চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মহানগরীর কোতোয়ালি থানাধীন জামালখান এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু কন্যা মারজান হক বর্ষা’র ধর্ষণ, খুন ও লাশ গোপন করা হত্যা মামলার চার্জ শুনানী আগামী ২১শে জুলাই পুন:নির্ধারণ করেছেন বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল-১, চট্টগ্রাম। গত ১৫ জুলাই এ সময় নির্ধারণ করেন বিজ্ঞ আদালত। বিষয়টি নিশ্চিত করে আইনী সহায়তা প্রদানকারী মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন,
ময়না তদন্ত ও ডিএনএ রিপোর্টের কারনে ঘটনার দীর্ঘ তিন বছর পর চার্জশিট প্রদান করায় মামালার বিচারকার্য শুরু করতে অস্বাভাবিক বিলম্ব হয়। তিনি জানান, শিশু কন্যা মারজান হক বর্ষা চট্টগ্রামের কুসুম কুমারী বিদ্যালয়ের ১ম শ্রেণির ছাত্রী ছিল । বাদীনি অভিযোগ করেন ২০২২ সালের ২৪ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪ টা হতে ২৭ অক্টোবর বিকাল ৪. ১০ মিনিটে মধ্যে যেকোনো সময়ে তাকে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করে বস্তাভরে লাশ গুমের ঘটনাটি সংঘটিত হয়।
তিনি আরও জানান, আসামী লক্ষণ দাশ (৩০) ওইদিন বর্ষা বাসা হতে দোকানে চিপস ক্রয়ের উদ্দেশ্যে গমন করলে তাকে জোরপূর্বক পাশবিক নির্যাতন করে । নির্যাতনের ফলে শিশুটি রক্তাক্ত হলে আসামী তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে । পরবর্তীতে বর্ষার মৃতদেহ বস্তার মধ্যে ভরে শিকদার হোটেলের পাশের নর্দমায় নিক্ষেপ করা হয় । বস্তার গায়ে টিসিবি-এর সীলমোহরের সূত্র ধরে মুদির দোকানের কর্মচারী লক্ষণ দাশকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটিত হয়। এবিষয়ে একই বছরের গত ২৮ অক্টোবর ইং আসামিকে গ্রেফতার করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে এবং বর্ষাকে ধর্ষণপূর্বক হত্যা করার কথা স্বীকার করে । পরে একই বছরে গত ১৫ নভেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামীর DNA নমুনা সংগ্রহের নিমিত্ত আদালতের অনুমতি প্রার্থনা করেন। পরবর্তীতে ১১ ডিসেম্বর ভিকটিমের ভ্যাজাইনাল সোয়াবের DNA প্রোফাইলের সহিত আসামী লক্ষণ দাশের DNA বিশ্লেষণপূর্বক বিশেষজ্ঞ মতামত গ্রহণের লক্ষ্যে কো-অর্ডিনেটর, বিভাগীয় ডিএনএ স্ক্রিনিং ল্যাবরেটরি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বরাবরে ক্ষমতাপত্র ইস্যুর আবেদন করা হয়।
এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন, ১৫ ডিসেম্বর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ডি.এন.এ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদেশ দিলে । গত ২১ ডিসেম্বর, ২০২৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি, ৪ জুন ও ২০২৫ সালের ২৩ জুলাইর বিভিন্ন সময়ে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন (BHRF) তদন্ত কার্যক্রমের বিলম্বের কারণ ও অগ্রগতি প্রতিবেদন তলবের জন্য আদালতে আবেদন পেশ কর হয়। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তা ২৫ সালের ১৩ জনু আদালতকে অবহিত করেন যে, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রাপ্ত হয়েছে এবং গত ৭ মে DNA রিপোর্টও প্রাপ্ত হয়। DNA রিপোর্টের সত্যায়িত অনুলিপি ফরেনসিক বিভাগ, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হলেও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্ত না হওয়ায় তদন্ত কার্যক্রম মুলতবি থাকার বিষয় তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতকে অবহিত করেন । পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৮ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বিজ্ঞ আদালতে ডি.এন.এ প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং ৭ সেপ্টেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা চার্জশিট ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে দাখিল করেন ।
তিনি জানান, পরবর্তীতে ২৫ সালের ২৩ অক্টোবর মামলাটি বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১, চট্টগ্রামে বদলি করা হয়। বদলির পর ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ চার্জশিট গৃহীত হয়। পরে চার্জ গঠনের জন্য গত ১৭ মে ধার্য তারিখ থাকলেও আসামীকে PW মূলে আদালতে হাজির না করায় চার্জ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়নি।পরে দীর্ঘ দুই মাস পর অদ্য গত ১৫ জুলাই চার্জ গঠনের জন্য দিন ধার্য করা হয় । নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১, চট্টগ্রামে বিচারাধীন উক্ত মামলাটি ইতোপূর্বে ভুলবশত শিশু ধর্ষণ অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হলে বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুনরায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ বদলি করা হয়। এতেও একটি ধার্য তারিখসহ প্রায় দুই মাস সময় অপচয় হয়। এভাবে মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ, জেরা ও যুক্তিতর্ক সমাপ্ত করতে আরও কত বৎসর সময় অতিবাহিত হবে, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই ।
বাদী সংবাদদাতা পক্ষকে আইনী সহায়তা প্রদানকারী মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মহাসচিব এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান বলেন,মামলাটি বিলম্বের কারণে সাক্ষী হাজির করা দূরহ হয়ে পড়বে। এতে ন্যায় বিচার ব্যাহত হবে। তিনি বিলম্বের জন্যে দায়ী ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে আবেদন জানান।আদালত শুনানি শেষে আসামী পক্ষে চার্জ শুনানীর জন্যে সময়ের আবেদন মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্র ও বাদী পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশন বিএইচআরএফ এর আইনবিদগণ যথাক্রমে এড আলমগীর মোহাম্মদ ইউনুস ( পিপি), এডভোকেট জিয়া হাবীব আহসান, এড পরেশ চন্দ্র দাশ, এড এএইচ এম জসিমউদ্দীন, এড হাসান আলী, এড জিয়াউদ্দীন আরমান, এড শাহানা আফরোজ,এ ড কাজী নুসরাত জাহান প্রমুখ।
