গোল হলো না একটিও কিন্তু লক্ষ্য পূরণ হলো কলম্বিয়ার। পর্তুগালের বিপক্ষে ড্র করেই গ্রুপ সেরা হয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে উঠল নেস্তর লরেঞ্জোর দল। জয়ের জন্য মরিয়া পর্তুগাল শেষ পর্যন্ত তেমন ধারই দেখাতে পারল না, রানার্সআপ হয়েই শেষ করতে হলো গ্রুপ পর্ব। মায়ামিতে গ্রুপ ‘কে’-এর শেষ রাউন্ডের ম্যাচে পর্তুগালের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করেছে কলম্বিয়া। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এটিই কলম্বিয়ার প্রথম ০-০ ড্র। গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে এই ফলাফলই যথেষ্ট ছিল তাদের।
ড্র করলেই গ্রুপ সেরা হওয়ার সমীকরণ সামনে থাকলেও শুরু থেকে ইতিবাচক ফুটবল খেলে কলম্বিয়া। পঞ্চম মিনিটেই জন কর্দোবার ফ্লিক পর্তুগালের জালের ওপরে গিয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ পর হামেস রদ্রিগেসের ক্রস-শটও লক্ষ্য খুঁজে পায়নি। পর্তুগাল ধীরে ধীরে খেলায় ফেরার চেষ্টা করলেও প্রথম ভাগে বেশি ছন্দময় ছিল কলম্বিয়াই। ১৮তম মিনিটে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শট নেন কর্দোবা। দারুণ সেভে তাকে হতাশ করেন পর্তুগাল গোলরক্ষক দিয়োগো কস্তা। ৪০তম মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ পায় পর্তুগাল। বক্সে ফাঁকায় বল পেয়ে কাছ থেকে শট নেন ব্রুনো ফের্নান্দেস। কিন্তু কলম্বিয়া গোলরক্ষক কামিলো ভার্গাস দুই হাতে ঠেকিয়ে দেন তার প্রচেষ্টা। ফিরতি বলে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ওভারহেড কিকও আটকে যায় রক্ষণের জটলায়।
বিরতির আগে আরও একবার আক্রমণে যায় পর্তুগাল। লম্বা থ্রো থেকে বল পেয়ে ভলিতে শট নেন জোয়াও ফেলিক্স, কিন্তু তা চলে যায় ক্রসবারের ওপর দিয়ে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে দুই দলই দ্রুত আক্রমণ সাজালেও গোলের দেখা পায়নি কেউ।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই দুই পরিবর্তন আনে পর্তুগাল। জোয়াও কানসেলো ও রুবেন নেভেসের জায়গায় নামেন দিয়োগো দালোত ও জোয়াও নেভেস। তবুও আক্রমণে কাঙ্ক্ষিত গতি আনতে পারেনি রবের্তো মার্তিনেসের দল। ৫২তম মিনিটে জোয়াও নেভেস বক্সে ভালো জায়গায় থাকলেও হেড ঠিকমতো নিতে পারেননি। কিছুক্ষণ পর অফসাইডের ফাঁদে পড়েন রোনালদো; কাছ থেকে তার শট বাইরে গেলেও আগেই উঠে যায় সহকারী রেফারির পতাকা।
কলম্বিয়া প্রথম পরিবর্তন আনে ঘণ্টাখানেক পর। কর্দোবা ও জেফারসন লেরমার বদলে মাঠে নামেন লুইস সুয়ারেস ও রিচার্ড রিওস। নেমেই প্রায় গোল পেয়ে যাচ্ছিলেন রিওস। সান্তিয়াগো আরিয়াসের নিচু ক্রসে কাছ থেকে শট নিলেও বল লাগে সাইড নেটে। এরপরও চাপ ধরে রাখে কলম্বিয়া। হামেসের পাস থেকে ডান দিকে ঢুকে পড়েন সুয়ারেস, তবে সতীর্থের সাপোর্ট না পেয়ে কর্নার আদায় করেই থামতে হয় তাকে। কর্নার থেকে দাভিনসন সানচেসের হেডেও ছিল না যথেষ্ট জোর।
৭৫তম মিনিটে পেনাল্টির আবেদন করে কলম্বিয়া। বক্সে পড়ে যান সুয়ারেস। তবে ভিএআর দেখে সিদ্ধান্ত বদলায়নি রেফারি; বরং রিপ্লেতে দেখা যায়, নুনো মেন্দেসকে লাথি মেরেছিলেন সুয়ারেসই। গ্রুপ সেরা হতে জয়ের দরকার ছিল পর্তুগালের কিন্তু সেই তাড়না তাদের খেলায় খুব একটা দেখা যায়নি। বরং ৮৯তম মিনিটে গোললাইন থেকে দলকে বাঁচান রুবেন দিয়াস। কলম্বিয়ার ক্রস থেকে আসা হেড তিনি লাইন থেকে ক্লিয়ার করেন। ফিরতি সুযোগে সুয়ারেসের ভলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। যোগ করা সময়ে নাটকীয়ভাবে গোলের খুব কাছে চলে যায় কলম্বিয়া। ছোট কর্নার থেকে আসা ক্রসে দূরের পোস্টে হেডে বল জালে পাঠান সানচেস। কিন্তু অফসাইডের পতাকা উঠে যায়। দীর্ঘ ভিএআর পরীক্ষার পরও বহাল থাকে সেই সিদ্ধান্ত।
বাকি সময়েও কেউ আর গোল করতে না পারলে খেলা শেষ হয় গোলশূন্য সমতায় এবং কলম্বিয়া গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েই মাঠ ছাড়ে।
