সে ডান দিকে উঁচু হয়ে আসা বল ঠিকঠাক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অবস্থায় ছিলেন না লামিন ইয়ামাল, কিন্তু ডিফেন্ডার দিনিয়ে যেন কোনো কিছু না দেখেই ভলি করতে যান এবং মেরে বসেন প্রতিপক্ষের পায়ে। সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি।দারুণ স্পট কিকে বল জালে পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে নেন ওইয়ারসাবাল। আসরে তার গোল হলো পাঁচটি। আর জাতীয় দলের হয়ে তার মোট গোল হলো ৬০ ম্যাচে ৩০টি।

৩৮তম মিনিটে দুর্দান্ত ওয়ান-টাচ স্প্যানিশ আক্রমণের দেখা মেলে। যার শুরুটা অবশ্য হয় মাইক মিয়াঁর ভুল পাসে। ডি-বক্সের মুখ থেকে দানি ওলমোর পাস ডান দিকে পেয়ে ইয়ামাল মাঝে খুঁজে নেন ফাবিয়া রুইসকে; তবে দাইয়ু উপামেকানোর চ্যালেঞ্জে দারুণ পজিশন থেকে লক্ষ্যভ্রষ্ট শট নেন রুইস। চার মিনিট পর আবার তড়িৎ পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করে ফরাসিরা। তবে এমবাপে বল পাওয়ার আগে, সময়মতো ডি-বক্সের অনেকখানি বাইরে এসে ক্লিয়ার করেন উনাই সিমন।

ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য যা করতে হতো, দ্বিতীয়ার্ধেও তেমন কিছু করতে পারেনি এমবাপে-দেম্বেলেরা। তাদের পাশাপাশি মাইকেল ওলিসেও এদিন ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষকে সেভাবে সুযোগই দেয়নি রদ্রি-রুইস-ওলমোরা।

৫৮তম মিনিটে ফরাসিদের লড়াইয়ে ফেরার আশা একরকম শেষই হয়ে যায়। ডি-বক্সের মুখে ওলমোকে বল বাড়িয়ে চোখের পলকে ভেতরে ঢুকে পড়েন পররো, প্রতিপক্ষের বাধায় ঠিকঠাক বলে পা ছোঁয়া দিতে পারেননি ওলমো, তবে সৌভাগ্যবশত বল ঠিকই যায় পররোর কাছে এবং নিখুঁত শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এই রাইট-ব্যাক। একটু পর দারুণভাবে ডি-বক্সে ঢুকে জালে বল পাঠান ইয়ামাল, তবে অফসাইডে ছিলেন তিনি। দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেকের আগে জোরাল কোনাকুনি শট নেন এমবাপে, কিন্তু পা বাড়িয়ে বলের গতিপথ পাল্টে দেন কুকুরেইয়া।

নির্ধারিত সময়ের আট মিনিট বাকি থাকতে সুবর্ণ এক সুযোগ আসে ফ্রান্সের সামনে। তাদের একটি আক্রমণ রুখতে আবারও ডি-বক্সের অনেকটা বাইরে চলে আসেন সিমন; কিন্তু এবার তিনি পারেননি ক্লিয়ার করতে। সেই সময় ফাঁকায় বল পেয়ে যান দেজিরে দুয়ে। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে গোলরক্ষক বিহীন পোস্টেও শট নিতে অনেক দেরি করেন পিএসজির এই উইঙ্গার। পরে পজেশনও হারান তিনি! শেষের কয়েক মিনিটে কিছু ভালো সুযোগ অবশ্য আসে দলটির সামনে। কিন্তু এমবাপে যেমন লক্ষ্যভ্রষ্ট ফ্রি-কিকে হতাশা বাড়ান। হতাশার বশেই কিনা, তিনি মাঝে একবার অহেতুক সিমনকে ফাউলও করেন। অন্তিম সময়ে দেম্বেলে ডি-বক্সে ভালো পজিশনে বল পান; কিন্তু তার শট রুখে দেন ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত খেলা সিমন।

প্রথম সেমিফাইনালে সবার চোখে টুর্নামেন্টের সেরা দল ফ্রান্সের এমন অকল্পনীয় খারাপ পারফরম্যান্স ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক সমালোচক ফ্রান্সকে ছোটো দলের জন্য বড় দল হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। অনেকেই বলছেন গতি ছাড়া এমবাপ্পে ও দেম্বেলের আর কোনো যোগ্যতা নেই। স্পেনের শক্তিশালী আক্রমণভাগ যখন নিচে থেকে ফরাসি স্ট্রাইকারদের জন্য বল আসার সুযোগ বন্ধ করে দেয় তখন এমবাপ্পে – দেম্বেলে জুটির আর কিছুই করার ছিলো না। কারণ ফ্রান্সের স্ট্রাইকাররা নিচে থেকে বল আসলেই সেটা নিয়ে দৌড়াতে পারেন, কিন্তু নিজেদের বল তৈরি করার সামর্থ্য নেই।

সম্পর্কিত খবর

স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ পাঠ্য পুস্তকে

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে তার তৎকালীন ঐতিহাসিক একটি ডায়েরির ছবিও বইয়ে যুক্ত...

‘কর্ষণে বুননে সৃজনে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ‘বিবেক, বিশ্বাস ও মূল্যবোধে দৃঢ় কামরুল হাসান বাদলের অবস্থান স্বতন্ত্র’

‘কামরুল হাসান বাদলের সাহিত্যচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তাঁর জোরালো বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান ও সময়ের প্রতি দায়বদ্ধতা। রাষ্ট্র ও সমাজের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড, অনিয়ম, অসংগতি ও অন্যায়ের...

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সাথে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ

ছবি : সংগৃহীত   ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর ও আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে...

অপরাধ দমন ও মাদক উদ্ধারে বিশেষ অবদানে শ্রেষ্ঠ ওসি পুরস্কৃত হলেন ফরিদা ইয়াসমিন

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন মীরসরাই থানার ফরিদা ইয়াসমিন। এর আগেও তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছিলেন। মঙ্গলবার (...

কক্সবাজারে ট্রেনে যাতায়াতের চাহিদা বাড়ায় যুক্ত হচ্ছে মহানগর এক্সপ্রেস

ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করা মহানগর এক্সপ্রেসকে কক্সবাজার পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে আরও একটি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এটি আগামী...

চট্টগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে উন্নয়ন কাজে গতি আনতে রাতে সরেজমিনে চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় থাকা অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে যাওয়ায় এ পথে চলাচলকারী নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরছে। বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম সিটি...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত