আজ মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ধাপে ধাপে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে এবং আগামী আগস্টে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হওয়ার আশা করা যাচ্ছে। চুল্লিতে জ্বালানি বসানোর পর তাপ উৎপন্ন হবে, যা থেকে বাষ্প তৈরি হয়ে টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে। রূপপুর প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট নির্মাণ করছে রাশিয়ার প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।
জ্বালানি লোডিং কার্যক্রমে উপস্থিত থাকবেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং রুশ পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ। ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হবেন আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রসি।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, জ্বালানি প্রবেশ, পরীক্ষামূলক উৎপাদন এবং ধাপে ধাপে সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে পূর্ণ উৎপাদনে যেতে প্রায় ১০ মাস সময় লাগতে পারে। সময় স্বল্পতার কারণে এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট উপস্থিত থাকতে পারছেন না। তবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এবং রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং শেষ হতে ৪৫ দিন সময় লাগবে। জুলাইয়ের শেষে অথবা আগস্টের শুরুর দিকেই প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। সেই সঙ্গে চলতি বছরের শেষ নাগাদ বা আগামী বছরের শুরুতে প্রথম ইউনিট থেকে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এতে ১২০০ মেগাওয়াট নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ মিলবে।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ১৯৬১ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্প বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নতুন করে গতি পায়। ২০১১ সালে বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার আন্তরাষ্ট্রীয় চুক্তির মাধ্যমে নির্মাণকাজ শুরু হয়। বর্তমানে দুটি ইউনিটের নির্মাণকাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হলেও নিরাপত্তা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জরুরি।
