মেক্সিকো ২ : ০ ইকুয়েডর
বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ এর নকআউট পর্বের প্রথম রাউন্ডে এবারের আসরের ডার্ক হর্স ইকুয়েডরকে ২-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের পরবর্তী ধাপে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। ১৯৮৬ সালের পর এই প্রথম তারা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ম্যাচ জিততে পারলো। এই জয়ের মাধ্যমে পুরো মেক্সিকো ভাসছে আনন্দের বন্যায়।
ম্যাচের শুরু থেকেই দারুণ বোঝাপড়ায় আক্রমণ গড়ে তুলতে থাকে মেক্সিকো। ষষ্ঠ মিনিটে লুইস রোমোর নিচু শট বাইরে দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটে তার নিখুঁত ক্রস থেকেই হিমেনেসের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। মেক্সিকোর গতির সঙ্গে তখন পেরে উঠছিল না ইকুয়েডর। তবে প্রথম ১০ মিনিটে আক্রমণের স্রোত সামলে একটু গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে তারা। প্রথম এগিয়ে যেতে পারত তারাই। অষ্টাদশ মিটে গন্সালো প্লাতা দুর্দান্তভাবে তার প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করে ফাঁকা জায়গায় ঢুকে পড়েন। জন ইবোয়া এগিয়ে এসে বক্সে ঢুকে পড়েন এবং তার বাঁ পায়ের জোরাল শটে বল কাছের পোস্টে লেগে বাইরের জালে জড়ায়।
২২তম মিনিটে ইকুয়েডরের আক্রমণ ঠেকিয়ে দারুণভাবে বল বাড়ান হেসুস গাইয়ার্দো। নিজের অর্ধে থেকেই অফসাইড ফাঁদ এড়িয়ে বাম দিক দিয়ে ছুটতে থাকেন কিনোনেস। এরপরই দেখা যায় বিধ্বংসী একক নৈপুণ্য। সরাসরি গোলের দিকে দৌড়ে গিয়ে বক্সের ঠিক ভেতর থেকে এক অপ্রতিরোধ্য শট নেন। সেই গোলা সামলানোর উপায় ছিল না ইকুয়েডরের গোলকিপারের। পরের গোলটি আসে দ্রুতই। সেখানে বড় অবদান একুয়েডরের রক্ষণভাগের বড় ভুলের। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে জোয়েল ওর্দানেস সরাসরি দিয়ে বসেন হিমেনেসকে। তিনি কিনোনেসের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সের একটু ভেতরে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে দারুণ শটে বল জালে জড়ান পোস্ট ঘেঁষে।
ইকুয়েডরকে মনে হচ্ছিল তখন ছন্নছাড়া। তবে ৩৫ মিনিটের পর থেকে একটু গুছিয়ে নেয় তারা। ৪০তম মিটে ইবোয়ার জোরাল শট লাফিয়ে ফিরিয়ে দেন রাউল রাহনেল। ৪২তম মিনিটেও কর্নার করে দলকে রক্ষা করেন মেক্সিকোর গোলকিপার। পাল্টা আক্রমণে ৪৫তম মিনিটে হিমেনেসের ভলি চলে যায় ওপর দিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম ২০ মিনিটে বল নিয়ন্ত্রণে বেশি রাখে ইকুয়েডর। তবে তেমন কোনো পরিষ্কার সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দল। ৬৭ মিনিটে সম্ভাবনা জাগায় মেক্সিকো। সেসার মন্তেসের হেড অসাধারণ রিফ্লেক্সে এক হাতে বাইরে পাঠিয়ে দেন একুয়েডরের গোলকিপার এর্নান গালিন্দেজ। সেখান থেকে পাওয়া কর্নারে জোহা ভাস্কেসের হেড চলে যায় একটু বাইরে দিয়ে।
ইকুয়েডর এর পরও চেষ্টা করে গেছে। কিন্তু মেক্সিকোর রক্ষণের দৃঢ়তায় তৈরি করতে পারেনি পরিষ্কার সুযোগ। খেলার শেষ মূহুর্তে উল্টো ইকুয়েডর একটি লাল কার্ড হজম করে। ঘটনার শুরু নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা অতিরিক্ত সময়ের ৪ মিনিটে। ইকুয়েডরের কেন্দ্রি পায়েজ মাঝমাঠে হতাশা থেকে করা এক ফাউলের জন্য হলুদ কার্ড দেখেন। এর কিছুক্ষণ পর অফ দ্য বল অবস্থায় হিনকাপিয়ে ও মেক্সিকোর সান্তিয়াগো গিমেনেজ মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।ঘটনার পর গিমেনেজ অভিযোগ করেন, হিনকাপিয়ে তার মুখ চেপে ধরেছিলেন। টেলিভিশন রিপ্লেতে সেই অভিযোগের সত্যতাও ধরা পড়ে। নতুন শাস্তিমূলক নিয়ম অনুযায়ী প্রতিপক্ষের মুখে হাত দেওয়ার ঘটনাকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করে রেফারি ভিডিও সহকারী পর্যালোচনার পর হিনকাপিয়েকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
এর পরেই শেষ বাঁশি বাজার পর গ্যালারির গগণবিদারী চিৎকারের মধ্যে মাঠে বাঁধনহারা উদযাপনে মেতে উঠল গোটা দল সাথে পুরো স্টেডিয়াম ভর্তি দর্শক। ধারাভাষ্যকাররা বলতে থাকেন, আজকে রাতে মেক্সিকো ঘুমাবে না।
