আকাশছোঁয়া মুদ্রাস্ফীতি আর মুদ্রার (রিয়াল) রেকর্ড পতনে ক্ষোভের আগুনে জ্বলছে ইরান। গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা প্রবল বিক্ষোভে সে দেশে মৃতের সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে চরম যুদ্ধের দিকে মোড় নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আমেরিকা ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ‘HRNA’ এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সের রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১৪ দিনের বিক্ষোভে এখনও পর্যন্ত অন্তত ৫৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯০ জন সাধারণ আন্দোলনকারী এবং ৪৮ জন নিরাপত্তা কর্মী রয়েছেন। বিক্ষোভে উত্তাল ইরানের রাজপথ থেকে ১০,৬০০-এর বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রবিবার রাতে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানান, ইরান পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকা হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। ট্রাম্প বলেন, “মনে হচ্ছে সীমা লঙ্ঘন করা হয়েছে। যাদের প্রাণ যাওয়ার কথা নয়, তাদের হত্যা করা হচ্ছে। আমরা এবং আমাদের সেনাবাহিনী বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। আমাদের সামনে বেশ কিছু কঠোর সামরিক বিকল্প খোলা রয়েছে।” প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ওয়াশিংটনের হুমকির পর তেহরান আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে বৈঠকের আগেই আমেরিকা কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রেখেছেন তিনি।
অন্য দিকে দেশের অর্থনৈতিক দুরবস্থার জেরে শুরু হওয়া এই গণবিক্ষোভের জন্য বরাবরের মতো আমেরিকা ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছে ইরান সরকার। তেহরানের দাবি, গত বছর ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধের রেশ ধরে বর্তমানে ‘মার্কিন মদতপুষ্ট সন্ত্রাসীরা’ দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। বিক্ষোভ দমাতে পাল্টা সমাবেশের ডাক দিয়েছে ইব্রাহিম রাইসি প্রশাসন।
ইরানের প্রাক্তন শাসনকর্তা শাহের পুত্র এবং নির্বাসিত রাজপুত্র রেজা পাহলভি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি জনগণের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, “রাষ্ট্রীয় কর্মচারী এবং সশস্ত্র বাহিনীর সামনে এখন দুটো পথ, মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জাতির বন্ধু হওয়া, অথবা খুনিদের সহযোগী হওয়া।”
