চট্টগ্রামের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা সন্দ্বীপে বঙ্গোপসাগরের উপকূল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ও বিরল প্রজাতির একটি ‘লেদারব্যাক’ সামুদ্রিক কচ্ছপ।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকালে সন্দ্বীপের মগধরা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধসংলগ্ন চরে স্থানীয় অধিবাসীরা বিশাল আকৃতির এই কচ্ছপটি দেখতে পান। পরবর্তীতে উপকূলীয় বন বিভাগের তৎপরতায় প্রাণীটিকে অক্ষত অবস্থায় পুনরায় বঙ্গোপসাগরে অবমুক্ত করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে জোয়ারের পর কচ্ছপটিকে চরে আটকে থাকতে দেখে ডাবরী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ভিড় জমান। বিষয়টি দ্রত বন বিভাগকে জানানো হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে কচ্ছপটির শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে এবং নিরাপদ গভীর জলে ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করে।
উপকূলীয় বন বিভাগের সন্দ্বীপ রেঞ্জ কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন বলেন, বেড়িবাঁধের বাইরের অংশে কচ্ছপটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা আমাদের খবর দেন। খবর পাওয়ার পরপরই আমরা গিয়ে কচ্ছপটি পরিদর্শন করি এবং স্থানীয়দের সহায়তায় নিরাপদে সাগরে অবমুক্ত করি। প্রাণীটি সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল।
সন্দ্বীপ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা নাবিল ফারাবী এই বিরল সামুদ্রিক কচ্ছপ সম্পর্কে জানান, বঙ্গোপসাগরের এই অঞ্চলে এমন প্রাণীর উপস্থিতি একটি বিরল ঘটনা। উদ্ধার হওয়া প্রাণীটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ কচ্ছপ প্রজাতি ‘লেদারব্যাক সী টারটল’)।

তিনি জানান, সাধারণ কচ্ছপের মতো এদের পিঠে কোনো শক্ত হাড়ের খোলস বা আঁশ থাকে না। এর পরিবর্তে এদের পিঠ নমনীয়, শক্ত ও রাবারের মতো চামড়া দিয়ে ঢাকা থাকে। চামড়ার নিচে রয়েছে ছোট ছোট অস্থির বিন্যাস। এটি ‘ডার্মোচেলিডি’ পরিবারের একমাত্র জীবিত প্রজাতি।
একটি পূর্ণাঙ্গ লেদারব্যাক কচ্ছপ লম্বায় প্রায় ৪ থেকে ৮ ফুট (১.৮ থেকে ২.৪ মিটার) এবং ওজনে সর্বোচ্চ ৯০০ কেজি (প্রায় ২,০০০ পাউন্ড) পর্যন্ত হতে পারে। মূলত ডিম পাড়ার উদ্দেশ্যে এরা হাজার হাজার মাইল পথ সাঁতরে বালুকাময় সমুদ্র সৈকতে আসে। সাধারণত রাতের আঁধারে বালুতে গর্ত খুঁড়ে ডিম পেড়ে তা বালু দিয়ে ঢেকে রেখে আবার সাগরে ফিরে যায়।
সাধারণত লেদারব্যাক কচ্ছপ ডিম পাড়ার জন্য নিরিবিলি ও উপযুক্ত বালুচর পছন্দ করে। দীর্ঘদিন ধরে ভাঙনকবলিত সন্দ্বীপের মগধরা উপকূলে এই কচ্ছপের আগমন নতুন কোনো চরের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নে রেঞ্জ কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন জানান, কচ্ছপটি আসার সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। তবে মগধরা উপকূলের ওই চরে ধীরে ধীরে বালুর স্তর জমতে শুরু করেছে, যা পরিবেশ ও নতুন চর জাগার ক্ষেত্রে ইতিবাচক লক্ষণ।
পরিবেশবিদ ও সামুদ্রিক গবেষকদের মতে, বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক দূষণ, সমুদ্রের প্লাস্টিককে জেলিফিশ ভেবে ভুল করে খাওয়া, ডিম চুরি এবং জেলেদের জালে আটকে পড়ে প্রতি বছর বহু লেদারব্যাক কচ্ছপ প্রাণ হারাচ্ছে। ফলে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (IUCN)-এর লাল তালিকা অনুযায়ী প্রজাতিটি মারাত্মকভাবে বিপন্ন ও সংকটাপন্ন।
