দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে নিজেকে এবং নিজের মন্ত্রিসভাকে ‘শ্রমিক’ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন জনাব তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘আপনারা যেমন বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করেন, আপনাদের খাতায় আমি আমার নামটি লেখাতে চাই একজন শ্রমিক হিসেবে। আমার মন্ত্রিসভার সদস্যরাও আপনাদের পাশে থেকে শ্রমিক হিসেবে দেশ গড়ার কাজে হাত দেবে।’ আজ শুক্রবার ১ মে মহান মে দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত বিশাল শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। কাকরাইল থেকে ফকিরাপুল মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত এই সমাবেশ একপর্যায়ে জনসমুদ্রে রূপ নেয়। সমাবেশে অংশগ্রহণ করার জন্য দুপুর থেকেই গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদীসহ আশপাশের জেলা থেকে হাজার হাজার শ্রমিক লাল টুপি মাথায় দিয়ে ব্যানার-ফেস্টুনসহ সমাবেশে যোগ দেন।
শ্রমিকদের গুরুত্ব তুলে ধরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ কথা একটাই, কাজ একটাই—সেটি হচ্ছে দেশ গড়া। কেউ কারখানায়, কেউ ইমারত নির্মাণে, কেউ জুটমিলে বা পোশাক শিল্পে কাজ করছেন। আপনারা যেমন ইমারত গড়ে তুলছেন বা উৎপাদন বৃদ্ধি করছেন, ঠিক একইভাবে আপনাদের খাতায় নাম লিখিয়ে আমিও নিজেকে দেশ গড়ার কাজে নিয়োজিত করতে চাই।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনের স্লোগান ছিল—করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। এটিই আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যতের স্লোগান। শ্রমিক ও কৃষকরা ভালো থাকলে তবেই বাংলাদেশ ভালো থাকবে।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে জনান তারেক রহমান বলেন, ‘গত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদের কবলে পড়ে দেশের অর্থনীতি আমদানি-নির্ভর হয়ে পড়েছিল। শিল্প-কলকারখানা ধ্বংস করা হয়েছিল। আমরা ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই বন্ধ কলকারখানা সচল করার উদ্যোগ নিয়েছি।’ তিনি জানান, গত এক মাস আগেই বন্ধ কারখানাগুলো চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং এ সপ্তাহে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক নির্ধারিত আছে। পর্যায়ক্রমে সব বন্ধ কারখানা খুলে দিয়ে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
ঢাকা শহরের হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যানজট নিরসনে হকারদের রাস্তা থেকে সরানো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু তাদের জীবন-জীবিকার কথাও আমাদের মাথায় আছে। হকার ভাইদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে। গতকাল থেকে উত্তর ও দক্ষিণ মহানগরীতে নির্দিষ্ট স্থানে তাদের ব্যবসার ব্যবস্থা করার কাজ শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সবাইকে শৃঙ্খলার মধ্যে এনে পুনর্বাসন করা হবে।’
বিগত সরকারের আমলের দমন-পীড়নের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাত্র দু-তিন বছর আগেও এই রাজপথে সমাবেশ করতে আমাদের আতঙ্কিত থাকতে হতো। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে মানুষ সেই স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে।’ বক্তব্যের শুরুতে তিনি ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০-এর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং বিগত দেড় দশকের আন্দোলনে শহীদ হওয়া শ্রমিকদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শ্রমিক দলের প্রচার সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু।
