‘কামরুল হাসান বাদলের সাহিত্যচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য তাঁর জোরালো বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান ও সময়ের প্রতি দায়বদ্ধতা। রাষ্ট্র ও সমাজের নেতিবাচক কর্মকাণ্ড, অনিয়ম, অসংগতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তিনি বরাবরই সোচ্চার থেকেছেন। প্রগতিশীল সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থেকে দেশ, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভূমিকা পালন করে আসছেন। তাঁর এই অবস্থান কেবল লেখালেখির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং সাংস্কৃতিক ও সামাজিক পরিসরেও তা প্রতিফলিত হয়েছে। আপস না করে নিজের বিবেক, বিশ্বাস ও মূল্যবোধের জায়গায় দৃঢ় থাকার ক্ষেত্রে তাঁর অবস্থান স্বতন্ত্র ও অনন্য।’ গত ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যা ৬টায় চট্টগ্রাম একাডেমির ফয়েজ-নূর নাহার মিলনায়তনে কবি, কথাকার, শিশুসাহিত্যিক, কলামনিস্ট ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদলের সাহিত্য ও সৃজনকর্ম নিয়ে ‘কর্ষণে বুননে সৃজনে—একজন কামরুল হাসান বাদল: একটি অসম্পূর্ণ মূল্যায়ন’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে বক্তারা একথা বলেন।

বক্তারা আরও বলেন, ‘একজন লেখক কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অনুভব ও অভিজ্ঞতার কথা বলেন না; তিনি একই সঙ্গে তাঁর সময়, সমাজ ও রাষ্ট্রেরও একজন গুরুত্বপূর্ণ ভাষ্যকার। সময়ের গতি-প্রকৃতি, তার আলো-অন্ধকার, সংকট ও সম্ভাবনাকে নিজস্ব সৃজনশীল দৃষ্টিতে ধারণ করে দীর্ঘদিন ধরে লিখে চলেছেন কামরুল হাসান বাদল। কবিতা, কথাসাহিত্য, শিশুসাহিত্য, কলাম ও সাংবাদিকতার মধ্য দিয়ে তিনি সমকালকে নানাভাবে স্পর্শ করেছেন এবং সমাজের নানা অসঙ্গতি ও সংকটকে তাঁর লেখায় তুলে ধরেছেন।’
কবি মনিরুল মনিরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আলোচনায় অংশ নেন কবি আবুল মোমেন, কথাসাহিত্যিক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, শিশুসাহিত্যিক রাশেদ রউফ, কবি এজাজ ইউসুফী, কবি হোসাইন কবির, অধ্যক্ষ তহুরীন সবুর ডালিয়া এবং কবি মুজিব রাহমান।
শুরুতে স্বাগত সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী আইরিন সাহা। স্বাগত বক্তব্য দেন কবি আলী প্রয়াস। কামরুল হাসান বাদলের জীবন ও কর্ম পরিচিতি এবং মানপত্র পাঠ করেন আখতারী ইসলাম। অনুষ্ঠানে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করেন কামরুল হাসান বাদল। তাঁর কবিতা আবৃত্তি ও লেখা থেকে পাঠ করেন অঞ্চল চৌধুরী, প্রণব চৌধুরী, দুলাল দাশগুপ্ত, রাশেদ হাসান, কঙ্কন দাশ, দিলরুবা খানম ও মো. মুজাহিদুল ইসলাম। নিবেদিত ছড়া পাঠ করেন সৈয়দ খালেদুন আনোয়ার। অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন চন্দন কুমার চৌধুরী।
