ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের টানাপোড়েনের আবহে এবার নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে চাল রফতানি। ভারতের একাংশ রাইস এক্সপোর্টার ও কৃষিপণ্য ব্যবসায়ীরা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে সরাসরি দাবি জানাচ্ছেন বাংলাদেশে চাল রফতানি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা হোক। তাঁদের যুক্তি, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে চাল পাঠানো শুধু অর্থনৈতিক নয়, কৌশলগত দিক থেকেও ভারতের স্বার্থের পরিপন্থী বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে। রফতানিকারকদের দাবি, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর ধারাবাহিক হামলা, অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান বিরূপ মনোভাব উদ্বেগজনক। এই পরিস্থিতিতে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি করে বাংলাদেশ সরকার যদি নিজেদের ‘স্ট্র্যাটেজিক ফুড স্টক’ গড়ে তোলে, তাহলে তা ভবিষ্যতে ভারতের উপরই চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
রফতানিকারক সংগঠনগুলির বক্তব্য, বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ভারতীয় শিল্পের স্বার্থে আঘাত হেনেছে। বিশেষ করে কাঁচা পাট (raw jute) রফতানিতে ঢাকার নিষেধাজ্ঞা ভারতীয় জুট মিলগুলিকে মারাত্মক সমস্যায় ফেলেছে। পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের বহু জুট মিল কাঁচামালের অভাবে উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছে। অথচ সেই বাংলাদেশই এখন ভারতের কাছ থেকে চাল চাইছে এই দ্বিচারিতা মেনে নেওয়া যায় না বলেই মত ব্যবসায়ী মহলের একাংশের। একাধিক চাল রপ্তানিকারকের দাবি, যদি অবিলম্বে চাল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা না আনা হয়, তাহলে অন্তত বাংলাদেশে রফতানির ক্ষেত্রে দাম অনেকটাই বাড়ানো উচিত। তাঁদের মতে, বর্তমান কম দামে চাল পাঠানো ভারতের কৃষক ও বাজার উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর। বিশেষ করে যখন বাংলাদেশ সরকার নিজেই ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে প্রায় ৯ লক্ষ টন চাল আমদানি করে মজুত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে।
এই আমদানির পরিকল্পনাকে অনেকেই কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখছেন। বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণেই বাংলাদেশ আগাম বড় মজুত গড়তে চাইছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে সেই মজুত তৈরিতে ভারত কেন প্রধান সরবরাহকারী হবে, যখন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে স্পষ্ট শীতলতা দেখা যাচ্ছে!! এদিকে ভারত সরকারের জন্য বিষয়টি যথেষ্ট স্পর্শকাতর। একদিকে দেশের অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকদের স্বার্থ, অন্যদিকে প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকারকে। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশে চাল রফতানি বন্ধ করার বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।
সূত্র – কলকাতা 24×7 নিউজ অনলাইন
