শনিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০২৬

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর : রাজপথের রাজনীতি থেকে বঙ্গভবনে

সম্পাদকের ডেস্ক

দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমার পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে তিনি বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় বিরোধী জোটের প্রার্থী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ফলাফল ঘোষণা করেন।

এই নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। প্রায় ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে ১৯৯১ সালে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিল; এরপর পরপর কয়েকজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক দীর্ঘ অধ্যায়েরও পরিসমাপ্তি ঘটল—একজন শিক্ষক, ছাত্রনেতা, সরকারি কর্মকর্তা, পৌর চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী, বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা এবং শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি—এমন বহুমাত্রিক রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী একজন প্রবীণ রাজনীতিক এখন উঠছেন বঙ্গভবনের সর্বোচ্চ আসনে।

২৫৫ ভোটে বিজয়
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ শেষে গণনা করা হলে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পান ২৫৫ ভোট। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ পান ৮৮ ভোট।

ফল ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানসহ সংসদ সদস্যরাও তাঁকে অভিনন্দন জানান।

নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মির্জা ফখরুল শুধু রাষ্ট্রপতির দায়িত্বই পেলেন না; তিনি একই সঙ্গে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান এবং সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তবে বাংলাদেশের বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোয় নির্বাহী ক্ষমতার মূল কেন্দ্র প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা।

ঠাকুরগাঁও থেকে বঙ্গভবন
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁওয়ে। তাঁর বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী ও রাজনীতিক এবং একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ফলে রাজনীতি ও জনসম্পৃক্ততার একটি পারিবারিক পরিবেশেই তাঁর বেড়ে ওঠা।

ঢাকা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। ছাত্রজীবনেই তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তিনি ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃত্বেও ছিলেন।

অর্থাৎ তাঁর রাজনৈতিক পথচলার শুরু হয়েছিল বর্তমান বিএনপির রাজনীতি দিয়ে নয়; বরং বামঘেঁষা ছাত্ররাজনীতির মধ্য দিয়ে। সময়ের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ও দলীয় অবস্থান পরিবর্তিত হয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের অন্যতম প্রধান নেতায় পরিণত হয়েছেন।

শিক্ষকতা থেকে প্রশাসনিক দায়িত্ব
ছাত্রজীবনের রাজনীতির পর মির্জা ফখরুল পেশাগত জীবনে শিক্ষকতা বেছে নেন। ১৯৭২ সালে ঢাকা কলেজে অর্থনীতির শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজেও শিক্ষকতা করেন। সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বেও কাজ করেছেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রশাসনেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। পরে সরকারি চাকরি ও শিক্ষকতা ছেড়ে ধীরে ধীরে সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। এই পর্বটিই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাঁক।

পৌর চেয়ারম্যান থেকে জাতীয় রাজনীতি
আশির দশকের শেষ দিকে স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর উত্থান ঘটে। ১৯৮৮ সালের পৌর নির্বাচনে তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বিএনপিতে যোগ দিয়ে জাতীয় রাজনীতিতে তাঁর নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। ১৯৯২ সালে তিনি বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি হন।

১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও জয়ী হতে পারেননি। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনেও তিনি পরাজিত হন। কিন্তু রাজনৈতিক মাঠে তাঁর অবস্থান ক্রমেই শক্তিশালী হতে থাকে।

অবশেষে ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে প্রথমে কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং পরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দুটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন তাঁর প্রশাসনিক ও রাষ্ট্রীয় অভিজ্ঞতার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করে।

বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দীর্ঘ পথ
মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি হলো বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বে তাঁর দীর্ঘ সময়ের দায়িত্ব পালন।

তিনি ২০০৯ সালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব হন। ২০১১ সালে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পান। পরে ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মহাসচিব হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় ধরে তিনি দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন।

বিশেষ করে বিএনপি যখন দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে ছিল, তখন দলটির সাংগঠনিক কার্যক্রম, আন্দোলন-কর্মসূচি এবং রাজনৈতিক বক্তব্যের প্রধান মুখ হিসেবে মির্জা ফখরুল জাতীয় রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত হয়ে ওঠেন।

রাজনৈতিক বিরোধ, মামলা, গ্রেপ্তার এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলটির নেতৃত্বে সক্রিয় ছিলেন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে যেমন বিএনপির দীর্ঘ বিরোধী রাজনীতির ইতিহাস জড়িয়ে আছে, তেমনি জড়িয়ে আছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ঘটনাপ্রবাহও।

আবার সরকারে, এবার রাষ্ট্রের শীর্ষ পদে
২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় ফিরে এলে মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান।

কিন্তু মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনে আসে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন।

বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ১৩ আগস্ট দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তাঁর মনোনয়ন চূড়ান্ত হয়। রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হওয়ার পর তিনি বিএনপির মহাসচিবের পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

এর এক সপ্তাহের মধ্যেই জাতীয় সংসদের ভোটে তিনি দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন।

রাজনৈতিক জীবনের এক অনন্য পরিণতি
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য সম্ভবত তাঁর দীর্ঘ ও বৈচিত্র্যময় পথচলা।

ছাত্রনেতা → শিক্ষক → সরকারি কর্মকর্তা → পৌর চেয়ারম্যান → দলীয় নেতা → সংসদ সদস্য → প্রতিমন্ত্রী → বিএনপির মহাসচিব → মন্ত্রী → রাষ্ট্রপতি।

একজন রাজনীতিকের জীবনে এতগুলো ভিন্ন ভূমিকার সমন্বয় বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে খুব বেশি দেখা যায় না।

তাঁর রাজনৈতিক জীবনকে শুধু বিএনপির সাংগঠনিক নেতৃত্বের ইতিহাস দিয়ে বিচার করলে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। কারণ তাঁর রাজনৈতিক পথচলার শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার আগের পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। এরপর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রশাসন ও শিক্ষা অঙ্গনে কাজ করেছেন। স্থানীয় সরকার থেকে জাতীয় সংসদ—প্রতিটি স্তর অতিক্রম করে তিনি শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে পৌঁছেছেন।

রাষ্ট্রপতি হিসেবে সামনে কী চ্যালেঞ্জ?
রাষ্ট্রপতি পদ বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী মূলত রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আনুষ্ঠানিক প্রধানের পদ। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়া নিছক একটি আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন নয়—এর রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে।

বিশেষ করে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বে অবস্থান এবং দীর্ঘদিনের বিরোধী রাজনীতির অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আগ্রহ তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভবিষ্যতে সংবিধান সংস্কার, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ভারসাম্য, নির্বাচনকালীন ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হলে নতুন রাষ্ট্রপতির অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে—দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের রাষ্ট্রপতি হয়ে ওঠা।

কারণ বঙ্গভবনে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পরিচয়ের পরিধি বদলে গেছে। তিনি আর শুধু বিএনপির নেতা নন; এখন তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

জাতীয় ঐক্যের প্রত্যাশা
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাস বিভাজন, সংঘাত ও পারস্পরিক অবিশ্বাসে পরিপূর্ণ। এমন বাস্তবতায় নতুন রাষ্ট্রপতির কাছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা থাকবে অনেক বেশি।

একজন দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে মির্জা ফখরুল রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সংঘাতের বহু অধ্যায় প্রত্যক্ষ করেছেন। ফলে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাঁর সামনে অন্যতম বড় সুযোগ হলো রাজনৈতিক সমঝোতা, সাংবিধানিক শৃঙ্খলা এবং জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হয়ে ওঠা।

রাষ্ট্রপতির সাংবিধানিক ক্ষমতা সীমিত হলেও রাষ্ট্রের নৈতিক নেতৃত্ব ও জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে পদটির গুরুত্ব যথেষ্ট। বিশেষ করে বর্তমান রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতির নিরপেক্ষতা, সংবিধানের প্রতি আনুগত্য এবং সব রাজনৈতিক দলের প্রতি সমদূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ইতিহাসের নতুন অধ্যায়ে মির্জা ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়েছিল রাজপথে; রাষ্ট্রীয় জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়টির সূচনা হচ্ছে বঙ্গভবনে।

৭৮ বছর বয়সে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করতে যাওয়া এই প্রবীণ রাজনীতিক ইতোমধ্যে পেরিয়ে এসেছেন বাংলাদেশের রাজনীতির বহু উত্থান-পতন। তিনি দেখেছেন পাকিস্তান আমলের ছাত্র আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক পুনর্গঠন, সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলন, সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রত্যাবর্তন, ক্ষমতার পালাবদল এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক সংঘাত।

এখন তাঁর সামনে নতুন দায়িত্ব—রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে নিয়ে গিয়ে জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

রাজনীতির দীর্ঘ পথ পেরিয়ে রাষ্ট্রপতির আসনে বসা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্য তাই এটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসেও এটি একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়।

রাজপথের সেই দীর্ঘদিনের রাজনীতিক এখন বঙ্গভবনে। সময়ই বলে দেবে—দলীয় রাজনীতির অভিজ্ঞতাকে তিনি কতটা সফলভাবে রাষ্ট্রীয় অভিভাবকের ভূমিকায় রূপান্তর করতে পারেন।

সূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), Reuters, Al Jazeera, DW, Prothom Alo ও অন্যান্য প্রকাশিত প্রতিবেদন।

সম্পর্কিত খবর

অপরাধ দমন ও মাদক উদ্ধারে বিশেষ অবদানে শ্রেষ্ঠ ওসি পুরস্কৃত হলেন ফরিদা ইয়াসমিন

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন মীরসরাই থানার ফরিদা ইয়াসমিন। এর আগেও তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছিলেন। মঙ্গলবার (...

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী কে দুটি আমন্ত্রণ দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের জন্য দু’টি পৃথক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে জানিয়েছে প্রতিবেশী ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর একটি ছিল দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্য,...

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সাথে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাৎ

ছবি : সংগৃহীত   ভারতে পলাতক ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসর ও আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা যাতে দেশে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করতে...

শহীদ ২ সেনাসদস্যের পরিবারের হাতে সহায়তার চেক হস্তান্তর করলেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান

ছবি : সংগৃহীত   প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ট্যাংক ফায়ারিংয়ের সময় গোলা বিস্ফোরণের দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনাসদস্যের পরিবারের সদস্যরা।...

দেশের একমাত্র সম্পদ জনগণ, সবাইকে নিয়ে নিরাপদ সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই : ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম : চট্টগ্রামের হোটেল-রেস্তোরাঁয় নিরাপদ খাবার ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাবুর্চিসহ খাবার প্রস্তুত ও পরিবেশনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে প্রশিক্ষণ...

শুধু ভালো ফল ও ডিগ্রি অর্জনই শিক্ষার উদ্দেশ্য হতে পারে না : ডিসি জাহিদ

চট্টগ্রাম : সমাজে মানবিকতা ও মূল্যবোধের অবক্ষয় ঠেকাতে ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা থেকে বেরিয়ে বিবেকের চর্চায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।...
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত