একটি পুরনো প্রবাদ আছে,বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর… বাংলাদেশের ৭০০ কিলোমিটার দূরে সেন্টমার্টিন দ্বীপে সরস্বতী পূজা। যা বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য রেকর্ড, বাংলাদেশের কিছু হিন্দু যুবক অসাধ্য সাধন করলেন ।নির্জন দ্বীপ নামে এক সময় খ্যাত সেন্টমার্টিন দ্বীপে সরস্বতী পুজোর আয়োজন করে। অথচ এখানে কোন হিন্দু পরিবার নেই তবে এক সময় দুটি শীল ও দুটি হিন্দু জেলে পরিবার ছিল যা এখন সম্ভবত অবস্থান নেই। অসীম সমুদ্রের বেলাভূমি বিস্তীর্ণ প্রবাল পাথর কিছু সবুজ প্রকৃতি আর নীল জলরাশি সেখানেই তাদের এই আয়োজন।তরুণ এক্টিভিটিস মৃণাল রায় যেভাবে প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিন দ্বীপে সরস্বতী পূজোর তার ফেসবুক পোস্টে বর্ণনা করেছেন সেটা তুলে ধরা হল…

সেন্টমার্টিন দ্বীপে সরস্বতী পূজা।
ক্যাম্পাসে সরস্বতী পূজা করতে পারলাম না—এই আফসোসটা মন থেকে যাচ্ছিল না। প্রতিবছর যে আঙিনায়, যে মানুষগুলোর সাথে বসন্তকে স্বাগত জানাই,এবার ঠিক সেই সময়েই পরিসংখ্যান বিভাগ, রাবি ৮ দিনের ট্যুরের দায়িত্ব কাঁধে তুলে টিম নিয়ে বেরিয়ে পড়তে হলো। দায়িত্ব ছিল, তাই মনকে বুঝিয়ে নিয়েছিলাম।
সেন্টমার্টিনে হিন্দু নেই আগে থেকে জানতাম—এখানে কোনো হিন্দু পরিবার নেই। তবুও বিশ্বাস, অনুভূতি আর ভালোবাসার জায়গা তো মানুষের ভেতরেই থাকে। তাই আগে থেকে ছোট্ট একটা প্রতিমা নিয়ে ট্যুরে রওনা হলাম সবাই।

সকল ব্যস্ততা শেষে ২২ তারিখ রাত ১১ টায় গিয়ে ফলমূল,প্রসাদ করার ভোগ নিলাম। সকালে কলাপাতা আর অনেক খুজে ৮ টা ফুল পেলাম। ভাগ্যক্রমে কিছু বেলপাতাও ম্যানেজ হলো। জগন্নাথ দেব সরকার সুন্দর করে প্রসাদ রান্না করলো। সকালে স্নান করে পান্জাবি পড়ে রওনা দিলাম পশ্চিম বীচে। তারপর বালি আর কোরাল দিয়ে একটা অস্হায়ী মণ্ডপ বানালাম। সমুদ্রের নীল জল আর নোনতা বাতাসের মাঝে নিঃশব্দে, গভীর অনুভূতিতে সরস্বতী পূজা শুরু করলাম। এটাই আমার জীবনের প্রথম সরস্বতী পূজা—কোনো মণ্ডপ নয়, কোনো ভিড় নয়, শুধু প্রকৃতি, বিশ্বাস আর অন্তরের টান। হয়তো এই দ্বীপের ইতিহাসেও আজ ছোট্ট একটা নতুন স্মৃতি যোগ হলো। এই পূজা আলাদা—কারণ এটা শেখাল, বিশ্বাসের কোনো নির্দিষ্ট জায়গা লাগে না,শুদ্ধ মন থাকলেই যথেষ্ট।
## কমল দাশ
