বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায় সাথে নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত বিডিআরের নাম পুনর্বহাল করা হবে। সেনাবাহিনীর সাথে আলোচনা করে বিডিআর হত্যাকাণ্ডের দিবসটি শহীদ সেনা দিবস অথবা সেনা হত্যাযজ্ঞ দিবস অথবা জাতীয় শোক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হবে।গতকাল শনিবার রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা ও পিলখানায় শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি গুরুত্বপূর্ণ কথাগুলো বলেন।
জনাব তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সেনাবাহিনীকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হবে না। সেনাবাহিনীকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের নির্ভরযোগ্য প্রহরী হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের ভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হলে মূল উদ্দেশ্য ব্যহত হয় বলে আমি মনে করি। বিগত দেড় দশকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা ও গৌরব সম্পর্কে সেনাকর্মকর্তা ও সদস্যরা নিজেরা নিজেদের বিবেককে জিজ্ঞেসে করলে হয়তো অনেক প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আমি একটি বৃহত্তর পরিবার বলে মনে করি। এর কারণ হয়ত সেনানিবাসে আমার পরিবার ও আমার বেড়ে ওঠা। আমার অনেক ছোটবেলায় বাবাকে হারিয়েছি। বড় হয়ে দেখেছি সেনাবাহিনীর প্রতি আমার মা মরহুম খালেদা জিয়ারও এক ধরনের নির্ভরতা ছিল তার, সম্মান ছিল। আমার মরহুম মা সবসময় মনে করতেন দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী সেনাবাহিনী থাকা প্রয়োজন।
বিএনপির চেয়ারপার্সন বলেন, সন্তান হিসেবে আমি যেমন আমার পিতাকে নিয়ে গর্ব করি আমি বিশ্বাস করি একজন সেনাকর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সেনাবাহিনীকেও তিনি করেছিলেন গর্বিত। বাংলাদেশের স্বাধীনতা প্রিয় গণতন্ত্রকামী জনগণের কাছে স্বাধীনতার কাছে শহীদ জিয়া একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। জনগণ যেমন গর্বিত…আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি…আমার পরিবার যেমন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে ঠিক একইভাবে বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীও গর্বিত।
সকল জরিপে প্রধানমন্ত্রী পদে এগিয়ে থাকা জনাব তারেক রহমান বলেন, দেশ ফ্যাসিবাদ আর তাঁবেদারের অপশক্তির কবলে পড়ার পর শুধু গণতন্ত্র এবং মানুষের স্বাধীনতাই ভূলুণ্ঠিত হয়নি। বরং একইসাথে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছিল। এমনকি ২০০৯ সালে ফেব্রুয়ারি মাসে বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞের পরও এমন নিমর্ম হত্যাযজ্ঞের দিনটি খোদ সেনাবাহিনীও পালন করেনি কিংবা পালন করতে দেওয়া হয়নি তাদেরকে। সেনাবাহিনীর হারানো গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া হবে আমি এমন কথা বলতে চাই না। বরং গৌরব ফিরিয়ে দেওয়া যায় না, অর্জন করার বিষয়, ধারণ করার বিষয়। সেনাবাহিনীর গৌরব সেনাবাহিনীকেই রক্ষা করতে হবে।
পরিশেষে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে, দলের সদস্য হিসেবে আমি এতটুকু বলতে পারি জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হলে সেনাবাহিনীকে অবশ্যই কোনোভাবে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত হয় এমন কিছু বিএনপি অতিতেও করেনি বর্তমানেও না এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও করবে না। কারণ বিএনপি সবসময় বাংলাদেশের পক্ষের দল। বিএনপি সবসময় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের পক্ষের শক্তি। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি রাজনীতির মাঠে শক্তিশালী থাকলে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব শক্তিশালী থাকে। সেনাবাহিনীর মর্যাদা ও গৌরব ইনশাআল্লাহ অক্ষুণ্ন থাকে। সেনাবাহিনী অবশ্যই রাজনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকবে তবে রাজনীতিতে বিলীন হয়ে যাওয়া অবশ্যই উচিত হবে না।
