মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত বিনা মূল্যে করার ঘোষণা দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। আজ সোমবার ২৫ এপ্রিল বিকেলে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বাড়ানো হচ্ছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের কোটি নারীকে এর আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া গৃহস্থালির জ্বালানি সুবিধা সহজলভ্য করতে এলপিজি কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।’
কৃষি খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষকদের সহায়তায় কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে এবং কৃষিঋণ মওকুফের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ১২ লাখ কৃষককে ঋণমুক্ত করা হবে। কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে।’
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে এবং নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়ানো হবে। পাশাপাশি বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।’খেলাধুলার উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে জনাব তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ২ মে থেকে পেশাদার খেলোয়াড় তৈরির বিশেষ কর্মসূচি শুরু হবে। প্রথম পর্যায়ে ৫০০ খেলোয়াড়কে প্রশিক্ষণ ও সম্মাননা দেওয়া হবে।’
বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা নির্বাচনের আগে জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছিল সেই গোষ্ঠীই এখন জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীরা নতুন করে দেশ গঠনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে এবং এখনো সেই অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
ষড়যন্ত্রকারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ সরকারের ওপর আস্থা রেখে দায়িত্ব দিয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি অভিযোগ করেন, একটি গোষ্ঠী বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের সহযোগী হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে, তাতে লাভ হবে না। দলের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়েছে। আগামীতেও সংগ্রাম চলবে।জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশে আবার যেন দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা বা হরতালের মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেদিকে সবার নজর রাখতে হবে।বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কোনো জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।