কোয়েট্টার বাজারে বালোচ মুক্তি সেনা বিএলএ-র যোদ্ধাদের দখল নেওয়ার দৃশ্য ভাইরাল হয়ে গেছে। শনিবার সকাল থেকে পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশের রাজধানী কোয়েট্টায় তুমুল সংঘর্ষ চলছে। বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (বিএলএ) ‘অপারেশন হিরোফ ২.০’-এর দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করেছে বলে দাবি করছে। এই অপারেশনে কোয়েট্টা-সহ একাধিক শহরে সমন্বিত হামলা চালানো হয়েছে পুলিশ স্টেশন, জেল, পুলিশ ভ্যান, সেনা ক্যাম্প এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, বিএলএ যোদ্ধারা কোয়েট্টার একটি ব্যস্ত বাজার দখল নিয়েছে, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছে এবং পাকিস্তানি সেনা ও পুলিশকে অসহায় অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। সকাল ৬টা নাগাদ কোয়েট্টায় প্রথম বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তারপর থেকে গোটা শহরে গুলির শব্দ, একের পর এক বোমা বিস্ফোরণ এবং তীব্র সংঘর্ষ।
বিএলএ এর দাবি, তারা পুলিশ স্টেশন, লেভিস (প্যারামিলিটারি) পোস্ট এবং অন্যান্য সরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। কোয়েট্টার পূর্ব বাইপাস এলাকায় বিএলএ যোদ্ধারা নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে খবর। শহরের হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। অন্তত ৪ জন পুলিশকর্মী নিহত হয়েছে কোয়েট্টায়, আরও কয়েকজন আহত।
বিএলএ এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অত্যাচারের জবাব এবং বালোচ জাতির স্বাধীনতার লড়াইয়ের অংশ।পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং পুলিশ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। কোয়েট্টার সারিয়াব রোডে কাউন্টার-টেরর অপারেশনে ৪ জন সন্দেহভাজন জঙ্গিকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু বিএলএ এর যোদ্ধারা দ্রুত গতিতে শহরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় যে ভিডিওগুলো ছড়াচ্ছে, তাতে দেখা যাচ্ছে বিএলএ যোদ্ধারা বাজারের মধ্যে দাঁড়িয়ে, অস্ত্র হাতে, স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলছে কেউ কেউ চিৎকার করে বলছে “বালোচিস্তান নট পাকিস্তান”। পাক আর্মির সেনারা দূর থেকে দেখছে, কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বড় অ্যাকশন নিতে পারছে না। এই দৃশ্য দেখে অনেকে বলছেন, আর্মি চিফ আসিম মুনিরের অধীনে পাকিস্তানি বাহিনী বালোচিস্তানে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে।
এই ঘটনা বিএলএ এর বাড়তে থাকা শক্তির প্রমাণ। গত বছর তারা জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন হাইজ্যাক করেছিল, শতাধিক যাত্রীকে জিম্মি করেছিল। এ বছরের শুরু থেকেই তারা ‘অপারেশন হিরোফ’-এর মাধ্যমে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে। বিএলএ এর দাবি, পাকিস্তান সরকার বালোচিস্তানের প্রাকৃতিক সম্পদ লুট করছে, চীনা প্রকল্পে স্থানীয়দের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে এবং বালোচ যুবকদের গুম-খুন করছে।তারা স্বাধীন বালোচিস্তানের দাবিতে লড়াই করছে।পাকিস্তান সরকার এসব হামলাকে “ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাস” বলে দাবি করে। কিন্তু বাস্তবে বালোচিস্তানে অস্থিরতা বাড়ছে। কোয়েট্টার মতো রাজধানীতে বিএলএ এর এমন দখলদারি দেখে অনেকে বলছেন, পাক আর্মির নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়েছে। আসিম মুনিরের নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ালেও, অভ্যন্তরীণ ফ্রন্টে চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে।
সূত্র – কলকাতা নিউজ 24.com
