আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা এখন চরমে। পাকিস্তানের সাম্প্রতিক এয়ার স্ট্রাইকের পর তালিবান সরকারের পক্ষ থেকে এসেছে কড়া হুঁশিয়ারি। আফগানিস্তানের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী সিরাজউদ্দিন হক্কানি বলেছেন, “যদি আমাদের বড়রা গুরুতর পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে পাকিস্তানের কোনো চিহ্নই থাকবে না পৃথিবীর মানচিত্রে।” এই মন্তব্যকে অনেকে ‘তালিবানি ফতোয়া’ বলে অভিহিত করছেন, যা সরাসরি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরকে লক্ষ্য করে দেওয়া বলে মনে করা হচ্ছে।
সবকিছু শুরু হয়েছে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে একের পর এক আত্মঘাতী হামলা দিয়ে। রমজান মাসে ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে ভয়াবহ বোমা হামলা, বাজাউরে সেনা পোস্টে আক্রমণ এসবের জন্য পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-কে দায়ী করেছে। ইসলামাবাদের দাবি, এই টিটিপি যোদ্ধারা আফগানিস্তানের মাটি থেকে অপারেশন চালাচ্ছে, এবং তালিবান সরকার তাদের আশ্রয় দিচ্ছে। এর প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তান বিমানবাহিনী নাঙ্গারহার ও পাকতিকা প্রদেশে একাধিক এয়ার স্ট্রাইক চালিয়েছে।
পাকিস্তানের দাবি, এতে সাতটি টিটিপি ক্যাম্প ও আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে, অন্তত ৭০ জন জঙ্গি নিহত হয়েছে। কিন্তু তালিবানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই হামলায় বেসামরিক লোকজন, নারী-শিশুসহ অন্তত ১৮ জন নিহত এবং বহু আহত হয়েছে। ধর্মীয় স্কুল ও বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অভিযোগ।
এই হামলার পর তালিবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা “যথাযথ ও পরিমিত প্রতিক্রিয়া” দেবে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী হক্কানির মন্তব্য এসেছে আরও কঠোর। তিনি বলেছেন, “আমাদের নেতৃত্ব যদি গুরুতর সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে পাকিস্তানের অস্তিত্বই মুছে যাবে।” এই হুমকি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। অনেকে এটাকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান অসীম মুনিরের উদ্দেশ্যে দেওয়া ‘তালিবানি ফতোয়া’ বলছেন। মুনির গত ডিসেম্বরে বলেছিলেন, তালিবানকে বেছে নিতে হবে ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখবে, নাকি টিটিপির সঙ্গে। এখন তালিবানের পালটা হুঁশিয়ারিতে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
আফগানিস্তানের হুমকির প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া এসেছে কড়া। প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছেন, “আফগানিস্তান যদি পরীক্ষা করতে চায়, তাহলে নিজেদের বিপদ ও ধ্বংসের ঝুঁকিতে করবে।” তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান আরও স্ট্রাইক চালাতে দ্বিধা করবে না যদি কাবুল টিটিপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেয়। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারিও বলেছেন, এই অভিযান পাকিস্তানের স্বাভাবিক অধিকার।
