আজ ২৫ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার – বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি অবিস্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে। কারণ এই দিনেই সুদীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে দেশ মাতৃকার টানে ছুটে এসেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যোগ্য উত্তরসূরী, গণতন্ত্রের মানসপুত্র ও তারুণ্যের অহংকার এবং বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান।
জনাব তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসা নানাবিধ কারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রয়োজনীয়।
বাংলাদেশ আজকে বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী সরকারের বিভিন্ন হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে এক ঘোরতর অন্ধকার যুগ পার করছে। এমন অন্ধকার সময় বাংলাদেশে কখনো আসতে পারে এমনটা বোধহয় কেউ কল্পনাও করতে পারে নি। আজকে চতুর্দিকে চলছে মব সন্ত্রাস। যেখানে যাকে ইচ্ছে হয় তাকে মেরে ঝুলিয়ে দিলেও কোনো বিচার হচ্ছে না। বিগত স্বৈরাচার আওয়ামী সরকার ধর্ম ভিত্তিক মব সন্ত্রাসকে আশকারা দিতে দিতে এমন অবস্থানে নিয়ে গেছে, মবকে এখন আর নিয়ন্ত্রণই করা যাচ্ছে না। অবশ্য বিকল্প ভাষ্য মতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ইচ্ছে করেই মবকে নিয়ন্ত্রণ করছে না। মবের পাশাপাশি চলছে যথেচ্ছা চাঁদাবাজি। সরকারের রোষানলে পড়ে একের পর এক অনেকগুলো কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যেগুলো পুনরায় চালু করার জন্য সরকার নূন্যতম প্রচেষ্টাও চালায়নি। যথোপযুক্ত কারণ ছাড়াই অনেককে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। মেয়েদের উপর পোশাক ও শালীনতার অজুহাত তুলে বিভিন্ন জায়গায় হেনস্তা ও অপদস্ত করা হচ্ছে। একের পর এক ব্যাংক রুগ্ন হয়ে যাচ্ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলছে চরম অরাজকতা এবং শিক্ষকদের অপমানিত করে প্রতিষ্ঠান থেকে বের করে দেওয়ার জঘন্য অপচেষ্টা বিরাজমান। মধ্যবিত্তের আজ নাভিশ্বাস উঠছে। রেমিট্যান্সের প্রবাহও দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগ শূন্যের ঘরে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপে রয়েছে এবং দেশের আভ্যন্তরীণ ব্যবসা বাণিজ্য একটি ক্রান্তিলগ্নে উপস্থিত হয়েছে।
এমতাবস্থায় বাংলাদেশের প্রয়োজন একজন দৃঢ় মানসিকতার নেতা যিনি কিনা সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে দেশের জনসাধারণকে এক সুতায় গেঁথে সকল সমস্যার সমাধান করবেন। আজকে দেশে কোনো রাজনৈতিক সরকার না থাকার সুযোগ নিয়ে একটি প্রতিক্রিয়াশীল, ধর্মান্ধ ও মৌলবাদী গোষ্টী দেশকে অকার্যকর রাষ্ট্র বানানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। তারা কখনো দাবি করে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের পাকিস্তান সেনাবাহিনী নয় ভারতীয় সেনাবাহিনী হত্যা করেছে। কখনো তারা দাবি করে ১৯৭১ সালে ৩০ লাখ মানুষ শহীদ হয়নি। আবার কখনো তারা বলে ১৬ই ডিসেম্বর কে তারা বিজয় দিবস মানেনা। এরা কখনো মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত ৭২ এর সংবিধান কে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করার দাবি করে, আবার কখনো জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সংগীত এমনকি দেশের নামও পরিবর্তন করার খায়েশ ব্যক্ত করে। একমাত্র বিএনপি প্রতিবাদ করেছে বলেই এইসকল অপচেষ্টা বাস্তবায়িত হতে পারেনি।
এইসকল অপপ্রচারের পাল্লায় পড়ে দেশের তরুণ সমাজ আজ বিভ্রান্ত। বারবার আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধকে আক্রমণ করা হলেও কেউ অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধে নূন্যতম প্রতিরোধও গড়ে তুলছেনা। আত্মস্বীকৃত তথাকথিত মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পাহারাদার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্ব এমন পলায়ন করেছেন তাঁদেরকে দেশের মাটিতে পাওয়া তো যাচ্ছেইনা, উপরন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাঁদের কোনো অস্তিত্ব নেই। অবশ্য তাঁরা তাঁদের শাসনামলে এমন খাওয়া খেয়েছেন বোধকরি তাঁদের নিদ্রা ভংগ হতে কয়েক দশকও লাগতে পারে।
এমতাবস্থায় সকল অপপ্রচারকে স্তব্ধ করে দিয়ে তারুণ্যের নেতৃত্বে পুরো দেশের জনসাধারণকে একটি একক ছাতার নিচে আনার জন্য একজন অত্যন্ত শক্তিশালী ও আপোষহীন মনোভাবের তরুণ নেতৃত্বের প্রয়োজন। আর এমন নেতৃত্ব পুরো বাংলাদেশে একজনই রয়েছেন এবং জনাব তারেক রহমানই হচ্ছেন সেই বহুল আকাঙ্খিত নেতৃত্বের গুণাবলী সম্বলিত ব্যক্তি। আপনার পছন্দ হোক আর নাই হোক, আপনার ভালো লাগুক আর নাই লাগুক বাস্তবতা হচ্ছে এই মূহুর্তে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জনাব তারেক রহমানের কোনো বিকল্প নেই। কক্ষচ্যুত হয়ে পড়া আমাদের প্রিয় মাতৃভূমিকে পুনরায় সম্মানজনক স্থানে প্রতিষ্ঠিত করতে হলে এখন আমাদের উচিত দল মত নির্বিশেষে জনাব তারেক রহমানকে সমর্থন করা এবং তাঁর হাতেই আগামীর বাংলাদেশ পরিচালনার ভার ন্যাস্ত করা। কেননা প্রকৃতি কখনোই শূন্যস্থান পছন্দ করেনা। বর্তমানে প্রায় ১৭ মাস ধরে বাংলাদেশ বিশাল একটি রাজনৈতিক শূন্যতার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ দিন এই অবস্থা চললে দেশে চরমপন্থী রাজনীতির পুনরায় বিকাশ ঘটতে পারে। যা কিনা বাংলাদেশের কোনো নাগরিকেরই কাম্য হতে পারেনা। এই বিশাল রাজনৈতিক শূন্যতা পূরণ করে দেশকে পুনরায় বহুল আকাঙ্খিত গণতন্ত্রের ট্রেনে তুলতে হলে আমাদের প্রয়োজন এমন একজন নেতৃত্ব যিনি কিনা দেশের সর্বোচ্চ সংখ্যক জনগণের কাছে নিজেকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন। আর সেই গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব কে দিতে পারে সেটা আশা করি আজকের জনাব তারেক রহমানের গণসংবর্ধনার পর সবার কাছে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।
এই ক্ষেত্রে প্রশ্ন উঠতে পারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের বিপুলসংখ্যক সমর্থক গোষ্টী কি করবে? তাঁদের উদ্দেশ্যে বলি – প্রথমত, দেশকে সুষ্ঠু পরিচালনার স্বার্থে অন্তত আগামী ৫ বছর আমাদের উচিত নিজেদের মধ্যেকার রাজনৈতিক বিরোধ ভুলে যাওয়া। দ্বিতীয়ত, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যেভাবে সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে কতিপয় ব্যক্তির মন্দ কাজের জন্য পুরো আওয়ামী লীগকেই নিষিদ্ধ করে রেখেছে তা নেহায়েতই প্রতিহিংসার রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই না। কিন্তু এই অবস্থা হতে পরিত্রাণ পেতে গেলে আগেতো বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়িত্ব ছাড়তে হবে। আর সেটা নির্বাচন ছাড়া অসম্ভব। একটি নির্বাচিত সরকার আসলে আদালতে আপীল করার মাধ্যমে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পুনরায় তাদের রাজনীতি করার অধিকার ফিরে পেতে পারে। এবং যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল মনে প্রাণে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে ধারণ করে এবং জনাব তারেক রহমান হচ্ছেন বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরাধিকার সূতরাং আশা করা যায় বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দেশে সকল রাজনৈতিক মতবাদের সহাবস্থান নিশ্চিত হবে। আর যদি কোনোভাবে ৭১ এর পরাজিত শক্তি নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করতে পারে তবে এই দেশে শুধু আওয়ামী লীগ না, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সকল রাজনৈতিক দলকেই নিষিদ্ধ করা হবে। অতএব আওয়ামী পরিবারের নেতা কর্মীদেরও উচিত জনাব তারেক রহমানের পাশে দাঁড়ানো এবং আগামী নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তিকে ভোট দিয়ে ১৯৭১ এর পরাজিত রাজাকারদের পুনরায় শোচনীয় পরাজয় উপহার দেওয়া।
অতএব, জনাব তারেক রহমানের দেশে ফিরে আসাটা এখন শুধু জনগণের আকাঙ্খা না, এটা সময়েরও দাবি বটে। কারণ তিনি ছাড়া এই মূহুর্তে বহুধা বিক্ষিপ্ত ও বিশৃঙ্খল এই জাতিকে পুনরায় একটি কাঠামোতে ফিরিয়ে আনা কারও পক্ষে সম্ভব হবে না। তিনিই হচ্ছেন আমাদের হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা, যার পিছনে আমরা পুরো জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমাদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য – একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধশালী, আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদা সম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো। জনাব তারেক রহমান আজকের গণসংবর্ধনার অনুষ্ঠানের ইতি টেনেছেন “আই হ্যাভ এ প্ল্যান” বলে। এটার সাথে আমাদের যুক্ত করতে হবে “এন্ড উই হ্যাভ দ্যা ক্যাপাবিলিটি টু এক্সিকিউট দ্যাট”।
পরিশেষে একটা কথা বলে আজকের লেখাটা শেষ করবো – ” টুডে উই গট আওয়ার ড্রীমার, এন্ড ফ্রম টুডে বাংলাদেশ উইল নেভার বি দ্যা সেইম এগেইন “।
শিশির পারিয়াল
ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনা সম্পাদক
চট্টগ্রাম মেইল
