জার্মানি ১ : ২ ইকুয়েডর
অচিন্তনীয় ঘটনাই ঘটিয়েছে লাটিন আমেরিকার ডার্ক হর্স ইকুয়েডর। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ‘ই’ গ্রুপের শেষ রাউন্ডের ম্যাচে গ্রুপ পর্বের আগের দুই খেলায় একটাও গোল করতে না পারা ইকুয়েডর ইউরোপের ফুটবল মেশিন জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে দিয়ে নিজেদের নকআউট পর্বে অংশগ্রহণ সুনিশ্চিত করেছে।
বাঁচা-মরার লড়াইয়ে একুয়েডরের জন্য ম্যাচের শুরুটা ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। দ্বিতীয় মিনিটেই এগিয়ে যায় জার্মানি। ফ্লোহিয়ান ভিয়েৎসের নিখুঁত পাস বক্সে পেয়ে বাঁ পায়ের শটে বল জালে পাঠান লিহয় জানে। বিল্ডআপের শুরুতে বল ক্লিয়ারের চেষ্টা করা একুয়েডরের পেদ্রোর মাথার ওপরে পা তুলেছিলেন জার্মানির আলেকসান্দার পাভলোভিচ। আঘাত পেয়ে পড়ে যান পেদ্রো। গোলের পর প্রতিবাদ জানায় একুয়েডরের খেলোয়াড়রা। তবে ভিএআরের সাহায্যে গোল বহাল রাখেন নারী মার্কিন নারী রেফারি টরি পেনসো।
জবাব দিতে অবশ্য বেশি সময় নেয়নি একুয়েডর। নবম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে সমতা টানেন নিলসন অ্যাঙ্গুলো। এবারের বিশ্বকাপে একুয়েডরের প্রথম গোল এটি! প্রথমার্ধে আর উল্লেখযোগ্য সুযোগ কেউ তৈরি করতে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে কাই হাভার্টজ বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। তবে পরে ভিএআরের সাহায্যে মনিটরে দেখে সিদ্ধান্ত পাল্টান তিনি। বিল্ডআপের সময় পেদ্রোকে ফাউল করেছিলেন জানে। ৬২তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারত একুয়েডর। জন ইয়েবোয়ার পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ২০ গজ দূর থেকে জোরাল শট নেন এনার ভ্যালেন্সিয়া। ঝাঁপিয়ে ফিরিয়ে দেন জার্মানির ২০১৪ বিশ্বকাপ জয়ী গোলরক্ষক মানুয়েল নয়ার।
আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলতে থাকে দুই পাশে। সুযোগও মিলতে থাকে। কিন্তু গোলের দেখা আর মিলছিল না। ৭৭তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্ত। একুয়েডরের কর্নারে বক্সে হেড করেন কেভিন রদ্রিগেজ। গোলরক্ষক নয়ারের সামনে থেকে বুটের টোকায় বল জালে পাঠিয়ে উল্লাসে মাতেন প্লাটা এবং এই গোলের মাধ্যমেই জার্মানিকে অপ্রত্যাশিতভাবে হারিয়ে দিয়ে নকআউট পর্বে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে ইকুয়েডর।
জার্মানির নকআউটের টিকেট নিশ্চিত হয়েছিল আগেই। তিন ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ সেরা চারবারের বিশ্বকাপ জয়ীরা। তাদের সমান পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে পরের ধাপে উঠেছে আইভরি কোস্ট। ৪ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে একুয়েডর। সেরা আটটি তৃতীয় স্থানাধিকারী দলের একটি হিসেবে নকআউটে যাওয়া নিশ্চিত করেছে তারা।
