ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে গতকালকের ৪০ মিনিটের দীর্ঘ ফোনালাপ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দুই নেতার মধ্যে আলোচনা ছিল অত্যন্ত ফলপ্রসূ এবং এর ফলে ভারত-মার্কিন সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। শিগগিরই বড় কিছু ঘোষণা আসছে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।
সাক্ষাৎকারে সার্জিও গর জানান, আজকের ফোনালাপের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল পশ্চিম এশিয়ার বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী খোলা ও নিরাপদ রাখার গুরুত্ব নিয়ে দুই নেতা বিস্তারিত কথা বলেছেন। ভারতীশ প্রধানমন্ত্রী মোদী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ভারত শান্তি ও অবিলম্বে উত্তেজনা কমানোর পক্ষে। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট। এটি বন্ধ থাকলে শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত গর বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রধানমন্ত্রী মোদীকে ‘অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বন্ধু’ হিসেবে দেখেন। দুই নেতার মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক অত্যন্ত উষ্ণ।
রাষ্ট্রদূত আরও জানান, হরমুজ প্রণালীতে যেকোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপর হস্তক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে এবং তা গ্রহণযোগ্য নয়।এই ফোনালাপ শুধু পশ্চিম এশিয়া নয়, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সবকিছুই ছিল আলোচনার এজেন্ডায়। সার্জিও গর বলেন, “ভারত-মার্কিন সম্পর্ক এখন এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। দুই দেশের নেতৃত্বের মধ্যে যে আস্থা ও বোঝাপড়া গড়ে উঠেছে, তার ফলে শিগগিরই বড় কিছু ঘোষণা আসতে চলেছে।” তিনি ইঙ্গিত দেন যে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং যৌথ প্রকল্প নিয়ে খুব শীঘ্রই ইতিবাচক খবর আসতে পারে। প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারত যেভাবে পশ্চিম এশিয়ার শান্তির আহ্বান জানাচ্ছে, তা বিশ্বমঞ্চে প্রশংসিত হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আলোচনার পর ভারতকে পশ্চিম এশিয়ার শান্তি প্রক্রিয়ায় আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে দেখা যেতে পারে।
