চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিএমইউ) উদ্যোগে জুলাই ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ওয়াসিমের পিতা মো. শফিউল আলম এবং আহত জুলাই যোদ্ধা আলিফ উদ্দিন রুবেল-কে ‘বিপ্লবী সম্মাননা’ প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ পাঠ, জাতীয় সংগীত পরিবেশনা করা হয় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. মেহেদী হাসান ইমাম ভিডিও প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণমূলক একটি প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন করেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. সুলতানা রুমা আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। শহীদদের আত্মত্যাগ এবং আহত যোদ্ধাদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। শহীদ পরিবার এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও সহায়তা নিশ্চিত করা আমাদের সম্মিলিত দায়িত্ব।” তিনি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ হতে চট্টগ্রামে একটি জুলাই স্মৃতি জাদুঘর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন বলে আশ্বাস প্রদান করেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিএমইউ সিন্ডিকেট সদস্য ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী, অধ্যাপক ডা. তমিজ উদ্দিন আহমেদ, বেসিক সায়েন্স ও প্যারা ক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন এবং পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ডা. অজয় দেব, ডেন্টাল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মো. রহিমউল্লাহ চৌধুরী, মেডিকেল টেকনোলজি অনুষদের ডিন ডা. মো. ইব্রাহীম চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মো. তসলিম উদ্দিন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। শহীদদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, ন্যায়বিচার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করবে। তারা আহত জুলাই যোদ্ধাদের সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় চমেবির কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক ডা. ময়নাল হোসেন, উপ রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ ইকতিয়ারুল হক, বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত জুলাইযোদ্ধা হামিদা আক্তার মৌসুমি বক্তব্য প্রদান করেন।
বক্তারা আরও বলেন, “বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনা ধারণ করেই দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব। জুলাইয়ের স্পিরিটকে ধারণ করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিআইটিআইডির অধ্যাপক ডা. মামুনুর রশীদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ ইকরামুল হক খানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
