মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানকে সরাসরি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি পাকিস্তান সরকারকে বলেছেন, “আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে ইসরায়েলের সঙ্গে সই না করলে আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্বের দাবি করতে পারবে না।” ট্রাম্প পাকিস্তানি নেতাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই চুক্তিতে সই না করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সুবিধা ও সাহায্য সীমিত করে দিতে বাধ্য হবে এবং দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে মূল্যায়ন করবে।
সূত্র অনুসারে, সাম্প্রতিক এক বৈঠকে ট্রাম্প পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বকে এই কঠিন বার্তা দেন। আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো সেই ঐতিহাসিক চুক্তি, যার মাধ্যমে আরব দেশগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। এখন তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে পাকিস্তানকেও এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। পাকিস্তান ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং ফিলিস্তিনের প্রতি তার অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়।দেশটির জনমত ও ধর্মীয় রাজনীতির কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা তাদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি তাই পাকিস্তানের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “পাকিস্তান যদি আমাদের মিত্র হতে চায়, তাহলে তাদেরও আমাদের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে।” ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, আমেরিকা পাকিস্তানকে দেওয়া সামরিক সাহায্য, অর্থনৈতিক সহায়তা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সমর্থন পর্যালোচনা করবে।
বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ দমন, আফগানিস্তান ইস্যু এবং চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতার প্রেক্ষিতে এই চাপ আরও তাৎপর্যপূর্ণ। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, ইসলামাবাদ এই দাবিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে জরুরি বৈঠক চলছে।
পাকিস্তানের অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্পের এই অবস্থান দেশটির জন্য ‘কঠিন দ্বিধা’ তৈরি করেছে। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চাপ সামলানো। আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে সই করা দেশগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান, মরক্কো অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধা পেয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, পাকিস্তানও এই পথে এলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং চিনের প্রভাব কমবে। কিন্তু পাকিস্তানের জন্য ফিলিস্তিন ইস্যু অত্যন্ত আবেগের বিষয়। অনেক রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় নেতা এ ধরনের চুক্তির বিরোধিতা করবেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
সূত্র – কলকাতা নিউজ২৪.কম
