নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৩৭৭ হয়েছে। বৃহস্পতিবার আরও বেশ কিছু দেহ উদ্ধার হওয়ার পর মৃতের সংখ্যা বেড়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে এখনও ৫,১৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে হিসাব দিয়েছে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বা এনডিআরআরএমএ।
বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন জেলায় এখনও উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান চলছে। নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ কমান্ডের নেতৃত্বে নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালানো হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৩,৬৫৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
এনডিআরআরএমএ-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি দেহ উদ্ধার হয়েছে চিতওয়ান জেলা থেকে। সেখানে এখনও পর্যন্ত ৩৬৪টি দেহ উদ্ধার হয়েছে। নওয়ালপরাসি ইস্ট থেকে উদ্ধার হয়েছে ২২৮টি দেহ। নওয়ালপরাসি ওয়েস্টে উদ্ধার হয়েছে ২২২টি দেহ। নুওয়াকোট থেকে উদ্ধার হয়েছে ১৯৮টি দেহ। এছাড়াও রাসুওয়া থেকে ১৭৮টি, গোরখা থেকে ৭৭টি, ধাদিং থেকে ৭০টি এবং তানাহুন থেকে ৩৮টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যায় আহতদের মধ্যে আরও দু’জন কাঠমান্ডুতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গিয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
বন্যার পর থেকে বহু মানুষের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা বর্তমানে ৫,১৩০। নিরাপত্তা বাহিনীর যৌথ কমান্ড নিখোঁজদের সন্ধানে তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্গম এলাকা, নদী সংলগ্ন অঞ্চল এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত বসতিগুলিতে বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ১৩,৬৫৬ জনকে বন্যাকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনও নিখোঁজ থাকায় উদ্ধারকারী দলগুলির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
গত ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে একটি বরফ ও পাথরের ধসের পর এই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়। হিমালয় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত ভোতে কোশি নদী সেই বন্যার জল বহন করে নিচের দিকে নিয়ে আসে। প্রবল স্রোতের জেরে নদীর আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার জলের স্রোতে ঘরবাড়ি, যানবাহন, রাস্তা এবং সেতু ভেসে যায়। একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উত্তর এবং মধ্য নেপালের বহু শহর ও গ্রামে এই আকস্মিক বন্যার ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ নিজেদের বাড়িঘর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে শুরু হওয়া এই বিপর্যয়ের প্রভাব শুধু নেপালেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। চিনের দিকেও প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। চিনের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই দুর্যোগে চিনের অংশে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি তিব্বতে এখনও ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ফলে হিমালয় সীমান্তবর্তী অঞ্চলে শুরু হওয়া এই বিপর্যয় নেপাল ও চিন, দুই দেশেরই বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রভাব ফেলেছে।
নেপালে উদ্ধারকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর দল এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন করে দেহ উদ্ধারের সঙ্গে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বন্যার স্রোতে রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় পৌঁছনোও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে নদী ও দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশি চালানো উদ্ধারকারী দলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে মূল লক্ষ্য নিখোঁজ মানুষদের খুঁজে বের করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে আরও মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া। এখনও পর্যন্ত ১৩,৬৫৬ জনকে উদ্ধার করা গেলেও ৫,১৩০ জনের নিখোঁজ থাকার তথ্য পরিস্থিতির ভয়াবহতা স্পষ্ট করছে।
সংবাদ সূত্র – কলকাতা নিউজ২৪.কম
