এতে এনবিআরের ওপর মানুষের আস্থা বিনষ্ট হয়।ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে এখন আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা- মন্তব্য করে তিনি বলেন, দেশের জনগণ ও বিশেষ করে করদাতারা বর্তমানে এনবিআরকে একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রত্যাশা করে। দক্ষ ও টেকসই রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এ জনআস্থা অর্জন সম্ভব, আর সেই দায়িত্ব রাজস্ব কর্মকর্তাদেরই নিতে হবে।বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ডিজিটাল ইকোনমি, ই-কমার্স, ট্রান্সফার প্রাইসিং, ইন্টারন্যাশনাল ট্যাক্সেশন, মানি লন্ডারিং, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স-এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট জ্ঞান থাকা এখন অত্যন্ত প্রয়োজন। পরিবর্তিত বিশ্বের অর্থনৈতিক সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রাজস্ব কর্মকর্তাদের বহুমাত্রিক দক্ষতা অর্জনের সময় এসেছে। দেশের ট্যাক্স-জিডিপি (কর-জিডিপি) অনুপাত এবং করভিত্তি এখনো অনেক কম উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনীতির একটি বড় অংশ এখনো অপ্রাতিষ্ঠানিক। সীমিত সংখ্যক নিয়মিত করদাতার ওপর নির্ভরতা হ্রাস করতে হবে। আধুনিক কর প্রশাসনের উদ্দেশ্য শুধু বেশি কর আদায় নয়, বরং বেশি সংখ্যক মানুষকে স্বেচ্ছায় কর দিতে উৎসাহিত করা। যিনি নিয়মিত কর দিচ্ছেন, রাষ্ট্র তাকে যেমন সম্মানিত করবে, তেমনি যারা ইচ্ছাকৃতভাবে কর ফাঁকি দিচ্ছেন, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
ভ্যাট ও কাস্টমস ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভ্যাট আধুনিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ রাজস্ব উৎস। তবে এর জটিলতার কারণে যেন ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাগ্রস্ত না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রাজস্ব আদায় শুধু বলপ্রয়োগ বা এনফোর্সমেন্টের বিষয় নয়। করদাতাদের সঙ্গে আস্থা ও বিশ্বাসের সম্পর্ক তৈরি হলে রাজস্ব আহরণ সহজ হয়। মানুষ যেন এনবিআরকে ভয় না পেয়ে বিশ্বাস করে, সেই পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এনবিআরে ঘটে যাওয়া একটি ‘দুঃখজনক ঘটনার’ কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তাদের নিরাপদে ও স্বস্তিতে দেশ গঠনের কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আশ্বস্ত করেন, সরকার যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা পরিহার করে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সমস্যাগুলোর ধাপে ধাপে সমাধান করবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত রাজস্ব আহরণের ইতিবাচক গতির প্রশংসা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি প্রমাণ করে, আপনারা পারেন এবং ভবিষ্যতেও পারবেন।