চট্টগ্রাম : রাউজান উপজেলায় প্রকাশ্যে গুলি করে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদকে হত্যার দুইদিনে মামলা না হলেও নিহতের ভাই গতকাল বিকেলে থানায় মামলা রুজু করার জন্য যাওয়ার কথা রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন একজনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে। এদিকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে গত দুইদিন নিহতের পরিবারের কেউ না থানায় আসায় আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনো মামলা দায়ের করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। এদিকে ঘটনার পর সন্দেহভাজন হিসেবে মুহাম্মদ জাকির (৪২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যা মামলা না থাকায় তাকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সোমবার ( ১৫ জুন) আদালতে সোপর্দ করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, গত ১৩ জুন দুপুর দেড়টার দিকে রাউজানের চৌমুহনী বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মাকসুদুল হক চৌধুরী। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া পাঁচজনই সশস্ত্র ছিল। তাদের মধ্যে দুজনের হাতে শর্টগান এবং তিনজনের হাতে পিস্তল ছিল। গুলির মুখে প্রাণ বাঁচাতে দৌড়ে একটি দোকানের সামনে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করেন মাসুদ। সেখানে তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করা হয়। পরে হামলাকারীদের দুজন ফিরে এসে তার মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা হলেন, ধামা ইলিয়াছ, দিদার, আফসার, ইউসুফ ও জাভেদ। তারা সবাই শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হানের অনুসারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তাদের বিরুদ্ধে খুন, সন্ত্রাস, অপহরণসহ বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
মামলা এবং আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদের পরিবারের সঙ্গে পুলিশের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। গতকাল সোমবার নিহতের পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা জানিয়েছেন আজ (সোমবার) সন্ধ্যার দিকে মামলা করবে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাকির নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার আদালতে পাঠানো হয়েছে। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছি এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করছি। জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রসঙ্গত, নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ পিয়ারুল হক চৌধুরীর ছোট ভাই। পরিবারের সদস্যদের দাবি, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ লক্ষ্যে কয়েক মাস ধরে এলাকায় প্রচার-প্রচারণাও চালিয়ে আসছিলেন।
