শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী ঢাকার মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার ১১ জুন বিকেলে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মঈনুল আহসান স্বাক্ষরিত এক আদেশে বলা হয়, গত ২৭ মে হাসপাতালটির একটি ওয়ার্ডে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অক্সিজেনের স্বল্পতা এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালটির লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না, তা জানতে চেয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) জারি করে। আদেশে আরও বলা হয়, নোটিশের জবাব দেওয়ার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৭২ ঘণ্টা সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে তারা অতিরিক্ত ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়ে আবেদন করে। পরে মঙ্গলবার (৯ জুন) হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ লিখিতভাবে শোকজ নোটিশের জবাব জমা দেয়।কিন্তু তাদের দেওয়া ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হওয়ায় দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’র ১১(২)(খ) ধারা অনুযায়ী হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।

তবে একই অধ্যাদেশের ১২ ধারা অনুযায়ী, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য আদেশ জারির তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সরকারের কাছে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,  গত ২৭ মে ভোরে হাসপাতালটির পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা ছয় নবজাতক কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মারা যায়। ঘটনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত অব্যবস্থাপনা এবং দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক ও নার্সদের গাফিলতির একাধিক দিক উঠে আসে।প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ওয়ার্ডটি নবজাতক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের জন্য উপযুক্ত ছিল না; পর্যাপ্ত আলো-বাতাসের অভাব ছিল এবং এসি ব্যবস্থাও অপ্রতুল ও অনিয়মিতভাবে পরিচালিত হতো। ঘটনার সময় ওয়ার্ডে দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না এবং গুরুতর অবস্থার পরও সময়মতো চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদনে নবজাতকদের শারীরিক অবস্থা জন্মের পর সুস্থ ছিল বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি বলা হয়, প্রসব-পরবর্তী জটিলতার জন্য বিশেষ চিকিৎসা বা ইনকিউবেটরের প্রয়োজনীয়তা ছিল না। তবে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও যথাযথ চিকিৎসা ও জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণে ঘাটতি ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে। একই সঙ্গে হাসপাতালের কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, পর্যাপ্ত তত্ত্বাবধানের অভাব এবং প্রশাসনিক ত্রুটির কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সম্পর্কিত খবর

রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প

রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। গতকাল রবিবার ৭ জুন রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত...

তরুণ প্রজন্মের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ব : জেলা প্রশাসক

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, আমাদের দেশে সাড়ে ৫ কোটি তরুণ প্রজন্ম রয়েছে। তারা আমাদের সম্পদ। তাদেরকে যথাযথভাবে...

ইপসার ‘রেইজ’ প্রকল্পের জব ফেয়ার অনুষ্ঠিত

চট্টগ্রাম : অনানুষ্ঠানিক খাতের যুবক-যুবতীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) আয়োজিত ‘রিকভারি অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট অব ইনফরমাল...

ইসলামী ব্যাংকে পর্যবেক্ষক নিয়োগ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিতে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিয়েছে বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক। আজ বুধবার ১০ জুন দুপুরে ব্যাংকার্স সভায় বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সঙ্গে...

চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণ মামলার বিচার শুরু

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়া এলাকায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের মামলায় আসামি মনির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।...

জাতীয়তাবাদী যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রামে আনন্দ মিছিল

চট্টগ্রাম : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের নবগঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রামে আনন্দ মিছিল করেছেন নেতাকর্মীরা। গতকাল সোমবার বিকেলে শহরের আগ্রাবাদে নগর যুবদলের উদ্যোগে...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত