বেলজিয়াম ৫ : ১ নিউজিল্যান্ড
যে লক্ষ্য নিয়ে বেলজিয়াম মাঠে নেমেছিল, তা তারা পূরণ করেছে দাপটের সঙ্গেই। নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে ইউরোপের পরাশক্তিরা। বেলজিয়ামের হয়ে জোড়া গোল করেছেন লেয়ান্ড্রো ট্রসার্ড। একটি করে গোল করেছেন কেভিন ডে ব্রুইনে, রোমেলু লুকাকু ও আলেক্সিস সালমাইকের্স।
ম্যাচের প্রথমার্ধে বেলজিয়াম মাত্র ১-০ গোলে এগিয়ে থাকলেও মাঠের পুরো আধিপত্য ছিল তাদের একচেটিয়া। দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বকাপে টিকে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালায় নিউজিল্যান্ড। তবে তাদের সেই আক্রমণাত্মক কৌশলের সুযোগ নিয়ে নিজেদের জাত চেনানোর আরও বড় সুযোগ পেয়ে যায় বেলজিয়াম। ফলে দুই দলের শক্তির ব্যবধানটা মাঠে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
আক্রমণাত্মক ফুটবলে শুরু থেকেই নিউ জিল্যান্ডকে চেপে ধরে বেলজিয়াম। দ্বাদশ মিনিটে এগিয়েও যেতে পারত তারা। কিন্তু ট্রসার্ডের শট গোললাইন থেকে ফিরিয়ে দেন নিউ জিল্যান্ডের একজন । পরের মিনিটে আরেকটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি ডে ব্রুইনে। ২০তম মিনিটে হ্যান্ডবলের জন্য বেলজিয়ামকে পেনাল্টি দেন রেফারি। ভিএআরের পরামর্শে মনিটরে হ্যান্ডবলের রিপ্লে দেখে সিদ্ধান্ত পাল্টান তিনি।
গোলের জন্য বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বেলজিয়ামের। শুরু থেকে নিউ জিল্যান্ডের রক্ষণে ভীতি ছড়ানো ট্রসার্ডই ২৮তম মিনিটে খুঁজে নেন জাল। এতে অবশ্য নিউ জিল্যান্ডের রক্ষণের দায় কম নয়। কর্নার ক্লিয়ার করতে পারেনি তারা। বরং একজনের ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে গোলমুখে বল পেয়ে যান ট্রসার্ড। বাকিটা অনায়াসে সারেন আর্সেনাল ফরোয়ার্ড। ৪২তম মিনিটে ট্রসার্ডের কাছ থেকে বল পেয়ে ক্রসবারের উপর দিয়ে শট নেন ডে ব্রুইনে। পরের মিনিটে শার্লে ডে কেটলারের শট ঠেকান কিউই গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান বাড়ান ট্রসার্ড। ৫০তম মিনিটে তার প্রথম শট লাগে এক সতীর্থর পায়ে, ফিরতি শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ট্রসার্ড। কিছুই করার ছিল না গোলরক্ষকের। পাঁচ মিনিট পর লক্ষ্যে প্রথম শট রাখতে পারে নিউ জিল্যান্ড। এনজো শিফোকে (১৭) ছাড়িয়ে বেলজিয়ামের হয়ে বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ড গড়া থিবো কোর্তোয়া (১৮) কমতে দেননি ব্যবধান।৬৬তম মিনিটে স্কোরলাইন ৩-০ করে ফেলেন ডে ব্রুইনে। আলগা বল পেয়ে একটু এগিয়ে গিয়ে ডি বক্সের বাইরে থেকে আড়াআড়ি শটে দূরের পোস্ট ঘেঁষে জাল খুঁজে নেন তিনি। ডাইভ দিয়েও নাগালে পাননি গোলরক্ষক।
৮৪তম মিনিটে এলিজা জাস্টের গোলে ব্যবধান কমায় নিউ জিল্যান্ড। কর্নার থেকে বল ফিস্ট করেন কোর্তোয়া। পেয়ে যান অরক্ষিত জাস্ট। তার গতিময় শট ঠেকাতে পারেননি অভিজ্ঞ গোলরক্ষক। দুই মিনিট পরেই কর্নার থেকে গতিময় হেডে জাল খুঁজে নেন বদলি নামা অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার লুকাকু। যোগ করা সময়ে লুকাকুর কাছ থেকে বল পেয়ে গতিময় শটে ব্যবধান আরও বাড়ান অরক্ষিত সালমাইকের্স। ছন্দে ফেরার আনন্দ নিয়ে মাঠ ছাড়ে বেলজিয়াম। আর ১ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের তলানিতে থেকে দেশে ফিরছে নিউ জিল্যান্ড।
