ইরানের শাসক গোষ্টীর জন্য বিরাট ধাক্কা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের বিমানবাহিনী তেহরানে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর একটি গোপন ভূগর্ভস্থ কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। খবর অনুসারে, এই হামলায় ৫০-এর বেশি উচ্চপদস্থ আইআরজিসি অফিসার নিহত হয়েছেন। তারা আগামী দিনগুলোয় ইজরায়েল এবং মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার পরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন বলে সূত্রের দাবি। যুদ্ধের শুরু থেকেই মার্কিন-ইজরায়েলি বাহিনী ইরানের মিসাইল, ড্রোন এবং কমান্ড স্ট্রাকচারকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাচ্ছে। তেহরানের এই ভূগর্ভস্থ সেন্টারটি আইআরজিসি-র গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সাইট ছিল, যেখানে উচ্চপদস্থ অফিসাররা নিরাপদে বৈঠক করতে পারতেন।
হামলাটি স্যাটেলাইট ইন্টেলিজেন্স এবং প্রিসিশন গাইডেড মিসাইল বা বাঙ্কার-বাস্টার বোমা ব্যবহার করে চালানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। সূত্রের খবর, এই হামলায় নিহতদের মধ্যে আইআরজিসি-র বিভিন্ন শাখার সিনিয়র কমান্ডার রয়েছেন। তারা আগামী দিনে ইজরায়েলের উপর মিসাইল বা ড্রোন হামলার পরিকল্পনা করছিলেন। এই ধরনের একটা বড় ক্ষতি ইরানের প্রতিশোধমূলক ক্ষমতাকে অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আইআরজিসি-র অনেক শীর্ষ নেতা যেমন কমান্ডার-ইন-চিফ, ডিফেন্স মিনিস্টার, আর্মড ফোর্সেস চিফ অফ স্টাফ ইতিমধ্যে নিহত হয়েছেন। এই নতুন হামলা সেই ধারাবাহিকতায় আরও বড় ধাক্কা। ইরানের সরকার এখনও এই হামলার বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করেনি, কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়া এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর ছড়িয়ে পড়েছে।
ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্সেস (আইডিএফ) এবং মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ আসেনি, তবে ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স এবং স্যাটেলাইট ইমেজারি থেকে ধ্বংসের ছবি সামনে এসেছে। তেহরানের আকাশে ধোঁয়া এবং বিস্ফোরণের ভিডিও ছড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে মার্কিন – ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়বহ হামলার বিরুদ্ধে ইরান প্রবল পরাক্রমের সাথে এতোদিন লড়াই করে আসলেও আইআরজিসি-র কমান্ড স্ট্রাকচারের এই ক্ষতি তাদের সমন্বয়হীন করে দিতে পারে। তবে অনেকের মতে, এই হামলার মাধ্যমে আইআরজিসির চেইন অফ কমান্ড ধ্বংস হয়ে গেলে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য বিপদ আরো বাড়তে পারে। কারণ তখন বিভিন্ন স্থানীয় সামরিক ইউনিটগুলোর নিয়ন্ত্রণ ভেঙ্গে পড়তে পারে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর উপর হামলার ব্যাপকতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
