রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক না গড়লে বন্ধুত্ব নয় : পাকিস্তানকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পাকিস্তানকে সরাসরি কড়া বার্তা দিয়েছেন। তিনি পাকিস্তান সরকারকে বলেছেন, “আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে ইসরায়েলের সঙ্গে সই না করলে আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্বের দাবি করতে পারবে না।” ট্রাম্প পাকিস্তানি নেতাদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এই চুক্তিতে সই না করলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সুবিধা ও সাহায্য সীমিত করে দিতে বাধ্য হবে এবং দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন করে মূল্যায়ন করবে।

সূত্র অনুসারে, সাম্প্রতিক এক বৈঠকে ট্রাম্প পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্বকে এই কঠিন বার্তা দেন। আব্রাহাম অ্যাকর্ডস হলো সেই ঐতিহাসিক চুক্তি, যার মাধ্যমে আরব দেশগুলো ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। ২০২০ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। এখন তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে পাকিস্তানকেও এই চুক্তিতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। পাকিস্তান ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেয়নি এবং ফিলিস্তিনের প্রতি তার অবস্থান অত্যন্ত দৃঢ়।দেশটির জনমত ও ধর্মীয় রাজনীতির কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করা তাদের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারি তাই পাকিস্তানের জন্য বড় ধরনের কূটনৈতিক চাপ তৈরি করেছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “পাকিস্তান যদি আমাদের মিত্র হতে চায়, তাহলে তাদেরও আমাদের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে হবে।” ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, আমেরিকা পাকিস্তানকে দেওয়া সামরিক সাহায্য, অর্থনৈতিক সহায়তা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে সমর্থন পর্যালোচনা করবে।

বিশেষ করে সন্ত্রাসবাদ দমন, আফগানিস্তান ইস্যু এবং চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠতার প্রেক্ষিতে এই চাপ আরও তাৎপর্যপূর্ণ। পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রণালয় এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি। তবে অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা গেছে, ইসলামাবাদ এই দাবিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিচ্ছে। দেশটির সেনাবাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে জরুরি বৈঠক চলছে।

পাকিস্তানের অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, ট্রাম্পের এই অবস্থান দেশটির জন্য ‘কঠিন দ্বিধা’ তৈরি করেছে। একদিকে আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করা, অন্যদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক চাপ সামলানো। আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে সই করা দেশগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, সুদান, মরক্কো অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সুবিধা পেয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করে, পাকিস্তানও এই পথে এলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বাড়বে এবং চিনের প্রভাব কমবে। কিন্তু পাকিস্তানের জন্য ফিলিস্তিন ইস্যু অত্যন্ত আবেগের বিষয়। অনেক রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় নেতা এ ধরনের চুক্তির বিরোধিতা করবেন বলে আশঙ্কা রয়েছে।এই ঘটনা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

সূত্র – কলকাতা নিউজ২৪.কম

সম্পর্কিত খবর

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সাথে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ

ছবি : সংগৃহীত   ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর ও আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে...

চট্টগ্রামে বকেয়া পরিশোধের দাবিতে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের ‘পথে পথে প্রতিবাদ’

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামে গ্রামীণফোনের সাবেক কর্মীদের পাঁচ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া পরিশোধের দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ কর্মসূচি ‘পথে পথে প্রতিবাদ’। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল...

মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক রইসুল হক বাহারের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল

মুক্তিযোদ্ধা-সাংবাদিক রইসুল হক বাহারের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ১৮ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। একাত্তরের এই গেরিলা যোদ্ধা ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। কৈবল্যধাম...

চট্টগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ সড়কে উন্নয়ন কাজে গতি আনতে রাতে সরেজমিনে চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীতে দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অপেক্ষায় থাকা অক্সিজেন-মুরাদপুর সড়কের উন্নয়নকাজ এগিয়ে যাওয়ায় এ পথে চলাচলকারী নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরছে। বৃহস্পতিবার রাতে চট্টগ্রাম সিটি...

‘কর্ষণে বুননে সৃজনে’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ‘বিবেক, বিশ্বাস ও মূল্যবোধে দৃঢ় কামরুল হাসান বাদলের অবস্থান স্বতন্ত্র’

‘কামরুল হাসান বাদলের সাহিত্যচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তাঁর জোরালো বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান ও সময়ের প্রতি দায়বদ্ধতা। রাষ্ট্র ও সমাজের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড, অনিয়ম, অসংগতি ও অন্যায়ের...

বিজিসি ট্রাস্টের দিনব্যাপী সিজেন রিজিওনাল ক্লাস্টার মিটিং অনুষ্ঠান সম্পন্ন

চট্টগ্রাম : সাংবাদিকতা শিক্ষা ও গবেষণাকে এগিয়ে নেওয়া এবং সিজেন-এর কার্যক্রম সম্প্রসারণ লক্ষ্যে বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এর জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত