১। যুদ্ধজয়ের উপভোগ
ভয় আর শঙ্কায় মনের ভেতরটা নিঃশব্দ স্তব্ধতা,
মনে হচ্ছে যেন নিঃস্তরঙ্গ পুকুর।
কচুরিপানার মতো ভাসতে ভাসতে চলে সারি ধরে;
সীমান্তের ওপারে গন্তব্য সবার।
কারো মুখে কথা নেই,শুধু শব্দ ওঠে পায়ে চলার।
এসব কথা কী করে ভুলে কামাল-মনোজ? তাছাড়া
সময় পরম্পরায় পার হয়ে গেছে সময়, চেহেরায় তো
বোঝা যায় বয়সটা কোথায় থেমে আছে!
সেদিনের অনেকেই কালের নিয়মে সখ্যতা করেছে
মৃত্যুর সাথে।যারা বেঁচে আছে কদাচিৎ
কখনো কোনদিন দেখা হলে কোথাও,মুখোমুখি বসে
যুদ্ধদিনের সেই স্মৃতির পালকগুলো ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখে।
দলবদ্ধ সঙ্গীদের হাতে ইয়োথ ক্যাম্পের প্রথম পত্তন।
নিয়ম-কানুন গুছানো শেষে সঙ্গবদ্ধ প্রস্থান
প্রশিক্ষণ শিবিরে।সম্পন্ন প্রস্তুতি,সবাই-ই মৃত্যুকে আর
জীবনটাকে এক সঙ্গে নিয়ে পা বাড়ালো যুদ্ধষাত্রায়।
মৃত্যু কয়েকবার কাছে এসেও জীবনটাকে ফিরিয়েই
দিয়ে-দিয়ে গেলো যুদ্ধজয়ের উপভোগে।
২। ঊর্ধশির মানুষেরা এখন ক্লান্ত-শ্রান্ত
ঊর্ধশির মানুষ ইদানিংকালে বিরল প্রজাতির মতো;
হয়তো বা আছে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আনাচে-কানাচে।
হয়তো বা কোথাও পারিতোষিকতার ছায়া-অন্ধকারে
লেপ্টে-চাপ্টে নিজের মধ্যে নিজেই যেন সময় কাটায়।
না-না ওরা কেউ কিন্তু দলদাস নয়,লক্ষ্যভ্রষ্ট অসহায়।
ওদেরও বিবেক আছে,বুদ্ধি আছে,আছে মন।আছে
শুদ্ধচিন্তক হিসেবে মনের গভীরতা।এখন কিছুই নেই।
কারো সাথে কারো ঐক্যতাও নেই।নাম জানলেও কেউই
পরিচয় সূত্রে পরিচইত নয়।ওরা চোখে দেখে কানে শোনে
ওটাই ওদের শ্রেণিস্বার্থগত সুবিধাবাদের প্রাকস্তর।
দেশ ও রাষ্ট্রের উৎসমূলে যাঁরা অংশীদারিজন,প্রকৃত
রাষ্ট্র ক্ষমতায়নে ঘটক-অনুঘটক,তারাই তো মানুষ।
ওরাইতো ঊর্ধশির;যারা এখন ক্লান্ত-শ্রান্ত অবহেলিত।
৩। যন্ত্রনার প্রপাত
(প্রয়াত কবি খালিদ আহসানকে)
হঠাৎ কিছু নয়,নিশ্চিত সময় বিধির বিধান মানিয়েই
মিতে হলো বৈ কি।আক্ষেপ থাকবেই মানুষের মধ্যে,আর কিছুকাল থাকতো যদি খেলার ছলে।নিজের ভেতর
তৈরি করা বসতবাড়ি,আলোরচ্ছ্বটায় রঙিন হতো।
সেদিন সন্ধ্যা নেমেছিলো সন্তর্পনে পায়ে পায়ে আর এক
অব্যক্ত যন্ত্রনার প্রপাত আছড়ে পরেছিলো স্ত্রী-কন্যার উপর।
দেখতে দেখতে হাসতে হাসতে চোখের সামনে
আলোরচ্ছ্বটা নিবে গেলো।ভাবতে গেলে হৃদয় জুড়ে
হাহাকারের ফানুস ওড়ে। চারিদিকের মানুষগুলোর
মনের কোণে জমে থাকা স্মৃতিগুলো উচ্ছলে ওঠে।
যদ্যপি ভালোবাসা ছিলো মানুষের সাথে,একাকিত্বে
নিজের সাথে,কন্যা-জায়ারা এক সুতায় বাঁধা।ছিলো
প্রকৃতি-প্রেমে মশগুল।হাতের টানে অবয়ব।
প্রচ্ছদে প্রচ্ছদে প্রাণ খুঁজেপায় সে সব হাতের রেখা।
নিজের কবিতায় প্রেম ও প্রকৃতি,মিলেমিশে হাওয়ায়
ভাসতে
ভাসতে নিগূঢ় বন্ধনে আলাদা মাত্রা এনে দেয়।
এখানেই তুমি স্বতন্র,সে নিয়েই প্রস্হান চিরচেনাপথে।
