ফ্রান্স ৩ : ০ সুইডেন
নকআউটের প্রথম পর্ব রাউন্ড অফ-৩২ এর ম্যাচে একপেশে ও দৃষ্টিনন্দন আক্রমণাত্মক খেলায় সুইডেনকে ৩-০ গোলের হারিয়ে বিশ্বকাপের পরবর্তী ধাপে পা দিয়েছে ফ্রান্স এবং নিজেদেরকে এবারের আসরের অন্যতম শ্রেষ্ঠ দল হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত করেছে। ফ্রান্সের শক্তিশালী আক্রমণভাগের সামনে সুইডেন দাঁড়াতেই পারেনি। ম্যাচে জোড়া গোল করে কিলিয়ান এমবাপ্পে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে আরও একধাপ এগিয়ে গেলেন এবং মেসির সাথে সমান ৬টি করে গোল করে এখনো পর্যন্ত টুর্নামেন্টের গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। আজকের খেলায় এমবাপ্পে জার্মান কিংবদন্তি মিলোসাভ ক্লোসাকে পিছনে ফেলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন। তাঁর সামনে এখন শুধুই আর্জেন্টাইন লিভিং লিজেন্ড লিওনেল মেসি।
ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলতে থাকে ফ্রান্স। একের পর এক আক্রমণে নাস্তানাবুদ করে তোলে প্রতিপক্ষকে। বিপরীতে সুইডেন কিছু পালটা আক্রমণ করলেও তা প্রতিপক্ষের গোলবার খুঁজে পায়নি। ব্যবধান হতে পারত আরও অনেক বড়। প্রথমার্ধে এমবাপে ও মাইকেল ওলিসের একটি করে শট লাগে পোস্টে। এছাড়া সুইডিশ গোলরক্ষক সেভ করেন ৯টি। কোনো গোল না পেলেও দুটি অ্যাসিস্ট করেন ওলিসে। ম্যাচ জুড়ে ফ্রান্সের একচেটিয়া দাপটের প্রমাণ মেলে অন্যান্য পরিসংখ্যানেও। ৬১ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য মোট ২৫টি শট নেয় তারা, যার ১২টি ছিল লক্ষ্যে। সুইডেনের আট শটের তিনটি লক্ষ্যে ছিল।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটে প্রথম সুযোগটি পান সুইডেন তারকা আলেকসান্দার ইসাক। তবে গোলরক্ষক বরাবর দুর্বল শট করেন লিভারপুল স্ট্রাইকার।একটু পর থেকে শুরু হয় ফ্রান্সের টানা আক্রমণ। পঞ্চদশ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে চেষ্টা করেন লুকা জিনিয়া। তার শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক। দুই মিনিট পর দূর থেকেই গোলরক্ষক বরাবর শট করেন এমবাপে।
১৯তম মিনিটে বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে উড়িয়ে মারেন বার্কোলা। পরের মিনিটে মাঝমাঠ থেকে সতীর্থের পাস ধরে বক্সে ঢুকে বল জালে পাঠান এমবাপে, কিন্তু অফসাইডের পতাকা তোলেন লাইন্সম্যান। ৩০তম মিনিটে আরেকটি সুযোগ পায় ফ্রান্স। বক্সে আদ্রিয়াঁ হাবিওর কোনাকুনি শট পা দিয়ে ঠেকান সুইডেন গোলরক্ষক ইয়াকুব ভিদেল জেততেরস্ত্রুম। ৩২তম মিনিটে গোল পেতে পারতেন এমবাপে। ছয় গজ বক্সের ভেতর থেকে জুল কুন্দের চমৎকার কাটব্যাক পেয়ে শট নেন তিনি, কিন্তু বল পোস্টে লাগে। চার মিনিট পর বক্সের ভেতর থেকে অসাধারণ এক বাইসাইকেল কিক করেন ওলিসে। আসরের সেরা গোলগুলোর একটি হতে পারত এটি। কিন্তু তার এই প্রচেষ্টাও পোস্টে বাধা পায়।
৪৪তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ওলিসের জোরাল নিচু শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন সুইডেন গোলরক্ষক। ওই কর্নার থেকেই এগিয়ে যায় ফ্রান্স। ওলিসে ও দেম্বেলে হয়ে বল পান এমবাপে। বক্সে প্রতিপক্ষের একজনের বাধা এড়িয়ে জোরাল বাঁকানো শটে ঠিকানা খুঁজে নেন রিয়াল মাদ্রিদ ফরোয়ার্ড।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ব্যবধান দ্বিগুণ করে ফ্রান্স। ৫৩তম মিনিটে ওলিসের চমৎকার পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরাল শটে গোলটি করেন বার্কোলা। ৬১তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ওলিসের শট ঝাঁপিয়ে ব্যর্থ করে দেন জেততেরস্ত্রুম। ৭১তম মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ পান তিনি। এবার বক্সে ঢুকেও গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারেননি ওলিসে। ৭৪তম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পান এমবাপে। ওলিসের পাস বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে জোরাল শটে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি। নির্ধারিত সময়ের পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে এই দুজনকেই এক সঙ্গে তুলে নেন কোচ। শেষ দিকে দুটি শট লক্ষ্যে রাখতে পারে সুইডেন, কিন্তু গোলরক্ষক মাইক মিয়াঁকে পরাস্ত করতে পারেনি তারা।
পরবর্তী রাউন্ড অফ-১৬ তে ফ্রান্স মুখোমুখি হবে লাতিন আমেরিকার দল প্যারাগুয়ের। পেনাল্টি শ্যুটআউটে জার্মানিকে হারিয়ে একদিন আগেই শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে প্যারাগুয়ে। ফ্রান্স ও প্যারাগুয়ের মধ্যকার ম্যাচটি আগামী ৫ জুলাই ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে।
